তুরা : মেঘালয়ের অপূর্ব পাহাড়ি সৌন্দর্যময় শহর

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : অফবিট ট্যুরিজম স্পট মেঘালয়ের পাহাড়ি এলাকা তুরা

 তুরা tura meghalaya

এমনই রোমাঞ্চকর পাহাড়ি বুনো সৌন্দর্যের দৃশ্য ছড়িয়ে রয়েছে এখানে; ছবি : ওয়ো রুমস


 স্বাধীনতার আগে ১৯৪৮ সালে শেরপুরের নলিতাবাড়ি উপজেলার নাকুগাঁও সীমান্তের সাথে ভারতের মেঘালয়ের বারাঙ্গাপাড়া থানার ডালু সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের জনগণের জন্য ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট চালু হলেও বিভিন্ন কারণে তা স্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের সাথে সীমান্ত সম্পর্ক রক্ষায় ১৯৯৭ সালে আবারও চালু করা হয় এই চেকপোস্টটি। ২০১৪ সালে এই সীমান্ত চেকপোস্ট পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একাংশসহ মেঘালয়, আসাম, অরুণাচল ও মিজোরাম এবং নেপাল ও ভুটানে ভ্রমণ পিয়াসুদের সহজতর রুট হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই সীমান্ত। ডালু সীমান্তের খুব কাছে মাত্র ৫০কিলোমিটার পার হলেই দেখা মিলবে অপূর্ব সুন্দর পাহাড়ি শহর তুরার। সম্প্রতি অফ বিট লোকেশন ট্যুরিজমে অন্যান্য শহরের সাথে যুক্ত হয়েছে ভারতের মেঘালয়ে অবস্থিত এই পাহাড়ি এলাকাটি।

শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তের আগে আহম্মদনগরের কাছাকাছি সোজা উত্তরে দূরের গজনী পাহাড় এবং তার পাশে কালো আরও উঁচু যে পাহাড় দেখা যায় তাই মেঘালয়ের তুরা পাহাড়। শেরপুরের বিভিন্ন উঁচু ভবন থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা মেলে এই তুরা পাহাড়ের। তুরা পর্বতমালা মূলত মেঘালয় জেলার পশ্চিম গারো পাহাড়ের প্রধান পর্বত মালা। এই পর্বতমালার প্রধান চূড়াই হচ্ছে তুরা পিক যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯০০মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। মজার ব্যাপার হল এই তুরা পিক থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ব্রহ্মপুত্র নদী কিংবা গ্রামও দেখা যায়। এছাড়াও এই চূড়ায় রয়েছে একটি ওয়াচ টাওয়ার, একটি পর্যটন বাংলো এবং সিঙ্কোনা বাগান।

শোনা যায়, গারো পাহাড় অঞ্চলের ডেপুটি কমিশনার গ্রীষ্মের সময় তুরা চূড়ার ওপর একটি কটেজে বাস করতেন। সেখান থেকেই তিনি নাকি নিয়মিত হাতির পিঠে চেপে তুরা শহরের নিচের দিকে ভ্রমণ করতে যেতেন। তুরা শহর থেকে এই পাহাড়ের দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। দক্ষিণ গারো পাহাড়ের পরিসীমায় অবস্থিত এই তুরা পিক বর্তমানে নকরেক জাতীয় উদ্যান দ্বারা পরিচালিত।

আরও পড়ুন : ওক, পাইন ও বার্চ গাছের ছায়ায় বেড়ে ওঠা পাহাড়ি গ্রাম পালমাজুয়া


 তুরা tura meghalaya

তুরাকে ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন মিথের প্রচলনও; ছবি : ন্যাটিভ প্ল্যানেটস


 এখানকার স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন মেঘালয়ের এই সুউচ্চ তুরা পিকে কোন এক প্রাচীনকালে দেবতাদের অধিষ্ঠান হয়েছিল। তাই এখনো এই শহরটিকে তারা বেশ পবিত্র বলেই গণ্য করেন। আরও প্রচলিত রয়েছে এই আসল নাম ছিল ‘ডুরা’ কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের শাসনামলে তাদের উচ্চারণের ঢং এর কারণে ডুরা রূপান্তরিত হয় তুরা নামে। তুরা শহরজুড়ে তুরা পর্বতের চূড়া এবং সংলগ্ন অববাহিকার কারণে এটি ভারত সরকারের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। পাহাড়ি এলাকায় নিরিবিলি দিন দুয়েক থাকার জন্য বাজেটের মধ্যে থাকতে পারে মনোরম এই তুরা শহরটি। পাহাড়ের কোলঘেঁষে মেঘের অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এখানে আরও রয়েছে নেহেরু ও গান্ধি পার্ক, বোটানিক্যাল পার্ক, রিসোর্ট, মনোরম খ্রিষ্টান চার্জসহ আরও বেশ কিছু বেড়ানোর স্থান।

আরও পড়ুন : রংবুল : দার্জিলিং এর অপার নৈসর্গের পাহাড়ি গ্রাম


যেভাবে যাবেন শেরপুরের নলিতাবাড়ির নাকুগাঁও এবং ভারতের ডালু সীমান্তের কাস্টমস এবং ইমিগ্রেশন শেষ করে যেতে হবে সীমান্ত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের বারাঙ্গাপাড়া বাজারে। তুরা যাবার জন্য এই বাজার থেকে পাওয়া যাবে বাস এবং উইঞ্জার (১৪ সিটের মাইক্রোবাস স্বরূপ গাড়ি)। বারাঙ্গাপাড়া বাজার থেকে তুরা অবধি জনপ্রতি ভাড়া পড়তে পারে ৮০-১০০ রুপি। ঘণ্টা দুয়েকের এই যাত্রায় চারপাশের আঁকাবাঁকা উঁচু নিচু পাহাড়ি সৌন্দর্য এক অপার্থিব ভ্রমণ অভিজ্ঞতার ঝুলি খুলে দেবে নিশ্চিত। তুরা’তে থাকার জন্য বেশ কিছু আবাসিক হোটেল থাকলেও আলাদাভাবে খাবারের হোটেলের সংখ্যা বেশ কম। সাধারণত আবাসিক হোটেলগুলোতেই খাবারের ব্যবস্থা থাকে। স্থানীয় হোটেলগুলোর মধ্যে হোটেল নটরাজ, রিকম্যান ও সুন্দরী বেশ ভাল। এছাড়াও রয়েছে হোটেল প্যারাডাউন ও রাজ কুমারী। বি:দ্র: যেকোনো জায়গায় গেলে সেখানকার পরিবেশ দূষিত হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা এবং স্থানীয়দের প্রতি সদয় হওয়া আমাদের দায়িত্ব।  

জোহরা মহসীন   এস এম


সোর্স: ১। www.jaijaidinbd.com ২। www.meghalayatourism.in/destinations/tura-peak ৩। sherpurtimes.com