নগরজীবনের বেড়াজালে আবদ্ধ থেকে থেকে মানুষ একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার জন্য কোলাহল এড়িয়ে প্রকৃতির কাছে আশ্রয় চেয়েছে অনেককাল ধরেই। এই আশ্রয় লাভের আভিধানিক শব্দকে বলা যেতে পারে ইকো ট্যুরিজম (Eco Tourism)।
ইকো ট্যুরিজমের উদ্দেশ্য দৈনিক কোলাহল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রকৃতির কোলে ফিরে যাওয়া, যা নতুন করে কর্ম প্রেরণা জোগাবে।
ইকো ট্যুরিজম স্পট হিসেবে সাধারণত একটু নির্জন, প্রচলিত নেটওয়ার্ক সুবিধার বাইরে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে অবস্থিত জায়গাগুলো বেছে নেয়া হয়।
জনপ্রিয় জায়গাগুলোতে যেমন বেশ সুযোগ-সুবিধা, লোকবল, খাবারদাবার, শপিংমল ইত্যাদি সবকিছুর দেখা মেলে সেখানে ইকো ট্যুরিজমের প্রধান উদ্দেশ্য প্রকৃতিতে ফিরে যাওয়া। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ইকো ট্যুরিজমের প্রচার শুরু হয়েছে বেশ আগে। কম খরচে যাওয়া যাবে এমন কিছু জায়গার খোঁজ দেয়া হল এখানে।
কেরল :
চারপাশে ঘন সবুজ রঙের চাদরের মাঝে পানির উপরে ভাসছে হাউজবোট। কেরলের সু-পরিচিত এই দৃশ্য নিজেকে উপহার দিতে পারেন আপনিও। সেখানে টেলিভিশন বা গরম পানির জন্য গিজারের ব্যবস্থা না থাকলেও পেয়ে যাবেন প্রকৃতির আপামর সান্নিধ্যে। গাছে ঝোলানো হ্যামক, লেগুনের ভেতরে নৌকাভ্রমণ। আর যাবতীয় চাহিদা মেটানোর জন্য সৌর বিদ্যুৎ।
সিকিম
সিকিমের বেশ কিছু জায়গায় পাহাড়ের কোলঘেঁষে গড়ে উঠেছে হোমস্টে। এখানে অর্গানিক খাবারের পাশাপাশি খরস্রোতা তিস্তার শো শো শব্দে হারিয়ে যাওয়া যায় দিন কতেকের জন্য।
হিমাচল :
এই প্রদেশের পিন ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক, চন্দ্রতাল ইকো ট্যুরিজমের জন্য বিখ্যাত। তবে, এগুলো ট্রেক রুট তাই হাটাঁহাটির অভ্যাস না থাকলে বাদ দেয়া উচিত। এখানে থাকার জন্য কুলু গ্রাম বেশ বিখ্যাত।
কাশ্মির
পৃথিবীর স্বর্গ বলেখ্যাত কাশ্মিরে অবস্থিত লাদাখ, ডাল লেক, শ্রীনগর, গুলমার্গ, সোনামার্গ ইত্যাদি জায়গার অপরূপ প্রাকৃতিক নিদর্শন আর প্রকৃতির কোলে কিছুদিন কাটিয়ে চাঙ্গা হয়ে ওঠা যায় নিমিষেই।
জলপাইগুড়ি
এই অঞ্চলে গরুমারা ন্যাশনাল ফরেস্ট, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান, চাপড়ামাড়ি অভয়ারণ্য ঘিরে তৈরি হয়েছে ইকো ট্যুরিজমের আধিপত্য। সর্বোপরি শুধু টুরিস্ট আকর্ষণ নয় বরঞ্চ প্রকৃতিতে টিকে থাকা জীবজন্তুদের প্রতি সদয় হয়ে তাদের নিবাসকে টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টাও চলে ইকো ট্যুরিজমের মাধ্যমে।
ভারতের পাশাপাশি আমাদের দেশেও শুরু হয়েছে ইকো ট্যুরিজমের ধারনা। এর মধ্যে সুন্দরবনের হাড়বাড়িয়া ইকো ট্যুরিজম সেন্টার, সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম সেন্টার, বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়া দ্বীপ ইত্যাদি। এছাড়াও সরকার এই ইকো ট্যুরিজম খাতকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ইকো ট্যুরিজম প্রবর্তনে পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে।
ইকো ট্যুরিজমে যা যা চিন্তা করা উচিত :
১. বেশিরভাগ জায়গা তুলনামূলক দূরে এবং প্রকৃতির কাছাকাছি অবস্থিত বিধায় শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টিতে খেয়াল রাখা উচিত;
২. এসব জায়গায় সাধারণত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, কিংবা ইন্টারনেট সংযোগ থাকে না। এসব মাথায় রেখে যাওয়া ভাল;
৩. অনেক সময় দোকানপাটও পাওয়া যায় না। তাই শুকনো খাবার সাথে রাখা উচিত;
৪. বিভিন্ন জায়গায় প্লাস্টিক ব্যবহার এবং ধূমপান নিষেধ;
৫. এমন কোন কাজ করা উচিত না যাতে স্থানীয় জনগণ এবং পরিবেশ দূষিত হয়।