তিন গম্বুজ মসজিদ ও প্রাচীন কবর, চাঁদপুর

চাখতা মুল্লুকে জাঁহার রেজামন্দির জন্য মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে



তিন গম্বুজ মসজিদ ও প্রাচীন কবর

তিন গম্বুজ মসজিদ ও প্রাচীন কবর, চাঁদপুর। ছবি - সংগৃহীত



চাঁদপুরের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের জন্য বিখ্যাত। আসুন আজ জেনে নিই চাঁদপুরের দর্শনীয় স্থান তিন গম্বুজ মসজিদ ও প্রাচীন কবর নিয়ে। তিন গম্বুজ মসজিদ ও প্রাচীন কবর, ভিঙ্গুলিয়া, হাইমচর, চাঁদপুর। ভিঙ্গুলিয়া গ্রামের মল্লিক বাড়িতে রয়েছে একটি তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ ও মসজিদের প্রাঙ্গণে রয়েছে কিছু বাঁধানো প্রাচীন কবর। এই ৩ গম্বুজ গম্বুজ মসজিদটি পাঁচশ’ বছরের প্রাচীন। এখানে রয়েছে বিরাট আকারের অসম্পূর্ণ দিঘি। মসজিদের অদূরে রয়েছে দু’টি প্রাচীন পাকা কবর। মসজিদটি ঈসা খাঁর আমলে জালালপুরের মল্লিক খেতাবপ্রাপ্ত কোনও শাসক নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ির চারপাশে পরিখা খনন করা আছে। লোকে বলে, মল্লিক বাড়ি।

মল্লিক বাড়ি হচ্ছে ঈসা খাঁর আমলে প্রশাসকের পদবী। জনশ্রুতি আছে, মেঘনায় বিলীন হওয়া হিঙ্গুলিয়া গ্রামেও অনুরূপ তিন গম্বুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ ছিলও। ভিঙ্গুলিয়া মসজিদে একটি শিলালিপি আছে। ‘চাখতা মুল্লুকে জাঁহার রেজামন্দির জন্য মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদ নির্মাণকারীকে শত জান্নাত দান করা হবে।’ -প্রথমে পরম দয়ালুময় আল্লাহর নামে শপথ করিতেছি।

২। আল্লাহ্‌ এক, মোহাম্মদ (সা:) তাঁর রসূল

৩। এই মোবারক মসজিদ জগতের মালিকের সন্তুষ্টির জন্য স্থাপন করা হয়েছে।

৪। মসজিদ স্থাপনকারী শত জান্নাত পাইবে। উপরে দেখ ইতিহাসের তারিখ ১১০০ হিজরি সনে পৌঁছাইয়াছে।

চাঁদপুর যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাওয়া যায় বাসে, ট্রেনে ও লঞ্চে। তবে সবচেয়ে ভালো হবে লঞ্চে করে গেলে। এতে একদিনে ভ্রমণের মজাটা আরও বেড়ে যাবে। ঢাকা-চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী লঞ্চের মধ্যে এমভি সোনারতরী, এমভি তাকওয়া, এমভি বোগদাদীয়া, এমভি মেঘনা রাণী, এমভি আল বোরাক, এমভি ঈগল, এমভি রফরফ, এমভি তুতুল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। প্রতিদিন সদরঘাট থেকে সকাল ৭টা থেকে এক বা হাফ ঘণ্টা পরপর চাঁদপুর গামী লঞ্চ ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাওয়ার ভাড়া সাধারণত, ডেক ১০০ টাকা, চেয়ার ১৫০ টাকা, নন এসি সিংগেল কেবিন – ৫০০ টাকা, নন এসি ডাবল ৮০০ টাকা, সিঙ্গেল এসি ১০০০ টাকা এবং এসি ডাবল ১৫০০ – ২০০০ টাকা। লঞ্চে ঢাকা থেকে চাঁদপুর যেতে সময় লাগে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। জেলা সদর থেকে বাস/সিএনজি/মোটর সাইকেল যোগে হাইমচর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় হতে তিন কিলোমিটার দক্ষিণ- পূর্বদিকে।

কন্ট্রিবিউটর : সাব্বির হোসেন