জেনে নিন কিম জং উনের দেশে ভ্রমণে নিয়মাবলী

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর সরকারি অনুশাসনে থাকা দেশ উত্তর কোরিয়া

কঠোর নিয়মের মধ্যে উত্তর কোরিয়া ভ্রমন করতে হয় পর্যটকদের কঠোর নিয়মের মধ্যে উত্তর কোরিয়া ভ্রমন করতে হয় পর্যটকদের। ছবি : দা জাকার্তা পোস্ট

 উত্তর কোরিয়া অত্যন্ত কঠিন অনুশাসন মেনে চলা একটি দেশ। পৃথিবীর যেকোনো দেশের চেয়ে এ দেশটি সবচেয়ে কঠোর নিয়মাবলী মেনে চলে। দেশের জনগোষ্ঠীর যেমন রয়েছে নানা বাধ্যবাধকতা, তেমনই দেশে ঘুরতে আসা পর্যটকদেরও রয়েছে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা। উত্তর কোরিয়া ভ্রমণের সুবিধার্থে আসুন জেনে নেয়া যাক সে সকল নিয়মাবলীগুলো।

১। পর্যটকদের প্রত্যেকের ব্যাগ এবং ব্যাগের ভেতরের প্রতিটি জিনিস নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা। ট্রেনে, বাসে বা প্লেনে আপনি যে উপায়েই যান না কেন আপনাকে এই জেরার সম্মুখীন হতে হবেই।

২। উত্তর কোরিয়ায় ধর্মকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই যেকোনো প্রকারের ধর্মীয় কিতাব বা ধর্মীয় বই নিয়ে দেশে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ রয়েছে রাজনৈতিক যেকোনো প্রকার বই নিয়ে দেশে প্রবেশেও। পর্যবেক্ষণ করা হয় পর্যটকদের সাথে থাকা বইয়ের প্রতিটি পাতা।

৩। প্রত্যেক পর্যটকের মোবাইল ফোন পর্যবেক্ষণ করা হয়। চেক করা হয় ফোনে থাকা সকল ছবি। দেশটির সংস্কৃতি বা সরকার বিরোধী কোনো ছবি, গান, ভিডিও বা যেকোনো প্রকারের তথ্য পেলে তা মুছে দিতে হয়। অন্যথা দেশের ভেতরে প্রবেশ নিষিদ্ধ।

৪। দেশটিতে ঢুকার সাথে সাথে পর্যটকদের সাথে থাকে একজন করে টুরিস্ট গাইড। আপনি গাইড নিতে না চাইলেও আপনাকে জোরপূর্বকভাবে গাইড নিতেই হবে। এতে কোনও ছাড় নেই। আপনার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখবে গাইডরা। অতএব বলাই যায়, আপনি যদি একা ঘুরতে পছন্দ করেন, তবে উত্তর কোরিয়া আপনার জন্য নয়।

৫। টুরিস্ট গাইড তাদের ইচ্ছামতো পর্যটকদের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যান। পর্যটকরা  কেবলমাত্র দেশের শহীদদের শ্রদ্ধায় তৈরিকৃত এবং সরকার অনুমোদিত দোকান এবং স্থানগুলোতে যেতে পারে। শ্রদ্ধা নিবেদন করে ফুল দিতে হয় স্মৃতিসৌধ গুলোয়।যেকোনো কিছুর ছবি তোলার আগে গাইডের অনুমতি নিতে হয়। তাদের অনুমতি ব্যতীত একটি ছবিও তোলা যায় না।

৬। ভ্রমণকালীন পর্যটকরা কেউ জিন্সের প্যান্ট পড়তে বা সঙ্গে আনতে পারবে না। নিষিদ্ধ রয়েছে মেকআপ আনাও। পর্যটকরা টুরিস্ট গাইড ছাড়া অন্য কোনও দেশবাসীর সাথ কথা বলা মানে, সেই দেশবাসীর কপালে শনি ডেকে আনা। সেই দেশবাসীকে সরকার বিরোধী বলে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ভয়ে দেশের কোন মানুষ কোনো পর্যটকদের সাথে কথা বলে না।

উত্তর কোরিয়া ভ্রমণকারী উত্তর কোরিয়া ভ্রমণকারীরা থাকেন কঠোর নজরদারিতে। ছবি : সংগৃহীত

 ৭। অন্যান্য দেশের তুলনায় খাবারের তেমন কোনো বন্দোবস্ত নেই। রাস্তার মোড়ে মোড়ে নেই কোনো খাবারের দোকান। নেই কোনো স্ট্রিট ফুড।

৮। ধর্মীয় ব্যক্তি এবং সাংবাদিকদের এই দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ।

৯। ভ্রমণ শেষে পর্যটকদের তোলা সকল ছবি এবং ভিডিও চেক করে নিরাপত্তা বাহিনীরা। সরকার বিরোধী কোনও তথ্য থাকলে তা মুছে দেয়ার নির্দেশ থাকে।

১০। জেলের ন্যায় দেশটিতে কেবল যে পর্যটকেরা স্বাধীন নয়, তা না। স্বাধীন নেই সেই দেশের বসবাসকারী লোকজনও। দেশটির জনগণ সহজে অন্য কোনও দেশে ঘুরতে যাওয়ার অনুমতি পায় না।