এক নজরে ব্যাঙ্গালুরু ভ্রমণের সেরা ৬টি জায়গা 

ট্র্যাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ভারতের সিলিকন ভ্যালি কিংবা বাগানের শহর নামেও পরিচিত ব্যাঙ্গালুরু


Bangalore City

ছবিতে ব্যাঙ্গালুরু শহরের সূর্যাস্তের দৃশ্য; ছবি : উইকিপিডিয়া


দক্ষিণ ভারতের  কার্নাটাক প্রদেশের রাজধানী ব্যাঙ্গালোর যা বর্তমানে ব্যাঙ্গালুরুন নামেই পরিচিত। শহরটি অবশ্য ভারতের সিলিকন ভ্যালী কিংবা বাগানের শহর নামেও জনপ্রিয়। অতীত এবং বর্তমানের অভূতপূর্ব এক সংমিশ্রণ এই শহরটি। ভারতের অন্য সব শহরের মতো এখানে আইকনিক স্থাপনা না থাকলেও এটি ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রকৃতি এবং স্থাপত্যের এক মেলবন্ধন। চলুন জেনে নেয়া যাক ভ্রমণের  জন্য ব্যাঙ্গালোরের বিখ্যাত কিছু জায়গা সম্পর্কে।

ব্যাঙ্গালুরু প্যালেস :


ব্যাঙ্গালোর প্যালেস

ব্যাঙ্গালুরু প্যালেসের উত্তরাধিকারদের বাসস্থান হিসেবে এটি বর্তমানেও ব্যবহৃত হচ্ছে; ছবি : হলিডি ফাই ডট কম


এই প্রাসাদটি অনেকটা ইংল্যান্ডের উইন্ডসোর ক্যাসেলের নির্মাণশৈলীর অনুকরণে নির্মিত। ১৮৮৭ সালে নির্মিত এই প্রাসাদে দুর্গ, সবুজ লন, সুবিন্যস্ত পরিসর এবং অভ্যন্তরে কাঠের কারুকার্যের দেখা মেলে। অবাক করার ব্যাপার হচ্ছে যে, এখানের রাজকীয় উত্তরাধিকারীরা এখনো এখানে বসবাস করে। ট্যুরিস্টদের জন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত এটি উন্মুক্ত থাকে।

ন্যাশনাল গ্যালারী অব মডার্ন আর্ট :


ন্যাশনাল গ্যালারী অব মডার্ন আর্ট

আর্ট প্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণের স্থান ন্যাশনাল গ্যালারী অব মডার্ন আর্ট, ব্যাঙ্গালুরু ; ছবি : টাইমস অব ইন্ডিয়া


 আপনি যদি আর্ট প্রেমিক হয়ে থাকেন তবে এখানে ভ্রমণ করা যেন আপনার দায়িত্ব। প্যালেস রোডে অবস্থিত এই আর্ট গ্যালারী পুরো ভারতের এরূপ তিনটি গ্যালারির একটি। অপর দুটি দিল্লী এবং মুম্বাইতে অবস্থিত। বাগান দিয়ে ঘেরা এই গ্যালারিতে ইংরেজ শাসনামল থেকে ভারতের স্বাধীনতা পর্যন্ত বিভিন্ন আর্ট প্রদর্শন করে রাখা রয়েছে। আর্ট গ্যালারীর অভ্যন্তরে একটি ক্যাফে রয়েছে। প্রতি মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার ১১টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এই আর্ট গ্যালারি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

টিপু সুলতানের প্রাসাদ এবং দুর্গ :


টিপু সুলতানের প্রাসাদ এবং দুর্গ

ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন টিপু সুলতানের প্রাসাদ এবং দুর্গ; ছবি : সংগৃহীত


 ব্যাঙ্গালুরু দুর্গ এলাকায় অবস্থিত এই প্রাসাদটি ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যের এক নিদর্শন। টিপু সুলতানের পিতা হায়দার আলী এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন এবং টিপু সুলতান ১৭৯১ সালে এটি সমাপ্ত করেন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এটি খোলা রাখা হয় দর্শনার্থীদের জন্য।

কৃষ্ণা রাজেন্দ্র মার্কেট :


Krishna Rajendra (KR) Market কৃষ্ণা রাজেন্দ্র মার্কেট

প্রতি ভোরে রঙ বেরঙের ফুলের এক সমারোহ বসে এখানে, কৃষ্ণা রাজেন্দ্র মার্কেট; ছবি : ব্লগ বিটস


ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় এই বাজারটি যেন ছবি তোলার জন্য এক টুকরো স্বর্গ। বিভিন্ন রকমের এবং বিভিন্ন কালারের ফুলে বাজারটি এক অন্য রকম সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ থাকে। এছাড়াও এখানে মসলা এবং কপার পাওয়া যায়। বাজারটিতে ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় ভোর বেলায়। সেই সময়টিতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা ফুলগুলি আনলোড করা হয়।

লালবাগ বোটানিক্যাল গার্ডেন : 


লালবাগ বোটানিক্যাল গার্ডেন ব্যাঙ্গালোরের দর্শনীয় স্থান

ছবিতে লালবাগ বোটানিক্যাল গার্ডেনের মূল আকর্ষণ গ্লাস হাউজসের রাত্রিকালীন দৃশ্য; ছবি : উইকিপিডিয়া


 মুঘলীয় স্থাপত্যের অনুকরণে এই বাগানটি ১৭৬০ সালে হায়দার আলী শুরু করেন যা তার ছেলে টিপু সুলতান আরও বিস্তৃত করেন। ২৪০ একরজুড়ে নির্মিত এই বাগানে প্রায় সারা বছরেই গোলাপের সমারোহ থাকে। বলা হয়ে থাকে, পৃথিবীর সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় প্রজাতির বাগান এটিই। এর মূল আকর্ষণ গ্লাসহাউস। ওয়েলসের প্রিন্সের ভ্রমণ উপলক্ষে ১৮৮৯ সালে একে নির্মাণ করা হয় লন্ডনের ক্রিস্টাল প্যালেসের অনুকরণে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এটি খোলা রাখা হয়।

বিধান সৌধ :


বিধান সৌধ

ব্যাঙ্গালুরুর ল্যান্ডমার্ক হিসেবে পরিচিত বিধান সৌধ; ছবি : উইকিপিডিয়া


ব্যাঙ্গালুরুর ল্যান্ডমার্ক এই বিধান সৌধ। ১৯৫৬ সাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নিও দ্রাবিদিয়ান স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন এই বিধান সৌধ। চারটি গম্বুজ এই স্থাপনার চার প্রান্তে অবস্থিত। এখানেই জনগণের প্রতিনিধিদের চেম্বার এবং প্রদেশের আইন প্রণয়ন করা হয়। সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কার্যালয়ও এটিই। দর্শনার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত নয়। কিন্তু এর রাতের বেলায় এর জমকালো আলোর কারসাজি সবাইকে মুগ্ধ করে। ব্যাঙ্গালুরু অত্যন্ত সুন্দর এবং পরিচ্ছন্ন এক শহর। এই শহর আপনার ভ্রমণ জীবনের সুন্দর এক অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে থাকবে যেন বলাই যায়।  

মোঃ খালিদ বন জামান   এস এম