চাঁদপুরের ঐতিহাসিক কড়ইতলী জমিদার বাড়ি
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : কড়ইতলী জমিদার বাড়ি

চাঁদপুরের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের জন্য বিখ্যাত। আসুন আজ জেনে নিই চাঁদপুরের দর্শনীয় স্থান কড়ইতলী জমিদার বাড়ি নিয়ে। কড়ইতলী গ্রামে রয়েছে এক কুখ্যাত অত্যাচারী জমিদারের বাড়ি। বাড়িটিতে রয়েছে দুর্গামন্দির, ভগ্ন ত্রিতল প্রাসাদ, মনসা মন্দির, আঁধার মানিক ও সুড়ঙ্গপথ। কড়ইতলী জমিদার বাড়ি চাঁদপুর জেলার অন্তর্গত ফরিদগঞ্জ উপজেলার এক ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি। ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৭৫টি গ্রামের মধ্যে একটি গ্রামের নাম হলো কড়ইতলী গ্রাম। আর এই গ্রামেই রয়েছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী এক জমিদার বাড়ি। কড়ইতলী বাজারের দক্ষিণ কোণের পশ্চিম দিকে অবস্থিত এই জমিদার বাড়ি। যা এখানে সাধারণ মানুষের কাছে বাবুর বাড়ি নামেই বেশ পরিচিত। প্রায় আটশ বছর আগে বরিশাল জেলার অধিবাসী বাংলা ১২২০ সালে হরিশ চন্দ্র বসু নামের একজন এই কড়ইতলী জমিদার বাড়িটির গোড়াপত্তন করেন। তিনি নিলামের মাধ্যমে এই জমিদারি ক্রয় করেন।
কড়ইতলী জমিদার বাড়ি
তিনি প্রায় সত্তর বছর ধরে এই জমিদার বাড়ির জমিদারি করার পর মৃত্যুবরণ করেন। শত বছর বয়সে ১২৯০ বঙ্গাব্দে পরলোকগমন করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘসময় ধরে তার উত্তরসূরিরা এখানকার জমিদারি করেন। তার পুত্র গোবিন্দ বসু জমিদারির মালিক হন। অত্যাচারী এই জমিদারের মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীগণ হীনবল হয়ে পড়ে এবং ভারত স্বাধীন হলে ১৯৫১ সালে তারা জনরোষে পড়ে রাতের অন্ধকারে বিষয় সম্পত্তি ফেলে রেখে ভারতে পলায়ন করে। এই জমিদাররা ছিলেন অনেক অত্যাচারী। এই জমিদার বাড়ির সামনে দিয়ে সাধারণ মানুষ জুতা পায়ে দিয়ে ও ছাতা মাথায় দিয়ে হাটতে পারতোনা। ভারতবর্ষ ভাগের পর ইংরেজি ১৯৫১ সালে শেষ জমিদার গোবিন্দ বসুর হাত ধরেই এই জমিদার বাড়ির পতন ঘটে।চাঁদপুর যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাওয়া যায় বাসে, ট্রেনে ও লঞ্চে। তবে সবচেয়ে ভালো হবে লঞ্চে করে গেলে। এতে একদিনে ভ্রমণের মজাটা আরও বেড়ে যাবে। ঢাকা-চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী লঞ্চের মধ্যে এমভি সোনারতরী, এমভি তাকওয়া, এমভি বোগদাদীয়া, এমভি মেঘনা রাণী, এমভি আল বোরাক, এমভি ঈগল, এমভি রফরফ, এমভি তুতুল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। প্রতিদিন সদরঘাট থেকে সকাল ৭টা থেকে এক বা হাফ ঘণ্টা পরপর চাঁদপুর গামী লঞ্চ ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাওয়ার ভাড়া সাধারণত, ডেক ১০০ টাকা, চেয়ার ১৫০ টাকা, নন এসি সিঙ্গেল কেবিন – ৫০০ টাকা, নন এসি ডাবল ৮০০ টাকা, সিঙ্গেল এসি ১০০০ টাকা এবং এসি ডাবল ১৫০০ – ২০০০ টাকা। লঞ্চে ঢাকা থেকে চাঁদপুর যেতে সময় লাগে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা।
কন্ট্রিবিউটর - সাব্বির হোসেন
আরো পড়ুন ঃ চাঁদপুর ঐতিহাসিক নাগরাজাদের বাড়ি
ফেসবুক পেইজঃ ট্রাভেল বাংলাদেশ