লালন সাঁই, রবি ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়া জেলার সব দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করবেন যেভাবে?
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয় কুষ্টিয়া জেলাকে
কুষ্টিয়ার বিখ্যাত রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি। ছবি : আদার ব্যাপারী
সাইজী লালন ফকির, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি-বিজড়িত এলাকা কুষ্টিয়া ইতিহাস-ঐতিহ্য সব দিক থেকেই বেশ বিখ্যাত। খুলনা বিভাগের এই জেলাটি একসময়ে নাটোর জমিদারীর অধীনে ছিল। কুষ্টিয়ার লালন মেলার উৎসব উপলক্ষ্যে পুরো দেশ থেকেই অসংখ্য পর্যটক জেলাটিতে আসেন। এছাড়াও এখানে আরো অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় চলুন জেনে নেয়া যাক কুষ্টিয়া শহর থেকে জেলাটির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে কীভাবে যেতে পারেন সে সম্পর্কে।
কুমারখালী :
ছবি : সমকাল
কালজয়ী লেখনীর জন্মদাতা মীর মশাররফ হোসেনের বসতভূমি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নে। মীর মশাররফ হোসেনের এই বাস্তুভিটাকে বেশ সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ভ্রমনপিয়াসু, ভক্ত কিংবা সাহিত্য অনুরাগীরা প্রতিনিয়ত এখানে ভ্রমন করতে আসেন। কুষ্টিয়া জেলা সদর থেকে ইজিবাইক বা অটোরিক্সায় করে এই স্থান ভ্রমনে আসতে পারেন।
শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি জাদুঘর :
ছবি : সংগৃহীত
কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খোরেশদপুরে কুঠিবাড়িটি অবস্থিত। রবিন্দ্রনাথ নোবেল পাওয়া গীতাঞ্জলি কাব্যের অনুবাদের কাজ শুরু করেন এখান থেকেই। কুষ্টিয়া সদর থেকে অটো রিজার্ভ করে শিলাইদহে যেতে পারবেন।
মুক্তবাংলা :
কুষ্টিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত মুক্তিযুদ্বের স্মৃতিস্মারক হিসেবে মুক্তবাংলা ভাস্কর্যটি গড়ে তোলা হয়েছে। কুষ্টিয়া সদর থেকে অটো কিংবা রিক্সায় করে সহজেই এখানেই যেতে পারবেন।
ফকির লালন সাঁই মাজার :
লালন উৎসবে মাজারের সামনে হাজার হাজার মানুষের সমাগম। ছবি : ইউএনবি
পুরো দেশ থেকেই অগণিত ভক্ত, দর্শনার্থীদের সমাবেশ ঘটে এই লালন সাঁই মাজারে। কুষ্টিয়া শহর থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় করে ফকির লালন সাঁই মাজারে যেতে পারবেন।
লালন মেলা :
লালন মেলা, কুষ্টিয়া। ছবি : সংগৃহীত
লালন স্মরণোৎসব হিসেবে প্রতিবছরের লালন আখড়ায় লালন মেলা অনুষ্টিত হয় প্রতিবছরের মার্চ ও অক্টোবরে। তিনদিন ব্যাপী রাত ভর এখানে মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কুষ্টিয়া শহর থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় করে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে এই লালন মেলায় উপস্থিত হতে পারবেন।
ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ :
প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ। কুষ্টিয়া শহরের ঝাউদিয়া গ্রামে এটি অবস্থিত। সিএনজি, অটোরিক্সায় ইত্যাদি যেকোন বাহনে করে এই ঝাউদিয়া শাহী মসজিদে যেতে পারবেন।
লালন শাহ সেতু :
ঈশ্বরদী জেলার পাকশী ইউনিয়নে লালন শাহ সেতু অবস্থিত। কুষ্টিয়া থেকে রিকশা, ইজিবাইক, অটোসহ যেকোন স্থানীয় বাহনে লালন শাহ সেতুতে যেতে পারবেন।
মোহিনী মিল :
কুষ্টিয়ার মজমপুর থেকে অটো বা অটোরিক্সায় করে মোহিনী মিলে যেতে পারবেন।
রেইনউইক বাঁধ :
কুষ্টিয়া শহরের যেকোন স্থান থেকে মজমপুর গেটে আসতে হবে। এরপর সেখান থেকে হেটেই রেইনউইক বাঁধে যেতে পারবেন।
টেগর লজ :
ঐতিহাসিক টেগর লজ। ছবি : ট্যুর টুডে বিডি
কুষ্টিয়া শহর থেকে অটো, রিকশা ইত্যাদি স্থানীয় যেকোনো বাহনে মজমপুর গেট হয়ে টেগর লজে যেতে পারবেন।
পরিমল থিয়েটার :
কুষ্টিয়া শহরের যেকোন প্রান্ত থেকে রিকশা বা অটোতে করে শত বছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী পরিমল থিয়েটারে যেতে পারবেন।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ :
কুষ্টিয়ার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। ছবি : সংগৃহীত
কুষ্টিয়া থেকে ইজিবাইক, অটোরিক্সা ইত্যাদি স্থানীয় বাহনে লালন শাহ সেতুর পাশেই অবস্থিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজে যেতে পারবেন।
মুহিষকুন্ডি নীলকুঠি :
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এই নীলকুঠি অবস্থিত। বাস, থ্রি হুইলার, ইজি বাইক ইত্যাদি স্থানীয় বাহনে কুষ্টিয়া শহর থেকে এখানে যেতে পারবেন।
খোকশা কালী মন্দির :
কুষ্টিয়া শহর থেকে বাস বা সিএনজিতে করে খোকশা বাসস্ট্যান্ডে যেতে হবে প্রথমে। এরপর সেখান থেকে হেটে কয়েকশ গজ অদূরেই অবস্থিত এই কালি মন্দিরে যেতে পারবেন।