পাহাড়ে আহার : বিখ্যাত সব পাহাড়ি খাবার নিয়ে জানুন

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : পাহাড়ের মজাদার ও বিখ্যাত সব খাবার



ব্যাম্বু চিকেন পাহাড়ি খাবার

পাহাড়ের জনপ্রিয় খাবারের একটি সুমো হুরো এরা বা ব্যাম্বু চিকেন। ছবি : স্টিম ইট


ভ্রমণপিয়াসু পর্যটকদের কাছে পাহাড় এক আশ্চর্যের জায়গা। প্রকৃতির সান্নিধ্য লাভের সাথে সাথেই এর রহস্যময় রূপও আকৃষ্ট করে পর্যটকদের। প্রকৃতি যেন নিজের সমস্ত কারুকার্য দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছে পাহাড়কে। বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলসমূহ যেন দেশের ভেতর আরেকটি দেশ। প্রকৃতির এই নিজস্ব স্বকীয়তা দেখা যায় পাহাড়ে বাস করা আদিবাসীদের জীবনাচরণেও। তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, খাবার সবেতেই রয়েছে তাদের নিজস্বতার ছোঁয়া। পাহাড়ি সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে গেলে তাই আপনাকে পরখ করে দেখতে হবে তাদের খাবারও। মজাদার ও বিখ্যাত সব পাহাড়ি খাবার এর সাথে তাই আজ আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে।

আরও পড়ুন : বান্দরবানের খাবার মুন্ডি


ব্যাম্বু চিকেন :

পাহাড় যেমন বিচিত্র, পাহাড়ি খাবারও তেমনি বিচিত্র। পাহাড়ের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার হলও সুমো হুরো এরা বা ব্যাম্বু চিকেন। বাঁশের ভেতর রান্না করা হয় বলে এর এমন নাম। দেশি মোরগের সঙ্গে পাহাড়ি আদা, রসুন, মরিচ এবং সাবারাং পাতা মিশিয়ে কাঁচাবাঁশের ভিতরে ঢুকিয়ে কলাপাতা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় বাঁশের মুখ। কয়লা দিয়ে রান্না করা হয় এই বিশেষ খাবারটি।


বাঁশ কোড়ল :

বাঁশ কোড়ল

বাঁশের গোঁড়ার কচি নরম অংশ বা বাঁশ কোড়ল কে বিভিন্ন কায়দায় রান্না করা হয়। ছবি : বাংলার চোখ


 পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের প্রিয় খাবার 'বাঁশ কোড়ল'। বাঁশের গোঁড়ার কচি নরম অংশকে বলা হয় বাঁশ কোড়ল। স্যুপ, মুন্ডি, মাংস দিয়ে রান্না ও ভাজি করে খাওয়া যায় বাঁশ কোড়ল। বর্ষার শুরুতে মাটি নরম হলে বাঁশ কোড়ল গজাতে শুরু করে। তাই শুধুমাত্র বর্ষার সময়েই বিশেষ এই খাবারটি পাওয়া যায়।


নাপ্পি :

কক্সবাজারের রাখাইন পল্লীতে এর প্রচলন বেশি। সাগর থেকে আনা ছোট চিংড়িকে তারা 'মিম ইছা' বলে থাকে। মিম ইছা রোদে শুকিয়ে লবণ ও বিভিন্ন মশলা মিশিয়ে তৈরি করা হয় নাপ্পি। শুটকির মতো এটিকে রান্না করা হয়, আবার অন্যান্য খাবারের সাথে পরিবেশনও করা হয়ে থাকে। তরকারিতে তেলের বিকল্প হিসেবেও তারা নাপ্পি ব্যবহার করে থাকে।

আরও পড়ুন : বাঙালির রসুইখানার স্বাদ পেতে মাটির ঘর রেস্টুরেন্টে : গাজীপুর


হেবাং :

চাকমাদের শুটকি খুব পছন্দের খাবার। লবণ যেমন রান্নার অত্যাবশ্যকীয় উপাদান, শুটকিও তাদের কাছে তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ধরণের শুটকি দিয়ে ভাপের মাধ্যমে রান্না করা হয় হেবাং। হেবাং মূলত রান্নার একটি পদ্ধতি; শুটকি ছাড়াও মাংস রান্না করা হয় এ পদ্ধতিতে। স্থানীয়রা হেবাং- কে ' সুগুনি হেবাং' ও বলে থাকে।


মুন্ডি :

মুন্ডি পাহাড়ি খাবার

পাহাড়িদের নিজস্ব পদ্ধতিতে চাল থেকে তৈরি নুডলস হলও মুন্ডি। ছবি : পিকলড টি লিভস


পাহাড়িদের নিজস্ব পদ্ধতিতে তৈরি করা নুডলস হলও মুন্ডি। মুন্ডি তৈরির জন্যে চাল প্রায় ১৫ দিনের মতো পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। এই চালকে ছোট ছিদ্রযুক্ত চালুনির ওপরে রেখে পরিষ্কার করে পানি শুকিয়ে নিতে হয়। এরপর ঢেঁকিতে পিষে মণ্ড তৈরি করা হয়। এই মণ্ডকে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে চাপ দিলে নিচের দিকে চলে আসে নুডলসের মতো চিকন লম্বা মুন্ডি।। তারপর মেশিনের সাহায্যে তৈরি করা হয় নুডলস মুন্ডি। সাথে মশলা, শুটকি, ধনেপাতা দিয়ে পরিবেশন করা হয় মুন্ডি।


কেবাং :

হেবাং এর মতো কেবাং হলও রান্নার পদ্ধতি। বাঁশের ভেতর মাংস ঢুকিয়ে আগুনে ঝলসে বা কয়লায় পুড়িয়ে রান্না করা হয়। আদিবাসীরা এতে সাধারণত শূকরের মাংস ব্যবহার করলেও অন্য মাংসও এ পদ্ধতিতে রান্না করা যায়। কেবাং পদ্ধতিতে মাছ বা মাংসের সাথে সকল রকম মশলা একসাথে দিয়ে পোড়ানো হয়।  


ইন্দিরা বিশ্বাস   এস এম