শহীদ জিয়া শিশু পার্ক : রাজশাহী

দৃষ্টিনন্দন ও রুচিশীল এই পার্কটির সৌন্দর্য যেকোনো দর্শনার্থীর মন কাড়ে





শহীদ জিয়া শিশু পার্ক, রাজশাহী। ছবি : সংগৃহীত


বদ্ধ শহুরে জীবনে শিশুদের নির্মল বিনোদনের জায়গা খুবই অল্প। যান্ত্রিক জীবনে তাই শিশুরা ফোন ও ল্যাপটপের দুনিয়ায় দুরন্ত শৈশবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চার দেয়ালের শহুরে এলাকায় নেই কোন খেলার মাঠ, নেই কোন মুক্ত বাতাস ও। শিশুদেরকে তাদের সহজাত আনন্দ আর হৈ-হুল্লোড়ের মজা দিতেই রাজশাহী নগরীতে শহীদ জিয়া শিশু পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। বদ্ধ পরিবেশে বেড়ে উঠা শিশুরা কিছু সময়ের জন্য হলেও এখানে নির্মল বিনোদন আর আনন্দে দারুণ কিছু সময় কাটাতে পারবে। রাজশাহী নগরীর অন্যতম এক বিনোদন কেন্দ্র শহীদ জিয়া শিশু পার্ক শুধু শিশুদের জন্যই নয়, বড়দের জন্যও চমৎকার বিনোদনের স্থান। শহরের নওদাপাড়া বড় বনগ্রামে শহীদ জিয়া শিশু পার্ক টি দাঁড়িয়ে আছে তার নানান আয়োজন নিয়ে।

বিমান বন্দর রোডের পোস্টাল একাডেমীর বিপরীত পাশের রাস্তা ধরে কিছু দূর এগুলোই পেয়ে যাবেন এই শিশু পার্ক। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে তৈরি এই পার্কটির উদ্বোধন করা হয়েছিল ২০০৬ সালে। ১২ দশমিক ২১ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই পার্কটি ছোট-বড় সবার জন্যই বিনোদনের দারুণ এক স্থান। দৃষ্টিনন্দন ও রুচিশীল এই পার্কটির সৌন্দর্য যেকোনো দর্শনার্থীর মন কাড়ে। শিশুদের বিনোদনের জন্য নানান আয়োজন রয়েছে এই পার্কে।

বিনোদন ব্যবস্থা

নান্দনিক সাজে সজ্জিত এই পার্কটি বাচ্চাদের তার বিনোদনের পসরা দিয়ে আনন্দে মাতিয়ে রাখে। এই পার্কে আপনি দেখতে পাবেন হ্রদের মাঝখানে রয়েছে কৃত্রিম পাহাড়। যা এই পার্কটির সৌন্দর্যে ভিন্ন মাত্রা দান করেছে। আবার এই পাহাড়ের ভেতর দিয়ে মিনি রেলগাড়ি যাবার পথ রয়েছে। যার সৌন্দর্য আরও বাড়ানোর জন্য দু-পাশে দুটো ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন জন্তুর মুখের ভাস্কর্য ও বরফের ঘরের মত দেখতে চমৎকার প্রবেশের দরজা তৈরি করা হয়েছে। আর এই প্রবেশ দরজার সঙ্গেই আছে দোতলা ভবনের অফিস। এই ভবনের দোতলায় নামাজের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা রয়েছে। বিভিন্ন জীবজন্তু ও কারুকার্য দিয়ে সাজানো সীমানা প্রাচীর এই পার্কটির সৌন্দর্য বর্ধন করেছে বহুগুণ। সব বয়সীদের জন্যই এই পার্কে বিভিন্ন রাইড রয়েছে। এখানে উনিশ রকমের সত্তরটি গেমস প্লে রয়েছে। এই রাইডগুলোতে চড়ে বাচ্চারা ইচ্ছেমত আনন্দে মেতে উঠতে পারে।

এখানে রয়েছে মেরী গো রাউন্ড, মিনি রেলগাড়ি, মনোরেল স্কাই বাইক, ফ্লুম রাইডস, অক্টোপাস, সুপার সুইং, বাম্পার কার, বাম্পার বোট, কিডি রাইডস, ফিজিওলজিক্যাল গেমস, পেডেল বোট, বাউন্সি ক্যাসেল, হর্স রাইড, ফ্রগ জাম্প, হানি সুইং, প্যারাট্রুপার, টি কাপ ও ব্যাটারি কার। এছাড়াও রয়েছে থ্রিডি মুভি দেখার সুযোগ। আর এসকল আয়োজন উপভোগ করার জন্য আপনি যাতে সহজেই টিকিট কিনতে পারেন তার জন্য রয়েছে তিন দিকে তিনটি কাউন্টার। এছাড়াও পার্কটির ভেতরে রয়েছে চমৎকার পিকনিক স্পট ও বিশাল এক লেক। মনের আনন্দে এই লেকে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। পার্কের ভেতর বিভিন্ন জায়গায় পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক ওয়াশরুম রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা। অক্টোপাসের মত দেখতে বেড়িয়ে যাবার গেইটটিও দেখতে দারুণ সুদৃশ্য। নান্দনিক বিনোদনের স্থান এই শিশু পার্কটি তাই নগরীর কচিকাঁচাদের জন্য দারুণ এক আনন্দের জায়গা। প্রতিদিন সকাল ১০.০০ থেকে রাত ৮.০০ টা পর্যন্ত এই শিশু পার্কটি খোলা থাকে। এর প্রবেশমূল্য জনপ্রতি মাত্র ১৫ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন রাইডের জন্য আপনাকে আলাদাভাবে টিকিট কিনতে হবে।

যেভাবে যাবেন এই শিশু পার্কে :

ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে রাজশাহী যেতে পারেন। ঢাকার গাবতলি, কল্যাণপুর থেকে গ্রিন লাইন এবং দেশ ট্রাভেলস-এর এসি বাস রয়েছে। ভাড়া পড়বে ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা। এছাড়া শ্যামলি, হানিফ, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, বাবলু এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদির নন-এসি বাস রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এগুলোতে ভাড়া পড়বে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সপ্তাহের ছয়দিন সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, পদ্মা এক্সপ্রেস রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এরপর রাজশাহী পুরাতন বাস টার্মিনাল থেকে বাস অথবা অটো রিক্সা করে আপনাকে নওদাপাড়া পোস্টাল একাডেমীর সামনে আসতে হবে। এখান থেকে পোষ্টাল একাডেমীর বিপরীত দিকের রাস্থা ধরে কিছুটা এগুলেই পেয়ে যাবেন শহীদ জিয়া শিশু পার্ক।  

রুবাইদা আক্তার   এস এম