অমৃতস্বারে মহারাজা রণজিৎ সিং এর মূর্তি; ছবি : উইকিপিডিয়া
পাঞ্জাবে অবস্থিত অমৃতস্বর (Amritsar) শহরটি বেশ বড় ওবং ব্যস্ত। বড় এই শহরটিতে অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। ইতিহাসে সমৃদ্ধ এই শহরটি ভারতের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। সিখ ধর্মাবলম্বীদের নিকট এই শহরটির মর্যাদা অসীম। এখানের খাবারের সুগন্ধ, দর্শনীয় স্থান, বৈচিত্র্যময় রাস্তা-ঘাট পুরো পৃথিবী জুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করে যাচ্ছে।
অমৃতস্বর শহরটির গোড়াপত্তন হয়েছিল ১৫৭৯ সালে। সম্রাট আকবর থেকে গুরু চতুর্থ রামদাস এক খণ্ড জমি কিনে এই শহরটির আদি যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ইংরেজ আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন এবং উপমহাদেশ পার্টিশনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এই শহর।
ইতিহাসের বিভিন্ন চড়াই উৎরাই শেষে শহরটি একই সাথে ধর্মীয়, ঐতিহাসিক এবং ভ্রমণপিয়াসুদের সবার কাছেই বেশ গুরুত্ব বহন করে। চলুন জেনে নেয়া যাক অমৃতস্বর শহরের বিখ্যাত স্থাপনা সম্পর্কে।
ভারতের স্বাধীনতা ও দেশ বিভাগের নানান ঐতিহাসিক দলিল দেখতে পাবেন এখানে; ছবি : রিরিটি ডট কম
এই জাদুঘরে প্রদর্শিত ছবিসমূহ বেশ আইকনিক। ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ের ছবির দেখা মিলবে এখানেই। ১৯৪৬ মহাত্মা গান্ধীর স্পিনিং হুইলের ছবি, পার্টিশনের আলোচনার সময়ে ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টবেটেনের ভাইসরয় হাউজে দাঁড়ানো ছবি, রেড ফোর্টে প্রধানমন্ত্রী নেহেরুর ভাষণ দেয়ার ছবিসহ অনেক আলোচিত ছবির দেখা মিলবে এখানেই।
ভারতের স্বাধীনতা এবং দেশ বিভাগের এই অমূল্য নিদর্শন দেখতে এখানে বহু পর্যটকের সমাগম হয়ে থাকে। স্বাধীনতার ৭০ বছর উপলক্ষে ২০১৭ সালে এটি উদ্বোধন করা হয়।
দ্য গোল্ডেন টেম্পল
অমৃতস্বরের অন্যতম দর্শনীয় স্থান দ্যা গোল্ডেন টেম্পল বা স্বর্ণ মন্দির; ছবি : উইকিপিডিয়া
পর্যটকদের অমৃতস্বর ঘুরতে আসার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই স্বর্ণ মন্দির যা 'হারমন্দির সাহিব' নামেও পরিচিত। শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত এই স্থাপনাটি সিখ ধর্মের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। প্রতিদিন অসংখ্য জনসমাগম হয়ে থাকে এই স্থাপনায়। ১০০ কেজি নিখাদ স্বর্ণ দিয়ে মন্দিরটির গম্বুজ বানানো হয়েছে। এ কারণেই একে গোল্ডেন টেম্পল বলা হয়। এখানের লঙ্গরখানার খাবার ও অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং ঐতিহ্যবাহী।
ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঐতিহাসিক জাল্লিয়ানওয়ালা বাগ মেমোরিয়াল; ছবি : টাইমস অব ইন্ডিয়া
স্বর্ণ মন্দিরের পাশেই ৭ একর লম্বা বাগানই জাল্লিয়ানওয়ালা বাগ। হাঁটা কিংবা টুকটাক কেনা কাটার জন্য জায়গাটি অত্যন্ত সুন্দর। মুগ্ধ করার মত স্ট্যাচু, কিছু বেঞ্চ ইত্যাদি জায়গাটিকে করেছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এই বাগানটির এক প্রান্তে টাওন হল এবং অন্য প্রান্তে গোল্ডেন টেম্পল অবস্থিত। এই জায়গাটি মর্মান্তিক এক ইতিহাসের সাক্ষী।
১৯১৯ সালে ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিদ্রোহের সময় তৎকালীন জেনারেল গুলি বর্ষণের আদেশ দেয়। ১০০০ জনেরও অধিক সে ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। এখানে এলেই সবাই অমৃতস্বর গণহত্যার প্রতিবাদস্বরূপ এবং শহীদের আত্মার সম্মান জানানোর জন্য নীরবতা পালন করেন।
দ্যা ওল্ড মার্কেট
ওল্ড মার্কেটে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে মিলবে মজাদার বিভিন্ন খাবারের; ছবি : পিটিসি পাঞ্জাব
এই স্থানের খাবার সুবাস আপনার খুদা উদ্রেক করার জন্য যথেষ্ট। অমৃতস্বর এর খাবারের জন্য পুরো পাঞ্জাবের মাঝে বিখ্যাত। ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবারের দেখা পাবেন এখানেই। এছাড়াও বিভিন্ন মিষ্টান্নের জন্যও এই জায়গাটি বিখ্যাত।
ওয়াগা বর্ডার
ওয়াগা বর্ডারের বিকাল বেলার প্যাট্রিওটিক সেশন; ছবি : উইকিপিডিয়া
অমৃতস্বর শহর থেকে নিকটেই এটি অবস্থিত। এই জায়গাটিতেই ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের বিভক্তিকরণ সীমারেখা টানা হয়েছে। এখানের সব থেকে সুন্দর দৃশ্যের দেখা মেলে সন্ধ্যা বেলায় পতাকা নামানোর সময়ে। উভয় দেশের সৈনিকেরা গেট খুলে একে অপরের দিকে এগিয়ে যায় যা জনসাধারণ চিয়ার আপ করে থাকে। এটি প্যাট্রিওটিক সেশন নামে পরিচিত যা বেশ জনপ্রিয়। বেশিরভাগ পর্যটক এটি সাধারণত মিস করেন না।
অমৃতস্বর ভ্রমণে পর্যটকদের রাত্রিযাপনের জন্য এখানে বেশ ভাল মানের হোটেল রয়েছে। অমৃতস্বরে উল্লেখিত স্থান ভ্রমণ আপনার বেশ সুন্দর এক অভিজ্ঞতা হতে পারে।