ভ্রমণে ভোজন : বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী খাবার
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী খাবার মুন্ডী
বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী খাবার মুন্ডি এখন দেশের বিভিন্ন স্থানেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে; ছবি : সংগৃহীত
নৈসর্গিক দৃশ্যের কারণে বেশ জনপ্রিয় টুরিস্ট স্পট বান্দরবান। পাহাড়ের কোলঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এই ছোট শহরটি টুরিস্ট স্পট হিসেবে বেশ পুরনো হলেও এখানকার খাবারদাবার রাঙামাটি বা অন্যান্য জায়গার মত খুব বেশি স্বতন্ত্র নয়। তবে এখানকার পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে স্থানীয় মুন্ডি ইদানীংকালে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পর্যটকদের কাছে। এর বাইরে মেঘলার কাছে অবস্থিত 'হলিডে ইন' রেস্টুরেন্টের পাহাড়ি খাবার আয়োজন হতে পারে বেশ চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা। এই লেখায় দুইটি বিষয়ই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী মুণ্ডি : স্থানীয়ভাবে বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী খাবার মুন্ডি। আতপ চালকে দুই-তিনদিন পানিতে ভিজিয়ে পরিষ্কার করে শুকিয়ে ঢেঁকিতে ছেঁটে মুন্ডি তৈরির যন্ত্র ব্যবহার করে বানানো হয় নুডলসের মত এই মুন্ডি। স্থানীয়দের পাশাপাশি আগত পর্যটকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয় এই মুন্ডি। এই কারণে বান্দরবান শহরের উজানীপাড়া, মধ্যমপাড়া এবং বালাঘাটা এলাকায় তৈরি হয়েছে বেশ কিছু 'মুন্ডি হাউজ'। বাটি প্রতি ১০-২০ টাকায় বিক্রি হয় এই মুন্ডি। খাবার সময় গোলমরিচ ও পাহাড়ি মরিচের গুঁড়া, পেঁয়াজভাজা, ধনেপাতা, চিংড়ি ও শুঁটকিসহ পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের মশলা মিশিয়ে খাওয়া হয় মুন্ডি। বান্দরবান ঘুরতে এলে ভোজন রসিকেরা একবার চেখে দেখতে পারেন এখানকার বিখ্যাত এই খাবারটি।
হলিডে ইন রেস্টুরেন্ট : বান্দরবান শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রের অপর পাশের পাহাড়ে এক একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে হলিডে ইন ইকো রিসোর্ট। শহুরে ব্যস্ততাহীন কিছুটা নিরিবিলি কাঠের তৈরি নান্দনিক কিছু কটেজে রয়েছে থাকার ব্যবস্থাও। এছাড়া এখানকার রেস্টুরেন্টে মিলবে বিভিন্ন পাহাড়ি স্বাদের খাবার। কলাপাতার ওপরে সাদা ভাতের ভেতর থেকে উঁকি দেয়া সুগন্ধি পুদিনা পাতার সাথে মিলবে শসায় পাতানো লাল গাজর।
সঙ্গে চাপিলা ফ্রাই, লাউশাক, আলু ভর্তা, আদাফুল ভর্তা। পরিবেশনের ভিন্নতার পাশাপাশি খাবারের স্বাদও বেশ মনোহর বলে ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় জমান এই রেস্টুরেন্টে। আদাফুলের ভর্তার পাশাপাশি এখানে আরও মিলবে হলুদ ফুলের ভর্তা, থানকুনি পাতা, আধাসিদ্ধ সবজি, পাহাড়িদের পালা দেশি মুরগি। এখানকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ভর্তা, ফ্রাই, সবজি, ভাত সবকিছু রান্নার জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা রাঁধুনি। একেকজন একেকরকম খাবার তৈরিতে পারদর্শী হয়ে থাকে।
তাই খাবারের প্রকৃত স্বাদ ঠিকঠাক পাবার জন্য এই ব্যবস্থার প্রচলন। এছাড়াও সাধারণ খাবারের জন্য বান্দরবান শহরে খাওয়ার জন্য রয়েছে বেশকিছু রেস্তোরাঁ। এর মধ্যে রূপসী বাংলা রেস্টুরেন্টে, কলাপাতা রেস্টুরেন্ট, ফুড প্যালেস, রি সং সং, তাজিংডং ইত্যাদি রেস্তোরাঁয় খেতে পারেন।
যেভাবে যাবেন বান্দরবান : সারা দেশের সাথে বান্দরবানের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম সড়কপথ। সড়ক পথে ঢাকার ফকিরাপুল, সায়েদাবাদ, মতিঝিল, আরামবাগ, কমলাপুর, কলাবাগান থেকে বিভিন্ন কোম্পানির বাস বান্দরবানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। এসব ষ্টেশন থেকে এস.আলম, সৌদিয়া পরিবহন, হানিফ পরিবহন, ইউনিক সার্ভিস, শ্যামলী এন্টারপ্রাইজ, বি.আর.টি.সি, সেন্টমার্টিন , ঈগল পরিবহনের বাসগুলো যাত্রী পরিবহন করে থাকে। ভাড়া ৮শ থেকে ১হাজারের মধ্যে। সড়ক পথের যানজট এড়িয়ে আকাশ পথে আসতে চাইলে দেশের সব বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর হয়েও বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওনা করা যায়। চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট নামক বাস টার্মিনাল থেকে এবং রেলস্টেশন সংলগ্ন বি.আর.টি.সি ষ্টেশন থেকে বান্দরবানে উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বাস সার্ভিস চালু আছে।
বি: দ্র: যেকোনো জায়গায় গেলে সেখানকার পরিবেশ দূষিত হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা এবং স্থানীয়দের প্রতি সদয় হওয়া আমাদের দায়িত্ব।
তথ্যসূত্র : ১। m.banglanews24.com ২। bangla.dhakatribune.com