দেশীয় ঐতিহ্যের সম্ভার নিয়ে দেশাল ফ্যাশন হাউজ
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : পোশাকে নতুনত্ব ও ভিন্নতা মূল আকর্ষণ
গ্রামবাংলার সংস্কৃতিকে তুলে ধরে ফ্যাশন হাউজ দেশাল। ছবি : প্রিয় ডট কম
বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে কাপড়ের বুননে ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস থেকে যাত্রা শুরু করে দেশীয় ফ্যাশন হাউজ দেশাল। শুরু থেকেই বাঙালি সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গকে ধারণ করে পোশাক তৈরি করে যাচ্ছে এই ফ্যাশন হাউজটি। দেশাল-এর তৈরি পোশাকে বাঙালির শেকড়ের গল্প ফুটে তোলে।
দেশের মানুষের জীবনযাত্রা, তাদের গল্প, বৈচিত্র নিয়ে তৈরি পোশাকগুলো খুব দ্রুত তরুণ প্রজন্মের মাঝে সাড়া ফেলে। ঋতু ও উৎসবভেদে তাদের পোশাকে নতুনত্ব ও ভিন্নতা বরাবরই সবাইকে আকর্ষণ করে। ২০০৫ সাল থেকে দেশাল ফ্যাশন হাউজ হিসেবে তাদের যাত্রা শুরু করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের তিন বন্ধু –ইশরাত জাহান, কনক আদিত্য ও সবুজ সিদ্দিক গড়ে তোলেন এই ফ্যাশন হাউজ। বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য, শিল্পকলা, সাহিত্য নতুন করে কাপড়ের মাধ্যমে পুনর্জীবিত করার লক্ষ্যে দেশাল এর পথচলা শুরু হয়। শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে এর প্রথম শোরুম চালু হয়। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আজ সারাদেশে দেশাল ১০টি আউটলেটে বিস্তৃত।
নিত্য নতুন ডিজাইন ও পণ্যের গুণগত মান দেশাল ফ্যাশন হাউজকে করে তুলেছে অনন্য। দেশালের পোশাকগুলো মূলত দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। পোশাকের জন্য কাপড় বাছাইয়ে সাধারণত সুতি কাপড়কেই প্রাধান্য দেয়া হয়। সুতি কাপড়ের উপর নকশা করে দেশজ সংস্কৃতি ও আধুনিকতার যুগলবন্দি ঘটিয়ে তৈরি করে নানান ডিজাইনের পোশাক।
এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, হাতের কাজের মাধ্যমে পোশাকের ওপর ভিন্নধর্মী নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। সুতি ছাড়াও দেশাল বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মসলিন, জামদানি, খাদি, তাঁত বস্ত্র নিয়ে কাজ করে। মসলিন, জামদানিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে চলছে এই ফ্যাশন হাউজ। এছাড়া দেশাল তাঁত শিল্পীদের সুদিন ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের তাঁতশিল্প নিয়ে গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করে।
দেশাল-এর পণ্যসমূহ :
ছবি : প্রিয় ডট কম
দেশালের প্রতিটি পোশাকে থাকে নতুনত্ব ও বৈচিত্র। এদের সব পণ্যের ডিজাইন মৌলিক এবং একটি অপরটি থেকে আলাদা। ভিন্ন ভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠানে নতুন নতুন ডিজাইন ও নকশার পোশাক নিয়ে হাজির হয় এই ফ্যাশন হাউজ। নারীদের জন্য দেশালের কালেকশনে রয়েছে সালোয়ার কামিজ, শাড়ি, ফতুয়া, কুর্তি, ওড়না ইত্যাদি। এখানকার সুতি, জামদানি, তাঁত কাপড়ের ওপর হাতের কাজ, আপ্লিক, ব্লক প্রিন্ট, এমব্রয়ডারি করা সালোয়ার কামিজ, কুর্তি সকলের পছন্দের শীর্ষে।
দেশালের শাড়ির কালেকশন বেশ উন্নত। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সিল্ক, কটন, জামদানি, মসলিন শাড়ির সমাহার রয়েছে এখানে। ভিন্ন ভিন্ন রঙ ও ডিজাইন থেকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেয়ার। দেশালে শাড়ির মূল্য ৫০০ থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। সালোয়ার-কামিজের দাম ৮০০-২ হাজার ৫০০ টাকা, কুর্তি ৫০০-১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪০০-৮০০ টাকার মধ্যে টপস পাওয়া যায়।
নারীদের পাশাপাশি পুরুষদের জন্যেও দেশাল নানা রঙ ও ডিজাইনের নতুন নতুন পাঞ্জাবি, শার্ট, ফতুয়া নিয়ে হাজির হয়। বাচ্চদের কথা মাথায় রেখে উজ্জ্বল রঙ ও ট্রেন্ডি সব ডিজাইনের পাঞ্জাবি, শার্ট, স্কার্ট, টপস, কামিজ রেখেছে তাদের সংগ্রহে। দেশালে ছেলেদের পাঞ্জাবি ৭০০-১৫০০ টাকা, ফতুয়া ৪০০-৮০০ টাকা, ছোটদের পাঞ্জাবি ৩০০-৫০০ টাকা, স্কার্ট ৫০০-৮০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। দেশাল ফ্যাশন হাউজে মেটাল, কাঠ, মাটির তৈরি গহনা, ঘরদোর সাজানোর জন্য বিছানার চাদর, বালিশ, কুশন কভার পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেলের কালেকশন রয়েছে এখানে।
আউটলেট সমূহ :
১) ১৫-২০, (প্রথম তলা), আজিজ সুপার মার্কেট, শাহবাগ, ঢাকা। ২) ৩০৬ (দ্বিতীয় তলা), মেট্রো শপিং মল, শুক্রাবাদ, ধানমণ্ডি, ঢাকা। ৩) লেভেল-৭, ব্লক- এ, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, পান্থপথ, ঢাকা। ৪) হাশিম টাওয়ার, ২০৫/১-এ, (প্রথম তলা), তেজগাঁও গুলশান লিঙ্ক রোড, ঢাকা। ৫) ১/এ, আফমি প্লাজা, বায়োজিদ বোস্তামি রোড, চট্টগ্রাম। ৬) দেশি দশ, বীর বিক্রম ইয়ামিন কমপ্লেক্স, কুমারপাড়া, সিলেট। ৭) মিল্লাত প্লাজা, রোমেনা আফাজ সড়ক, জলশ্বরীতলা, বগুড়া। ৮) শেফ’স টেবিল কোর্টসাইড, ইউনাইটেড সিটি, মাদানি এভিনিউ, ১২১২ ঢাকা। ৯) ইউনিমার্ট, রোড- ৯০, গুলশান-২, ঢাকা। ১০) ইউনিমার্ট, বাড়ি নং- ৮৮, ৮০, রোড- ৮/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা।
এছাড়া, ঘরে বসে দেশাল এর পণ্য ক্রয় করতে চাইলে তাদের ওয়েবসাইট-এ যেতে হবে।