৪৫০ বছর পূর্বে নির্মিত বখশী হামিদ মসজিদ : চট্টগ্রাম

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : তিন গম্বুজ বিশিষ্ট বখশী হামিদ মসজিদ, চট্টগ্রাম



Bakhshi Hamid Mosque বখশী হামিদ জামে মসজিদ

ছবি : সংগৃহীত


পার্বত্য চট্টগ্রাম মানেই পর্যটকদের জন্য দূর্বার এক আকর্ষণের নাম। এই বন্দর নগরীর সমুদ্র সৈকত থেকে শুরু করে সকল ঐতিহাসিক স্থাপনাসহ আকর্ষণীয় ভ্রমণ স্পটগুলো সারা বছর জুড়ে পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত থাকে। এখানকার ভ্রমণ স্থানগুলোর মধ্যে বিরাট একটা অংশজুড়ে আছে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক এই এই প্রাচীন স্থাপনাগুলো তাই পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় থাকে। তেমনই একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা হল বখশী হামিদ মসজিদ (Bakhshi Hamid Mosque)। চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা গ্রামে এই মসজিদটি অবস্থিত। এই অঞ্চলে ইসলামী সভ্যতা-সংস্কৃতির বিকাশে এই মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। মুসলিম শিক্ষা-সংস্কৃতির ভিত রচনা করে এ মসজিদ। ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে এই মসজিদ একটি মাইলফলক। ৪৫০ বছর পুরোনো এই মসজিদটির তাই ঐতিহাসিকভাবে রয়েছে ব্যাপক গুরুত্ব।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, বখশী হামিদ এর পুরো নাম মুহাম্মদ আবদুল হামিদ, বখশী তার উপাধি। বখশী ফার্সি শব্দ। এর অর্থ কালেক্টর বা কর গ্রহীতা। তৎকালীন সময়ে বখশী হামিদ এই অঞ্চলের প্রশাসক ছিলেন। তিনি এই এলাকার শিক্ষা, সভ্যতা, সংস্কৃতির উন্নয়ন সাধনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। জনশ্রুতি অনুসারে, সে সময় এ এলাকায় প্যারাবন ছিল। ঝোপঝাড়ে জনবসতি ছিল না। ইউসুফ ও কুতুব নামে গৌড়ের দুজন আমির শাহ আবদুল করিম নামক জনৈক সূফীর সঙ্গে গৌড় ছেলে উপযুক্ত বাসস্থানের সন্ধানে বঙ্গোপসাগরে পাড়ি দিয়ে বাঁশখালীর এ জায়গায় পোঁছান। তারা বাঁশখালীর ইলশার দরগা বাড়ির স্থানে পৌঁছলে শাহ সাহেব ইল্লাল্লাহ শব্দ উচ্চারণ করে তার ছড়ি পুঁতে রাখেন এবং সেখানে বসবাসের ইচ্ছা পোষণ করেন। তারপর থেকে এ স্থানটি ইল্লাল্লাহ শাহের স্থান এবং পরে ইলশায় রূপান্তরিত হয়। এই বখশী আবদুল হামিদ উক্ত শাহ শাহের অধস্তন বংশধর। তিনিই এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।


মসজিদটির ইতিহাস

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী এই মসজিদটির নির্মাণ কৌশলের সাথে ঢাকার শায়েস্তা খান মসজিদ এবং নারায়ণগঞ্জের বিবি মরিয়ম মসজিদের মিল পাওয়া যায়। মোঘল স্থাপত্য কৌশলে নির্মিত এ মসজিদটি তিন গম্বুজ বিশিষ্ট। মাঝের গম্বুজটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং ছোট গম্বুজ দুটি ধনুকের মতো করে ছাদের সঙ্গে যুক্ত। এই মসজিদটির খিলান দ্বারা নির্মিত পাঁচটি প্রবেশপথ রয়েছে। তার তিনটি পূর্বদিকে এবং বাকি দুইটি উত্তর ও দক্ষিণের দিকে। পূর্বদিকের তিনটি প্রবেশপথ একেকটি অর্ধগম্বুজ ভল্টের নিচে নির্মাণ করা হয়েছে এবং বাইরের দিকে এগুলিতে খাঁজকাটা নকশা করা আছে।


Bakhshi Hamid Mosque বখশী হামিদ জামে মসজিদ

ছবি : সংগৃহীত


 এর ভেতরের দিকের পশ্চিম দেয়ালে তিনটি মিহরাব কুলুঙ্গি তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মিহরাবটি অর্ধ অষ্টকোণাকার। কিন্তু পাশের মেহরাবগুলি আয়তাকার।এটির ভেতর থেকে দেখা যায়, একটি প্রধান গম্বুজের উভয় পাশে একটি করে অর্ধ-গম্বুজাকৃতির ভল্ট রয়েছে। কিন্তু বাইরের দিকে ছাদটি অষ্টকোণাকার পিপার উপর নির্মিত। যা তিনটি অর্ধবৃত্তাকার গম্বুজ দ্বারা গঠিত। এখানকার সবগুলি গম্বুজের শীর্ষভাগ পদ্ম ও কলসচূড়া দ্বারা অলংকৃত। কেন্দ্রীয় গম্বুজের ভেতরের দিকে পাতার অলংকরণ করা হয়েছে। এই মসজিদটির ভেতর ও বাহির, উভয় দিক পলেস্তারা দিয়ে আবৃত। ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিশাল ইসলামি কমপ্লেক্স। এ কমপ্লেক্সের নাম হল দারুল কোরআন মুহাম্মদিয়া শাহ বখশী হামিদ কমপ্লেক্স।

যেভাবে যাবেন :

ঢাকার ফকিরাপুল, সায়দাবাদ, মহাখালী বাস-স্ট্যান্ড থেকে চট্টগ্রাম যেতে পারেন। এস আলম, শ্যামলী, সৌদিয়া, ইউনিক, হানিফ, ঈগল, এনা, সোহাগ টি আর প্রভৃতি এসি ও নন-এসি বাস চট্টগ্রাম যায় প্রতিদিন। ভাড়া পড়বে ৪২০ থেকে ১১০০ টাকা। এরপর চট্টগ্রাম শহর থেকে বাসে বা সিএনজিতে বাঁশখালীর গুনাগরী খাসমহাল বাজারে আসতে হবে। বাজার থেকে সোজা পশ্চিমেই পেয়ে যাবেন এই মসজিদ।

যেখানে থাকবেন :

চট্টগ্রামে নানান মানের হোটেল আছে ।

নীচে কয়েকটি বাজেট হোটেলে নাম ঠিকানা দেয়া হলো :

১. হোটেল প্যারামাউন্ট, স্টেশন রোড, চট্টগ্রাম। ভাড়াঃনন-এসি সিঙ্গেল ৮০০ টাকা, ডাবল ১৩০০ টাকা, এসি ১৪০০ টাকা ও ১৮০০ টাকা । যোগাযোগ : ০৩১-২৮৫৬৭৭১, ০১৭১-৩২৪৮৭৫৪।

২. হোটেল এশিয়ান এসআর, স্টেশন রোড, চট্টগ্রাম। ভাড়া : নন এসি : ১০০০ টাকা, নন এসি সিঙ্গেল। এসি : ১৭২৫ টাকা । যোগাযোগ: ০১৭১১-৮৮৯৫৫৫।

৩. হোটেল সাফিনা, এনায়েত বাজার, চট্টগ্রাম। একটি পারিবারিক পরিবেশের মাঝারি মানের হোটেল । ভাড়া : ৭০০ টাকা থেকে শুরু । এসি ১৩০০ টাকা । যোগাযোগ: ০৩১-০৬১৪০।

৪. হোটেল নাবা ইন, রোড ৫, প্লট-৬০, ও আর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম। যারা নাসিরাবাদ/ও আর নিজাম রোড এলাকায় থাকতে চান তাদের জন্য আদর্শ । ভাড়া : ২৫০০/৩০০০ টাকা । যোগাযোগ: ০১৭৫৫ ৫৬৪৩৮২।

৫. হোটেল ল্যান্ডমার্ক, ৩০৭২ শেখ মুজিব রোড, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম। ভাড়া-২৩০০/৩৪০০ টাকা যোগাযোগ: ০১৮২-০১৪১৯৯৫, ০১৭৩১-৮৮৬৯৯৭।  


রুবাইদা আক্তার   এস এম