চাঁদপুরে অবস্থিত মুক্তিযুুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য 'অঙ্গীকার'
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : অঙ্গিকার

চাঁদপুর ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের জন্য বিখ্যাত। আসুন আজ জেনে নিই চাঁদপুরের দর্শনীয় স্থান অঙ্গীকার নিয়ে। স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিসৌধ হিসেবে চাঁদপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত লেকের ওপর স্থাপিত হয়েছে এই ভাস্কর্যটি। চাঁদপুরের ২য় জেলা প্রশাসক জনাব এসএম শামসুল আলমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে 'অঙ্গীকার' ভাস্কর্যটি নির্মিত হয়। এই ভাস্কর্যের নান্দনিক শিল্প মুগ্ধ করে শিল্পবোদ্ধাদেরকে। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কে লেকের ওপর স্বাধীনতা যুদ্ধে চাঁদপুরের শহীদের স্মরণে ১৯৮৯ সালে এ মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য অঙ্গীকার নির্মিত হয়। যার স্থপতি অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ। এর উদ্বোধক ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
এটি চাঁদপুর কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ হিসেবে বিবেচিত। প্রতি বছর মহান স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের সূচনায় অর্থাৎ রাত ১২টা ১ মিনিটে এই 'অঙ্গীকার' বেদীতে মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎস্বর্গকৃত বীর শহীদদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর দৃঢ় মুষ্টি স্বাধীনতার স্বপক্ষ জনতার দৃঢ়তার প্রতীক, আর অস্ত্রটি স্বাধীনতা অর্জন এবং তা রক্ষার শক্তির প্রতীক। জনগণের দৃঢ়তার সাথে অস্ত্রের সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়েছে একটি দৃঢ় অঙ্গীকার।
চাঁদপুর যাওয়ার উপায় :
ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাওয়া যায় বাসে, ট্রেনে ও লঞ্চে। তবে, সবচেয়ে ভালো হবে লঞ্চে করে গেলে। এতে একদিনে ভ্রমণের মজাটা আরও বেড়ে যাবে। ঢাকা-চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী লঞ্চের মধ্যে এমভি সোনারতরী, এমভি তাকওয়া, এমভি বোগদাদীয়া, এমভি মেঘনা রাণী, এমভি আল বোরাক, এমভি ঈগল, এমভি রফরফ, এমভি তুতুল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। প্রতিদিন সদরঘাট থেকে সকাল ৭টা থেকে এক বা আধ ঘণ্টা পরপর চাঁদপুরগামী লঞ্চ ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাওয়ার ভাড়া সাধারণত, ডেক ১০০ টাকা, চেয়ার ১৫০ টাকা, নন এসি সিংগেল কেবিন : ৫০০ টাকা, নন এসি ডাবল ৮০০ টাকা, সিঙ্গেল এসি ১,০০০ টাকা এবং এসি ডাবল ১,৫০০ – ২,০০০ টাকা। লঞ্চে ঢাকা থেকে চাঁদপুর যেতে সময় লাগে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। হাসান আলী প্রাইমারি স্কুলের সামনে, লেকের ওপর অবস্থিত। চাঁদপুর জেলার প্রাণকেন্দ্র শপথ চত্বর মোড় থেকে রিক্সা, অটোরিকশা বা নিজস্ব গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায়। শপথ চত্বর থেকে এর দূরত্ব মাত্র আধ-কিলোমিটার এবং বাস স্ট্যান্ড থেকে দেড় কিলোমিটার।যেখানে থাকবেন :
চাঁদপুর শহরে থাকার জন্যে ভাল মানের হোটেলের মধ্যে হোটেল গ্র্যান্ড হিলশা অন্যতম। এছাড়া চাঁদপুরে কোর্ট ষ্টেশনের কাছে মোটামুটি মানের আরও কিছু আবাসিক হোটেল পাবেন। চৌধুরী ঘাট বা নতুন ব্রিজের কাছে নদীর পাড়ে কিছু মধ্যম মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে।যেখানে খাবেন :
খিদে মেটানোর জন্য চাঁদপুরে বিভিন্ন মানের বেশকিছু খাবার হোটেল রয়েছে। আপনার পছন্দমত যেকোনো হোটেলে খাবার খেয়ে নিতে পারবেন। তাজা ইলিশ খেতে চাইলে বড় স্টেশনের ঝুপড়ির হোটেল অথবা লঞ্চ ঘাটের হোটেল গুলোতে খোঁজ নিতে পারেন। সেই সাথে ফরিদগঞ্জের আউয়াল ভাইয়ের মিষ্টি এবং ওয়ান মিনিট আইসক্রিমের চেখে দেখতে পারেন।সাব্বির হোসেন এস এম
আরো পড়ুন ঃ উলচাপাড়া জামে মসজিদ : ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ফেসবুক পেইজঃ ট্রাভেল বাংলাদেশ