গালওয়ে : সানন্দে অসাধারণ কিছু মুহুর্ত উপভোগ করুন
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : আয়ারল্যান্ড ভ্রমনে এই শহরে আসতেই হবে আপনাকে
আয়ারল্যান্ডের বিখ্যাত শহর গালওয়ে। ছবি : সংগৃহীত
গালওয়ে আয়ারল্যান্ডের পশ্চিম পাশে উপকূলে অবস্থিত সুন্দর একটি বন্দর শহর। আয়ারল্যান্ডের ভ্রমণ স্থানগুলোর মধ্যে এই শহরটি নিজের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য দ্বারা পর্যটকদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে খুব সহজেই। প্রতি বছর দেশের এবং দেশের বাইরে থেকে পর্যটকেরা ঘুরতে আসে এই শহরটিতে। নিজের পরিবার, বন্ধুবান্ধব, প্রিয়জনকে বা নিজেকে কিছু অসাধারণ মুহুর্ত উপহার দিতে চাইলে আয়ারল্যান্ডের গালওয়ে শহরটি হতে পরে আপনার গন্তব্যস্থল। 'সেকুলা সেকুলারামে লাউডাতিও এজুস মানেট'- এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত এই শহরটিকে 'উপজাতির শহর', 'উচ্চাভিলাষের কবরস্থান' নামেও ডেকে থাকে অনেকে। শহরটির আয়তন প্রায় ৫৪ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা ২৫ মিটার।
এই শহরে প্রায় ৮০ হাজার জনগন বসবাস করে। আকারে তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও এর স্পন্দনশীল পরিবেশটি বিশ্বজুড়ে দর্শকদের আকর্ষণ করে আসছে বহু আগে থেকেই। এই শহরটিরও রয়েছে এক বিশাল ইতিহাস। ধারনা করা হয়, ১১২৪ সালে কানাচকের রাজা, টায়ারডেলবাখ উয়া কনচোবায়ার দ্বারা নির্মিত হয়েছিল শহরটি। তারপর ক্ষমতার রথবদল, যুদ্ধ আর সময়ের গতিতে তৈরি হয়েছে আজকের এই গালওয়ে শহর। শহরটি আয়ারল্যান্ডের কালচার হার্ট হিসেবে পরিচিত। সংস্কৃতির এক অসাধারন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে গালওয়ে। স্থানীয়দের প্রানবন্ত জীবনধারা, বিভিন্ন উৎসব, চিত্রকর্ম যেন তাদের সংস্কৃতিকে বেঁধে রেখেছে। সাহিত্য, আইরিশ সংগীত, পপ সংগীত তাদের ভাষা, চিত্রকলা, থিয়েটারের কারণে তারা পরিচিত বিশ্বব্যাপী। খেলাধুলাতেও তারা পিছিয়ে নেই। স্থানীয়রা বেশিরভাগই বানিজ্যের মাধ্যমে জীবীকা নির্বাহ করে থাকে। তবে বিপুল সংখ্যাক লোক উৎপাদনের সাথে জড়িত। শহরটিতে উচ্চ শিক্ষার জন্য রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। জেনে নেয়া যাক গালওয়ে শহরটির পর্যটকদের আকর্ষনগুলো সম্পর্কে :
ল্যাটিন কোয়ার্টার :
প্রাণবন্ত ল্যাটিন কোয়ার্টারে। ছবি : টেক মি টু দ্যা ওয়ার্ল্ড
সেখানে দেখা মেলে ল্যাটিন কোয়ার্টারের। পাথরের রাস্তার পাশে কোয়ার্টারগুলো দেখে মুগ্ধ না হবার কোনো কারণ নেই।
আইয়ার স্কয়ার : ২০০০ সালে আইয়ার স্কয়ারটি পুনরায় তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি আধুনিক স্থাপনায় পরিণত হয়েছে।
কোয়ে স্ট্রিট : এই পথ ধরে হেঁটে উপভোগ করা যায় স্থানীয়দের জীবন ধারা। জানা যায়, এক নতুন দেশ এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে।
সিলথিল প্রোমনেড : এখানে দেখা মিলবে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি উপসাগরের।
গ্যালওয়ে ক্যাথিড্রাল :
ছবি : টুইটার
বিশাল একটি প্রাচীন স্থাপনা। ১৯৫৪ সালে এটির নির্মানকাজ শুরু হয়েছিলো।
সেন্ট নিকোলাস কলেজিয়েট চার্চ : ১৩২০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এই গির্জাটি নির্মান করা হয়। এখানে বিভিন্ন চিত্রকর্মের দেখা মেলে।
গালওয়ে সিটি জাদুঘর :
ছবি :গালওয়ে ট্যুরিজম
করিব নদীর তীরে অবস্থিত গ্যালওয়ে সিটি জাদুঘরটি ২০০৭ সালে একটি খোলা। এটি অনেকাংশে গ্যালওয়ের প্রত্নতত্ত্ব, লোক ইতিহাস, শিল্প এবং প্রাকৃতিক ইতিহাসকে আচ্ছাদিত করে রেখেছে।
কিরওয়ানের লেন : এটি একটি রাস্তা। চারপাশে স্থাপনায় ঘেরা এই রাস্তাটিতে হেটে প্রাচীব কিছু স্বাদ পেতে অনেকেই ভিড় জমায় এখানে।
স্পেনীয় খিলান : সিটি মিউজিয়ামের ঠিক সামনে এটি অবস্থিত।
ফিশারি ওয়াচটাওয়ার জাদুঘর :
স্থানীয় ফিশারি ওয়াচটাওয়ার জাদুঘর। ছবি : গালওয়ে ট্যুরিজম
এটি স্থানীয় জাদুঘর। এখানে স্থানীয় প্রাচীন কিছু দুর্লভ জিনিসের দেখা মেলে। এছাড়াও এই শহরটিতে ঘোরার মতো রয়েছে অনেক জায়গা। লঞ্চের দুর্গ, বন্য আটলান্টিক ওয়ে, অরণ দ্বীপপুঞ্জ, ডাংগুয়ার ক্যাসেলব্যাতীত গালওয়ে ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
থাকা এবং খাওয়া : কুলিন হাউজ, স্নুজলেস হোস্টেল, বাঙ্ক বুটিক হোস্টেল, গালওয়ে সিটি হোস্টেল, কিনলে হাউস, অ্যাশগ্রো হাউজসহ আরও অনেক হোটেল রয়েছে গালওয়েতে থাকার জন্যে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী একটু খোঁজ করলেই খোঁজ মিলবে থাকার জায়গার। ম্যাকক্যামব্রিজ, শেরিডান, ম্যাকডোনাগের সীফুডসহ আরো অনেক রেস্তোঁরা রয়েছে পুরো শহরজুড়ে। স্থানীয় খাবার এবং অপূর্ব পরিবেশ ও পরিবেশনের জন্য রেস্তোরাঁগুলো জনপ্রিয়।
যেভাবে যাবেন : বাংলাদেশ থেকে প্রথমে আয়ারল্যান্ডে গিয়ে সেখান থেকে যেকোনো যানবাহনেই যেতে পারেন গালওয়ে শহরটিতে। ইরানান বাস, সিটিলিংক বা গো বাসের সিডিউল রয়েছে শহরটিতে। ট্রেনেও যাওয়া সম্ভব। আয়ারল্যান্ড পশ্চিম বিমানবন্দর এবং শ্যানন বিমানবন্দর থেকেও বিমান যাত্রা করে শহরটির উদ্দেশ্যে।
তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া, ক্রেজি ট্যুরিস্ট