বিশ্বব্যাপী চলছে করোনা মহামারী। করোনা থেকে বাচঁতে বলা হচ্ছে ঘরে থাকতে, অযথা বাইরে বের না হতে।
অনেকেই হয়তো ঘরে থেকে হতাশা বা বিরক্তি বোধ করছেন। বলা হয় অলস মস্তিষ্ক নাকি শয়তানের কারখানা।
করোনার এই সময়টিতে কীভাবে কাটছে আপনাদের দিন? ইতিহাসে কিন্তু দেখা যায় কর্মহীন অবস্থাতেই অনেক চমকপ্রদ কাজের নজির রয়েছে।
যেমন প্লেগের কারণে কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় শেক্সপিয়ার লিখেছিলেন কিং লেয়ার। তাহলে আপনি কীভাবে ব্যয় করছেন আপনার সময়?
হয়তো ভাবছেন মহামারী শেষ হলে ঘুরে দেখবেন অজানা সব জায়গা। তবে এখন সবচেয়ে জরুরী হলো আইসোলেশনে থাকা। আর তাই ঘরে থাকাকে উৎসাহিত করতে ক্যালিফোর্নিয়ার একজন শিল্পী সিরিজ পোস্টার এঁকেছেন। এতে করে ঘরের মধ্যে থেকেই বিভিন্ন রোমাঞ্চকর ভ্রমণের গল্প উঠে এসেছে। রোমাঞ্চকর এই ভ্রমণের সঙ্গী হতে পারেন আপনিও।
জেনিফার বায়েরে পোস্টার। ছবি : জেনিফার বায়ের
সোফাতে করতে পারেন সার্ফিং
সিরিজটির নির্মাতা জেনিফার বায়ের (Jennifer Baer) বায়েরের করোনা নিয়ে সচেতনতাধর্মী পোস্টারগুলো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে মার্চের দিকে। পোস্টারগুলো যেমন একইসাথে হাস্যরস তৈরি করে একই সাথে সচেতনতাও সৃষ্টি করে। যা এইসময়ে খুবই জরুরী।
রোমাঞ্চকর ভ্রমণ
ঘুরে আসুন নিজের বাথরুম থেকে
বায়েরের ঘুরে বেড়ানোর শখ সবসময়ের। তার বাবা- মা এয়ারলাইনস-এ কাজ করে। সেই সুবাদে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা হয়েছে তার। তিনি বলেন, ‘আজন্ম যার ঘুরে বেড়ানোর শখ, করোনার জন্য তাকে ঘরে বসে দিন কাটাতে হচ্ছে। যেন আমি আমার স্বাধীনতা হারাচ্ছি। আমি দেখলাম অনেকেই পিপিই এর দাবিতে রাস্তায়। সোফায় শুয়ে নিজেকে তখন স্বার্থপর মনে হচ্ছিলো। আর তখনই এই ধারণাটি মাথায় আসে।’
জেনিফার বায়েরে পোস্টার। ছবি : জেনিফার বায়ের
নিজের ঘরের গাছটিকে দেখেছেন আজ?
করোনার জন্যে দেয়া লক ডাউনের ফলে যখন তিনি ঘরে আবদ্ধ, তখনও কিছু মানুষ সামাজিক মাধ্যমে তাদের ঘুরতে যাওয়ার ছবি দিচ্ছিলো। যেন কিছুই হয়নি এমন ভেবে আড্ডা বা ঘুরাঘুরিতে ব্যস্ত ছিলেন। বায়ের তখন ভাবলেন, ‘সাধারণ মানুষকে যদি এভাবে সচেতন না করানো যায় তবে কীভাবে তারা বুঝবে এই সময়ের কঠিন অবস্থা সম্পর্কে? তখন তার মাথায় আসে হাস্যরসের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করানোর কথা’।
করোনাভাইরাসের মহামারী ঠেকাতে বায়েরের সচেতনতাধর্মী পোষ্টারগুলোর কাজ শেষ হয়নি। তিনি আশাবাদী, একাজে আরও অনেকেই তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে।
জেনিফার বায়েরে পোস্টার। ছবি : জেনিফার বায়ের
ক্যালিফোর্নিয়া লকডাউন করে দেয়ার ফলে বায়েরকে তার মে মাসের একটি ট্রিপ ক্যান্সেল করতে হয় এবং আবদ্ধ থাকতে হয় নিজের ঘরে। অলস সময়টিকে কাজে লাগাবার চিন্তা তখনই তার মাথায় আসে। কাজের সূত্রে এর আগেও বিভিন্ন পোষ্টার তৈরির অভিজ্ঞতা ছিল তার।
পৃথিবীজুড়েই এক কঠিন সময় পার করছে সারাবিশ্ব। লকডাউন মানে কোন উৎসব নয়, লক ডাউন মানে এক ক্রান্তিকাল। এই সময়ে নিজের যত্ন নিন, পরিবারের যত্ন নিন। চেষ্টা করুন সৃজনশীল কাজে সময় পার করতে।