নিক্কো পার্ক : ঐতিহ্যের নগরী কোলকাতার অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : আকর্ষণীয় সব রাইডের জন্য বিখ্যাত কোলকাতার এই পার্ক

Nicco-Park-Kolkata ছোট-বড় সব বয়সের মানুষ ভিড় করে নিক্কো পার্কে। ছবি : রেভ 

কোলকাতা শহরের মানুষ প্রতিদিন কাটায় ব্যস্ততার মধ্যে। ব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে কোলকাতা শহরে বিনোদনমূলক স্থানের অভাবও নেই। ঐতিহ্যবাহী শহরটির সবচেয়ে বড় বিনোদনকেন্দ্র হচ্ছে নিক্কো পার্ক। কোলকাতার বিখ্যাত সল্ট লেক সিটিতে এই পার্কটি অবস্থিত। নিক্কো পার্কে ছোট-বড় সব বয়সী মানুষের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় রাইডসহ আরও অনেক বিনোদনের ব্যবস্থা। এজন্যই নিক্কো পার্ককে 'পশ্চিম বাংলার ডিজনিল্যান্ড' বলা হয়। ৪০ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত পার্কটির চারপাশের সবুজ পরিবেশ এখানে আসা মানুষের মন সতেজ করে তোলে।

হোলির দিন বাদে বাকি সব দিনই এই পার্ক খোলা থাকে। পরিবারের সদস্যদের সাথে এখানে মানুষজন সময় কাটাতে আসে। কোলকাতায় এমন পার্ক বানানোর ধারণা প্রথম আসে কোলকাতার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সময়ে। ৩০০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই ধারণাকে বাস্তব রুপ দিতে কাজ করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং নিক্কো গ্রুপের চেয়ারম্যান রাজিব কৌলের যৌথ উদ্যোগে বর্তমানের নিক্কো পার্ক নিজের রূপ লাভ করে।

নিক্কো পার্ক প্রথম উন্মুক্ত করা হয় ১৯৯১ সালের ১৩ই অক্টোবর। তখন এখানে মাত্র ১৩টি রাইড ছিল। বর্তমানে পার্কটিতে ৩৫টি রাইড আছে যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টি হল জায়ান্ট সাইক্লোন। এটি ২০০৩ সালে নতুন যোগ করা হয় পার্কের রাইডের তালিকায়। এই রাইডটি ৭৫০ মিটার লম্বা এবং এতে করে ৫৫ ফুট উঁচুতে ওঠা যায়। নিক্কো পার্কের বিভিন্ন আকর্ষণের মধ্যে পানির রাইডগুলো উল্লেখযোগ্য। এখানে রয়েছে পানির পুল, নায়াগ্রা জলপ্রপাত, টিউব স্লাইড, বডি স্লাইড, ক্রুসেডার রাইড ইত্যাদি।Nicco-Park ছবি : এক্সপেডিয়া

নিক্কো পার্কে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সুবিধা রয়েছে। যেমন : পুল টেবিল, হকি টেবিল, ডার্বি ইত্যাদি। এটি সোমবার থেকে শুক্রবার দুপুর দুইটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত খোলা থাকে। শনি ও রবিবারে দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। পরিবারের সবার সাথে ঘুরার জন্য রয়েছে প্যাডেল চালিত নৌকা, খেলনা ট্রেনসহ আরও অনেক রাইড। বাচ্চাদের জন্য রয়েছে চিল্ড্রেন্স কর্নার। নিক্কো পার্কে রয়েছে আইফেল টাওয়ার যা প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের আদলে তৈরি।

পার্কের গেট থেকে শুরু করে রাইড ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেখেই আঁচ করা যায় এটি কতটা ব্যয়বহুল পার্ক। পার্কটি বানাতে খরচ হয়েছিল আট কোটি রুপি। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই পার্কে অর্থ বিনিয়োগ করেছে। এদের মধ্যে রয়েছে ব্রিটানিকা ইন্ডাস্ট্রিজ, বাটা, নেসলে ইত্যাদি। এখন পর্যন্ত নিক্কো পার্ক বেশ কয়েকটি পুরষ্কার ও সম্মাননা পেয়েছে। বিশ্বের প্রথম পার্ক হিসেবে এটি আইএসও ৯০০২ সার্টিফিকেটও পেয়েছে।water-chute ছবি : নিক্কো পার্ক ডট কম

কোলকাতায় ঘুরতে গেলে সময় বের করে ঘুরে আসতে পারেন চমৎকার এই বিনোদনমূলক পার্ক থেকে।

প্রবেশ মূল্য : পার্কটিতে ঢুকতে হলে প্রতি একজনের জন্য ৩০০ রুপি খরচ হবে। শো এবং গেমের জন্য আলাদা খরচ হবে। প্যাকেজ হিসেবে খরচ পড়বে আরও বেশি।

কীভাবে যাবেন : নিক্কো পার্কে ঘুরতে যেতে হলে আপনাকে প্রথমে বাংলাদেশ থেকে কোলকাতায় যেতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই ভিসা এবং পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ থেকে বাস, ট্রেন এবং বিমানে চড়ে যেতে পারবেন প্রমোদ নগরী কোলকাতায়। বাসে চড়ে কোলকাতায় আসতে হলে শ্যামলী এনআর পরিবহন, গ্রিন লাইন, সোহাগ পরিবহণ, সৌহার্দ্য পরিবহন ইত্যাদি বাসে সরাসরি ঢাকা-কলকাতা যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে নন-এসি বাসে ভাড়া ৮০০-১,০০০ টাকা এবং এসি বাসে ১,৫০০-২,০০০ টাকা।

এছাড়া ঢাকা থেকে বাসে করে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে কোঁলকাতায় যেতে পারবেন। ট্রেনে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সুবিধাজনক উপায় হল মৈত্রী এক্সপ্রেস। সপ্তাহে চারদিন ( শুক্র, শনি, রবি, বুধ) মৈত্রী এক্সপ্রেসের ট্রেন ঢাকা-কোলকাতা যায়। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে সকাল আটটা দশ মিনিটে ট্রেন ছাড়ে।

তবে কোলকাতা খুব সহজে এবং কম সহজে যেতে চাইলে বিমানে যেতে পারেন। বাংলাদেশ বিমান, রিজেন্ট এয়ারলাইনস, নভো এয়ার, এয়ার ইন্ডিয়া, জেট এয়ারওয়েজের বিমানে যেতে পারবেন কোলকাতা শহরে। কোলকাতা শহরের শিয়ালদহ স্টেশন থেকে বাসে চড়ে যেতে পারবেন কিংবা ট্যাক্সি ভাড়া করে নিক্কো পার্কে যেতে পারবেন।

আবাসন : নিক্কো পার্কের একদম কাছাকাছি বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। এগুলো হলো : হোটেল ইস্ট প্যালেস, হোটেল হোয়াইট হাউজ, অমরাবতী গেস্ট হাউজ, ট্রিবো ট্রিপ রিভা, কলকাতা রেসিডেন্সী, অন্যতম।

খাবার : নিক্কো পার্কের ভেতরে খাবার রেস্তোরাঁ রয়েছে। এছাড়া আশেপাশে আরও বেশ কয়েকটি খাবারের হোটেল রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বোলারস ডেন, কে এফ সি, খাবার দোকান, গণেশ দ্য ক্যান্টিন অন্যতম।