চুল কেটে দেয়া জমিদারবাড়ি থেকে ঘুরে এসে
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: ঢাকার নিকটেই অবস্থিত এই জমিদার বাড়ি

ঐতিহাসিক নিদর্শন মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি এবং প্রকৃতির সান্নিধ্য পাবার জন্য মটরবাইকে ছুটলাম। তারিখটি ছিল ১০ আগস্ট। সঙ্গী দে-ছুট ভ্রমণ সংঘর সদস্য মারুফ। সকাল প্রায় পৌনে নটায় বাইক স্টার্ট। সাভার,আশুলিয়ার পথে বাইক ছুটছে । গাজীপুর হয়ে নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ। পুরো পথটাই যেন প্রকৃতির সন্তান।
রুপসি গিয়ে বামে মোড়। কিছুক্ষণ চলার পরই, মুড়াপাড়া জমিদার বাড়িতে কষে একখান ব্রেক। প্রথম দর্শনেই চোখ জুড়িয়ে যায়।বাড়ির পুরো দেয়ালজুড়ে দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য। সামনে-পেছনে রয়েছে শাণবাধাঁনো পুকুর। বিশাল উঠোন। ১৮৮৯ সালে জমিদার রাম রতন ব্যানার্জী এই বাড়িটির নির্মাণ শুরু করান। আর শেষ করেন তার নাতি জগদিস চন্দ্র ব্যানার্জী।
ইতিহাস
জগদিস চন্দ্র ব্যানার্জির দাদা রাম রতন ব্যানার্জী ছিলেন, নাটোর এস্টেটের কোষাধক্ষ। তিনি ছিলেন সৎ। তার সততার কারণেই উচ্চতর পদে অসিন হয়েছিলেন। কথিত আছে তিনি শুধু বাড়িটির ভিত্তি ও কাঠামো স্থাপন করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর তার ছেলে প্রতাপ চন্দ্র ব্যানার্জী পুরনো বাড়ি ছেড়ে পেছনে গিয়ে বাড়ি করে থেকে ছিলেন।

১৯০৯ সালে বাড়িটি সম্পন্ন হবার পর এলাকার জনপ্রিয় ব্যক্তি জগদিস চন্দ্র ব্যানার্জী নিজেই একজন জমিদার হয়ে উঠেন। তিনি ছিলেন দিল্লির দুই বারের নির্বাচীত কাউন্সিলর। তার আমলে প্রজাদের সুযোগ সুবিধার জন্য, অনেক কিছুই তৈরী করেছিলেন। সেই সঙ্গে শাসক হিসেবেও ছিলেন অনেক কঠোর। প্রজারা ঠিকমত খাজনা পরিশোধ না করলে, ধরে এনে চুল কেটে দিতেন।অবাধ্য প্রজাদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতেন।
১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময়, জমিদার জগদিস চন্দ্র ব্যানার্জী করকাতা চলে যান। দ্বিতীয় তলা বিশিষ্ট জমিদার বাড়িতে রয়েছে শতাধিক কক্ষ। আরো রয়েছে পুরাতন সব বৃক্ষ। ৪০ একরের জমিদার বাড়িটি এখন, মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাড়ির সামনে যতটা আকর্ষণীয়,ঠিক তার উল্টো পেছনের অংশটা, দিনের আলোতেই ভুতুরে পরিবেশ।জরাজীর্ণ ভগ্নদশায় থাকা ইমারতে,খানিকটা সময় ফটোসেশন। অতঃপর স্থানীয় কিশোর-তরুণদের সঙ্গে কিছুক্ষণ আড্ডা মেরে,আবারো ছুটে চলা। বাইক চলছে।
যে পথে যাই,সেই পথে না ফিরে অন্য পথে চলি। এতে ভ্রমণের মজাই আলাদা।নতুন কিছু দেখা ও চেনা যায়। চলতে চলতে রুপগঞ্জের ফেরিতে ভেসে, তিনশ ফিট পেরিয়ে জিন্দা পার্কের সামনে। স্থানীয় এক মসজিদে জহুর নামাজ আদায় করে বসে যাই পথের পাশে এক ঝুপড়ি হোটেলে।

খাবার
লাকড়ির চূলোয় রান্না করা। ভাত-ভর্তা,ডাল,গোস্ত আর বাইম মাছ। স্বাধের কথা আর নাই লিখলাম। জাস্ট ৫জনের ভাত দুইজনেই সাবাড়। খাবার শেষে চাইলাম,জিন্দা পার্কে হ্যামোকে ঝুলব। মারুফের বাঁধায় তা আর হল না। বাইক স্টার্ট, তরিকুলের ডাকে ছুটলাম হাওর পানে। আজ এই পর্যন্তই। অন্য আরেক সংখ্যায়, লিখব হাওর ভ্রমণের গল্প।
কীভাবে যাবেন
গুলিস্তান, সায়েদাবাদ হতে নারায়ণগঞ্জ জেলার ভুলতা পর্যন্ত, বিভিন্ন পরিবহনের বাস সার্ভিস রয়েছে। রুপসি/ভুলতা বাসস্ট্যান্ড হতে সিএনজি'তে মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি।
মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম
এস এম
Click Here To See More