তাক লাগিয়ে দেয়া তুরস্কের ইস্তানবুল বিমানবন্দর

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল# দেখে নিন দৃষ্টিনন্দন ইস্তানবুল বিমানবন্দরের ইতিবৃত্ত



বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে বিখ্যাত ইস্তানবুল বিমানবন্দর। ছবি : প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল টুডে


যে শহরে এসে মিশেছে দুটো মহাদেশ সে শহরের চাকচিক্য আর আভিজাত্য কিছুটা বেশি হবে এটা সহজেই অনুমেয়। তার ওপর শহরটা যদি হয় ঐতিহ্যে ভরপুর তাহলে তো কথাই নেই। তেমনই এক শহর ইস্তানবুল। একসময় খ্রিস্টান শাসনাধীন কনস্ট্যান্টিনোপল, পরে মুসলমানদের বিখ্যাত অটোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী এই ইস্তানবুল পর্যটনের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শহর। সে কারণে ইস্তানবুল বিমানবন্দরের ব্যবহার ও প্রয়োজনীয়তা দুটোই অনেক বেশি ছিল। সে সমস্ত কিছু বিবেচনায় নিয়েই ২০১৮ সালে ২৯ অক্টোবর নিজেদের ৯৫ তম জাতীয় দিবসে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান উদ্বোধন করেন ইস্তানবুল বিমানবন্দরের। ইস্তানবুলে তৃতীয় বিমানবন্দর হিসেবে যাত্রা করা এই বিমানবন্দরটি বিশ্বের অন্যতম বড় এবং দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দরের একটি। ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল, এই বিমানবন্দরের সাথে যুক্ত করা হয় ইস্তাম্বুল আতাতুর্ক বিমানবন্দরের সকল কার্যক্রম। কেবলমাত্র একটি টার্মিনাল থাকলেও বেশ বড় পরিসরেই নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম এই বিমানবন্দর। ২০১৯ সালে প্রায় ৫২ মিলিয়ন যাত্রীদের পদচারণা ঘটেছিল এই বিমানবন্দরে। যদিও বর্তমান বছরে ৯০ মিলিয়নের বেশি যাত্রীকে সেবা দিতে সক্ষম এই বিমানবন্দর। আশা করা হচ্ছে আরও কিছু সংস্কার এবং উন্নয়ন কাজের শেষে এটি বছরে ২০০ মিলিয়ন যাত্রী সেবা দিতে সক্ষম হবে। তুরস্কের জাতীয় পতাকাবাহী সরকারি বিমান সংস্থা টার্কিশ এয়ারলাইন্স এই বিমানবন্দরের ৮০ শতাংশ ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। আধুনিক চকচকে এই বিমানবন্দরের ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এক কথায় চোখধাঁধানো। এছাড়া আগের আতাতুর্ক বিমানবন্দর থেকে অনেক বড় পরিসরে হবার কারণে ভিড়ের বালাই নেই বললেই চলে।


রাজকীয় সাজে সজ্জিত এয়ারপোর্টের অন্দর। ছবি : লাইফ বিওন ডেক্স


ইস্তানবুল বিমানবন্দরের অবস্থান শহরের উত্তর-পশ্চিম দিকের ইউরোপীয় অংশে। ইস্তানবুল শহরের এশিয়া অংশে এই শহরের দ্বিতীয় বিমানবন্দরটি অবস্থিত। ইস্তানবুলে তায়াকাদ্দিন মাহালেসিতে অবস্থিত এই বিমানবন্দরে টার্মিনাল সংখ্যা একটি। তবে ২০২৫ সাল নাগাদ ২য় আরেকটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। ৭টি পথে এই বিমানবন্দর থেকে যাত্রীবাহী বিমান ছেড়ে যায়। এদের মাঝে ১ এবং ২ নং গেট থেকে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হয়। বাদবাকি ৩ থেকে ৭ নং পথে ছেড়ে যায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। এই গেটগুলোর মধ্যে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের যাত্রীরা ৩, ৪ এবং ৫ নং গেইট ব্যবহার করেন। এছাড়া বাদবাকি সকল এয়ারলাইন্সের জন্য ব্যবহার করা হয় ৬ এবং ৭ নং গেইট।


বিমানবন্দর থেকে তুরস্ক ছবি : সি এন বি সি ডট কম


 ইস্তানবুল বিমানবন্দর থেকে মধ্য ইস্তাম্বুল পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। প্রায় ৫০ মিনিটের এই রাস্তায় প্রায় সারাদিনই বাস চলাচল করে। এছাড়া বিমানবন্দর থেকে শাটল ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিলাসবহুল এই শাটল ব্যবস্থায় ২০টি ভিন্ন লাইন ও ৬৫টি স্টেশন রয়েছে। সর্বমোট ১৫০টি বাস এই শাটলে চলাচল করে। এছাড়া সপ্তাহের সাতদিনই দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা চালু রয়েছে ট্যাক্সি সুবিধা। তিন ধরণের ট্যাএক্সি সুবিধা রয়েছে এই বিমানবন্দরে। কালো রঙের 'ই' টাইপ, নীল রঙের 'ডি' টাইপ এবং কমলা রঙের 'সি' টাইপ ট্যাক্সি।


টার্কিশ এয়ারলাইনসও যুক্ত হয়েছে ইস্তানবুল এয়ারপোর্টে। ছবি : বিজনেস ইনসাইডার


এছাড়া টার্মিনালে অন্যান্য অনেক সুবিধার মাঝে আছে খাবার সুবিধা। বিভিন্ন দেশি-বিদেশী খাবারের রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ক্যাফে এমনকি পানশালাও আছে এখানে। এছাড়া ২৪ ঘন্টাই চালু আছে শপিং সুবিধা। তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী বাজার ব্যবস্থাও চালু আছে এখানে। সেইসাথে নামাজের ব্যবস্থা, বাচ্চাদের খেলার জায়গা এবং আলাদা স্মোকিং জোনের ব্যবস্থা আছে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে। 

বাচ্চাদের সময় অতিবাহিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। ছবি : ওয়ান মাইল এট এ টাইম


 ইস্তানবুল বিমানবন্দরে গাড়ি পার্কিং এলাকার কথা আলাদাভাবে বলার দাবি রাখে। প্রায় চল্লিশ হাজার গাড়ি রাখার ব্যবস্থা আছে বিমানবন্দর সংলগ্ন অঞ্চলে। এছাড়াও ৫টি ব্লকে বিভক্ত প্রায় কয়েকতলা বিশিষ্ট জায়গায় ১৮ হাজার গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরে ইউরোপের বিভিন্ন রেন্ট-এ কার প্রতিষ্ঠান, যেমন এভিস, বাজেট, এন্টারপ্রাইজ, ইউরোপকারের জন্য আলাদা আলাদা ব্যবস্থা আছে। এছাড়া শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের সবখানেই বিশেষ সুবিধা রেখেছে  ইস্তানবুল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সেই সাথে আছে কনফারেন্স সুবিধা ও ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থা।  

ঐশ্বর্য মীম   এস এম