দেশের সর্বোচ্চ, দৃষ্টিনন্দন জেলাটির শহর থেকে বিভিন্ন স্পটে কীভাবে যাবেন?
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : পাহাড়ি সৌন্দর্য, লোকসংস্কৃতি আর মেঘ-বৃষ্টির খেলায় ভরা বান্দরবান জেলা
পাহাড়ের সীমানা ঘেষে রাস্তা চলে গিয়েছে দূর পানে, বান্দরবান। ছবি : ভ্রমণ গাইড
পার্বত্য জেলা বান্দরবান ভ্রমন পিয়াসুদের নিকট খুবই জনপ্রিয়। পাহাড়ের গহীনে হারিয়ে নিজেকে খুজে পেতে বান্দরবানের বিকল্প কমই আছে পুরো দেশে। আর পুরো বান্দরবানজুড়েই এতো বেশি দর্শনীয় স্থান যে, আপনাকে বেশ কয়েকবার বান্দরবান যেতে হবে সবগুলো স্পট দেখার জন্য কিংবা বেশ লম্বা একটি সময়জুড়ে বান্দরবানে কাঁটাতে হবে।
সেই ধারাবাহিকতায় ট্রাভেল বাংলাদেশের পাঠকদের আজ আমরা জানাবো বান্দরবান শহর থেকে জেলাটির সকল দর্শনীয় স্থানে কীভাবে যেতে পারেন সে সম্পর্কে।
মিলনছড়ি :
ছবি : আদার ব্যাপারী
হরেক রকমের পাহাড়ি গাছের সাথে এখানে দেখা মেলে সর্পিল গতিতে বয়ে চলা আঁকাবাকা সাঙ্গু নদী। বান্দরবান শহর থেকে চাঁদের গাড়িতে মিলনছড়িতে যেতে পারবেন।
আকাশের কাছাকাছি চলে আসা মারায়ন তং পাহাড়। ছবি : ভ্রমণ গাইড
বান্দরবান জেলার আলিকদম উপজেলার মিরিঞ্জা রেঞ্জে মারায়ন তং পাহাড় অবস্থিত। এখানে ক্যাম্পিং করার বেশ সু-ব্যবস্থা রয়েছে। বান্দরবান-থানচি-আলিকদম বা বান্দরবান-লামা- আলিকদম হয়ে মারায়ন তং পাহাড়ে পৌছাতে পারবেন। জিপ গাড়ি বা বাসে আলীকদম পৌঁছাতে পারবেন।
যারা ট্রেকিং করতে ভালোবাসেন তাদের জন্য আদর্শ একটি স্থান। সুন্দর এই জায়গাটি রুমা থানার রুমানার পাড়ার পাশেই অবস্থিত। বান্দরবান শহর থেকে চাঁদের গাড়িতে রুমা বাজার-বগালেক হয়ে রুমানা পাড়ায় আসতে হবে। রুমানা পাড়া থেকে ৩০-৩৫ মিনিট পথ পারি দিয়ে জিংসিয়াম সাইতারে পৌঁছাতে পারবেন।
ম্রো ভাষায় এটি কালো পানির ঝিরি নামের পরিচিত। আলিকদম উপজেলায় ম্রো সম্প্রদায় অধ্যুষিত ৪ নং কুরুকপাতা ইউনিয়নের তুইনুম ঝিরিতে এটি অবস্থিত। এখানে যেতে চাইলে বান্দরবান থেকে আলিকদমে যেতে হবে প্রথমে। এরপর আলীকদম বাসস্ট্যান্ড থেকে অটোতে মাতামুহুরী ট্রলার ঘাঁটে যেতে হবে। এরপর ট্রলারে পেয়ারামুহুরী বাজারে পৌঁছাতে হবে। এরপর সেখান থেকে ১৫-২০ মিনিট হেটে তুইনুম ঝরনায় পৌঁছাতে পারবেন।
মুনলাই পাড়া :
রুমা বাজার পৌঁছে সেখান থেকে ৩ কিলোমিটার দূরেই মুনলাই পাড়ার অবস্থান। বান্দরবান শহর থেকে চাঁদের গাড়ি বা বাসে করে রুমা বাজার যেতে পারবেন। এরপর রুমা বাজার থেকে বগালেকে যেতে ৩ কিলোমিটার পরেই মুনলাই পাড়ার দেখা পেয়ে যাবেন। সাঙ্গু নদী :
স্নিগ্ধ আমেজে বহমান সাঙ্গু নদী। ছবি : সংগৃহীত
সাঙ্গু নদীর অপর নাম শঙ্খ। এই নদীর দুই তীরে রয়েছে পাহাড়, বন, নদী ও ঝরনা। এই নদীতে ভ্রমনের জন্য আপনাকে প্রথমে থানচি যেতে হবে। এরপর থানচি থেকে সাঙ্গু নদী ভ্রমনে যেতে পারবেন। বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়িতে থানচি যেতে পারবেন।
তাজিংডং :
দূর্গম পাহাড়ে টে্রকিং করতে চাইলে যেতে হবে তাজিংডং। ছবি : গ্রীন পেইজ
বান্দরবানের রুমা উপজেলার রোমাক্রী পাংশা ইউনিয়নে এই বিশাল পাহাড় অবস্থিত। চাঁদের গাড়ি বা জীপে করে বান্দরবান শহর থেকে রুমা বাজার- বগালেক হয়ে তাজিংডং এ পৌছাতে হবে।
পাতাং ঝিরি ঝরনা :
রুমা উপজেলায় অপরুপ এই ঝরনা অবস্থিত। বগালেকের পূর্বেই এই পাতাং ঝিরির অবস্থান। বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়ি বা জিপ বা বাসে করে রুমা বাজার হয়ে এই পাতাং ঝিরিতে পৌঁছাতে পারবেন।
নীল দিগন্ত পর্যটন কেন্দ্র :
থানচি উপজেলার জীবন নগর এলাকায় এটি অবস্থিত। বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়ি, জিপ, সিএনজি বা লোকাল বাস পাবেন থানচিতে অবস্থিত এই পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য।
ছবি : সংগৃহীত
রুমা সড়কের ৮ কিলমিটার দূরে শৈলপ্রপাত অবস্থিত। বান্দরবান শহর থেকে জিপ বা চাঁদের গাড়িতে এখানে যেতে পারবেন।
ঋজুক ঝরনা :
রুমা বাজার থেকে নদীপথে থানচি যাওয়ার পথে ঋজুক ঝরনা পড়ে। সাঙ্গু নদীর পাড়ে অবস্থিত এই ঝরনা থেকে প্রায় সারা বছরেই পানি পড়তে থাকে। বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়ি বা জিপে রুমায় এসে সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ঋজুক ঝরনায় যেতে পারবেন।
জাদিপাই ঝরনা :
জাদিপাই ঝরনার বিস্মিত রূপ মুগ্ধ করে পর্যটকদের। ছবি : ক্যাকটাস ফটোগ্রাফি
বাংলাদেশের সব থেকে সুন্দর ঝরনার নামের তালিকায় সবার প্রথমে এটিই থাকবে। রুমা উপজেলার জাদিপাই পাড়ায় এই ঝরনাটি অবস্থিত। বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়িতে রুমা বাজার–বগালেক-কেওক্রাডং-জাদিপাই পাড়া পার হয়ে এই জাদিপাই ঝরনায় পৌঁছাতে পারবেন।
রুপমুহুরী ঝরনা :
আলীকদম উপজেলা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে পোয়ামুহুরী এলাকায় মাতামুহুরি নদীর কুল-ঘেষে রুপমুহুরী ঝরনার অবস্থান। বান্দরবান থেকে জিপ, চাঁদের গাড়ি বা বাসে আলীকদম যেয়ে সেখান থেকে ইঞ্জিনবোটে মাতামুহুরী নদীপথে পোয়ামুহুরিতে যেতে পারবেন।
মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স :
সমতল থেকে প্রায় দেড় হাজার ফুট উচুতে এই পর্যটন কমপ্লেক্সের অবস্থান। চকরিয়া এলাকায় লামা আলীকদম সড়কের ১৬ কিলোমিটার পয়েন্টে এই নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র মিরিঞ্জা অবস্থিত। বান্দরবান থেকে জিপ, চাঁদের গাড়ি বা বাসে আলীকদম পৌঁছানোর পরে মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সে পৌঁছাতে হবে।
আলির সুড়ঙ্গ :
আলীকদম উপজেলা সদর থেকে তিন কিলমিটার পূর্ব-দক্ষিনে আলির পাহাড় অবস্থিত। আর এই আলির পাহাড়ে চারটি সুরঙ্গের অবস্থান। বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়ি, জিপ বা বাসে আলীকদম যেয়ে এরপর আলীর সুড়ঙ্গে পৌঁছাতে পারবেন।
তিনাপ সাইতার : বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে তিনাপ সাইতার অবস্থিত। জায়গাটি দুর্গম এবং একই সাথে অসম্ভব সুন্দর। রোয়াংছড়ি বা আত্ত্যাহপাড়া দু-দিক দিয়েই তিনাপ সাইতার যেতে পারেন। বান্দরবান থেকে বাসে বা চাঁদের গাড়িতে আত্ত্যাহপাড়া বা রোয়াংছড়িতে যেয়ে ট্রেকিং করে তিনাপ সাইতারে যেতে হবে।
ফাইপি জলপ্রপাত :
বান্দরবানের থাইকাং পাড়ায় এই ফাইপি জলপ্রপাত অবস্থিত। থানচি বা রুমা দু-দিক দিয়েই আপনি এখানে যেতে পারবেন। বান্দরবান থেকে জিপ, চাঁদের গাড়ি বা বাসে করে থানচি কিংবা রুমা বাজার হয়ে এই ফাইপি জলপ্রপাতে যেতে হবে।
বাকলাই ঝরনা :
থানচি উপজেলার বাকলাই পাড়ায় চমৎকার এই ঝরনাটি অবস্থিত। ৩৮০ ফুট উচু এই ঝরনা বাকলাই গ্রাম থেকে ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়ি, জিপ বা বাসে থানচি পৌঁছে এরপর ট্রেকিং করে বাকলাই ঝরনায় যেতে হবে।
বান্দরবানের থানচি উপজেলার বড় মদক এলাকায় আন্ধারমানিকের অবস্থান। এর মূল আকর্ষণ নারেসা ঝিরি। বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়ি বা বাসে থানচি হয়ে এখানে যেতে পারবেন।
আমিয়াখুম :
মিয়ানমার সীমান্তের পাশেই নাক্ষিয়ং স্থানে এই জলপ্রপাতটি অবস্থিত। বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়ি বা বাসে থানচি হয়ে ট্রেকিং করে থুইসাপাড়া হয়ে আমিয়াখুমে যেতে পারবেন।
কেওক্রাডং :
পাহাড় আর মেঘের খেলা, কেওক্রাডং। ছবি : আসিফ রাহাত
বান্দরবান শহর থেকে বাস বা চাঁদের গাড়িতে রুমা বাজার হয়ে বগালেকে আসতে হবে আপনাকে প্রথমে। এরপর বগালেক থেকে ট্রেকিং করে কেওক্রাডং-এ যেতে পারবেন।
চিংড়ি ঝরনা :
বগালেক থেকে কেওক্রাডোং যাওয়ার পথেই চিংড়ি ঝর্ণার দেখা মিলবে।
সাকাহাফং পর্বত :
থানচি বাজার থেকে ট্রেকিং করে এই পাহাড়ের চূড়ায় আপনাকে পৌঁছাতে হবে। বান্দরবান থেকে বাস বা চাঁদের গাড়িতে করে থানচি বাজারে পৌঁছাতে পারবেন।
লিলুক ঝরনা :
বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়ি বা বাসে করে থানচি বাজার হয়ে বোটে করে তিন্দু যেতে হবে প্রথমে আপনাকে। এরপর তিন্দু থেকে ট্রেকিং করে লিলুক ঝরনায় যেতে পারবেন।
তিন্দু :
বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়ি বা বাসে করে থানচি বাজার হয়ে বোটে তিন্দু যেতে পারবেন।
লামা :
বান্দরবানের উপজেলা লামা ক্রমশ পর্যটকদের নিকট বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বান্দরবান থেকে আলীকদম যেয়ে এরপর লামা যেতে পারবেন।
নীলাচল :
বান্দরবান শহর থেকে নীলাচলে যাওয়ার জন্য জীপ বা চান্দের গাড়ি পাবেন।
লামোনই ঝরনা :
আলীকদম বা থানচি যেকোন ভাবেই লামোনই ঝরনায় যেতে পারবেন। বান্দরবান থেকে আলীকদম বা থানচি যাওয়ার জন্য চাঁদের গাড়ি বা বাস পাবেন।
প্রান্তিক লেক :
বান্দরবান শহর থেকে লোকাল বা রিজার্ভ সিএনজি যোগে প্রান্তিক লেকে যেতে পারবেন।
চিম্বুক পাহাড় :
বান্দরবান থেকে জিপ, চাঁদের গাড়ি কিংবা বাসে করে চিম্বুক পাহাড়ে যেতে পারবেন।
বগালেক :
বান্দরবান শহর থেকে রুমা বাজার হয়ে বগালেক যেতে হবে আপনাকে। বান্দরবান শহর থেকে রুমা বাজার পর্যন্ত যেতে বাস বা চাঁদের গাড়ি পাবেন। এরপর রুমা বাজার থেকে চাঁদের গাড়িতে করে বগালেকে যেতে হবে।
ডিমপাহাড় :
বান্দরবান শহর থেকে রিজার্ভ জিপ বা চান্দের গাড়িতে ডিমপাহাড়ে যেতে পারবেন।
নীলগিরি :
নীলগিরি, বান্দরবান। ছবি : সংগৃহীত
বান্দরবান শহর থেকে চান্দের গাড়ী বা জীপে নীলগিরিতে যেতে পারবেন।
মেঘলা :
বান্দরবান জেলা শহরে প্রবেশের ৫ কিলোমিটার আগে মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স অবস্থিত। চাঁদের গাড়ি বা রিজার্ভ জিপে করে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে যেতে পারবেন।
নাফাখুম :
থানচি থেকে নৌকায় রোমাক্রি যেতে হবে আপনাকে। এরপর রোমাক্রি থেকে শ্বাস রুদ্বকর ট্রেকিং করে নাফাখুম যেতে হবে আপনাকে। বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়ি, বাস ইত্যাদি বাহনে থানচি যেতে পারবেন।
স্বর্ণ মন্দির :
স্বর্ণমন্দির, বান্দরবান। ছবি : গ্রিন বেল্ট
বান্দরবান জেলার বালাঘাটা এলাকায় এই স্বর্ণ মন্দির অবস্থিত। চাঁদের গাড়ি, সিএনজি ইত্যাদি মাধ্যমে এই স্বর্ণ মন্দিরে যেতে পারবেন।