হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় : উত্তরবঙ্গে শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল উত্তরবঙ্গের এবং রংপুর বিভাগের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

"০০]hbpb_pic হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি : দেশ রূপান্তর

হাজী মোহাম্মদ দানেশ ছিলেন একজন প্রতিবাদী নেতা যিনি কৃষকদের জন্য লড়াই করে গেছেন। কৃষকের ওপর অন্যায়, অবিচার, নির্যাতন দেখে তিনি নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি। উত্তরবঙ্গে তিনি কৃষকদেরকে সংঘবদ্ধ করে তোলেন। কৃষকদের অধিকার আদায়ের 'তেভাগা আন্দোলনে' তিনি সক্রিয় নেতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। দিনাজপুরের মানুষের কাছে তাই হাজী মোহাম্মদ দানেশ একটি স্মরণীয় নাম। তাঁরই নামানুসারে উত্তরবঙ্গের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হয়েছে-হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

এটি ১৯৭৬ সালে এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন ট্রেনিং ইন্সটিটিউট হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৯৮৮ সালে এটিকে কৃষি কলেজে পরিণত করা হয়। এরপর ১৯৯৯ সালে সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষিত হয় এই প্রতিষ্ঠান। হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ১১ই সেপ্টেম্বর। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয় আরও পরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে এখনও নাম আসে প্রফেসর ড. মো মোশাররফ হোসাইন মিঞার।

বেশ কয়েকটি বিষয় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আলাদা করেছে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। যেমন : উত্তরবঙ্গের এবং রংপুর বিভাগের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এটি। আর সবচেয়ে বেশি বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীর আনাগোনাও রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। Dr_M_A_Wazed_Building ড. এম এ ওয়াজেদ বিল্ডিং। ছবি : আমাদের সময় ডট কম

দিনাজপুর মূল শহর থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে এই বিদ্যাপীঠের অবস্থান। প্রায় ১৩৫ একর জমির ওপর স্থাপিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বার খুবই সুন্দর। নতুন আগত যে কারও নজর কাড়তে সক্ষম লাল-সাদা রঙ্গের নকশাদার খিলান আকৃতির প্রবেশদ্বার। প্রবেশদ্বারের সাথে যুক্ত রয়েছে লোহার দরজা। দরজার নকশায়ও রয়েছে ভিন্নতা।

দরজার দুটো অংশেই চারকোণা কাঠামোর মধ্যে রয়েছে গোলাকার আরও একটি গঠন। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ইটের তৈরি দেয়াল দিয়ে ঘেরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবনে রয়েছে লাল-সাদার ছোঁয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৫টি একাডেমিক ভবন রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে একটি প্রশাসনিক ভবন, একটি টিএসসি (ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র)। প্রাকৃতিক পরিবেশের ছোঁয়াও পাওয়া যায় এই বিদ্যাপিঠে। এখানে রয়েছে নাম না জানা অনেক গাছে ভরপুর একটি উদ্যান। আরও রয়েছে ভেটেরিনারী চিড়িয়াখানা। এছাড়া আশে-পাশে বিচ্ছিন্নভাবেও অনেক গাছ দেখতে পাওয়া যায়। haji-danesh-inner ছবি : একুশে টিভি ডট কম

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে রয়েছে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে বিশাল বড় লাইব্রেরি। এছাড়া লাইব্রেরির একপাশে রয়েছে বইয়ের তাক, অন্যদিকে পড়ার জন্য রয়েছে সারি সারি চেয়ার-টেবিল। লাইব্রেরিতে বিভিন্ন গবেষণাপত্রের পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার বই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রয়েছে একটি শহীদ মিনার। শহীদ মিনারে ত্রিভুজ আকারের চারটি গঠন পাশাপাশি কিছুটা দূরত্ব দাঁড়িয়ে আছে। ত্রিভুজগুলো শহীদ মিনারের মাঝের ছোট মঞ্চের মত অংশকে যেন ঘিরে রেখেছে।

বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়টি অনুষদের অধীনে ৪৫টি বিভাগ রয়েছে। এছাড়া নেপাল, ভুটান, ভারত, নাইজেরিয়া এবং সোমালিয়া থেকে আসা বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে ১৯৫ জন। ছেলে-মেয়েদের আবাসিক হলের ব্যবস্থাও আছে। ছেলেদের জন্য চারটি এবং মেয়েদের জন্য তিনটি আবাসিক হল রয়েছে। এছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একটি আন্তর্জাতিক হল। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

ইন্টারনেট ব্যবস্থার পাশাপাশি রয়েছে একটি জিমনেসিয়াম, একটি সেমিনার কক্ষ, একটি বড় মসজিদ, খেলার মাঠ ও ক্যান্টিন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি। সেমিস্টার পদ্ধতিতে ২১ সপ্তাহে একেকটা সেমিস্টার শেষ হয়। এছাড়া ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে নানা পদকের ব্যবস্থা। উত্তরবঙ্গের প্রাণের বিদ্যাপীঠ হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দৃষ্টিনন্দন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা, গবেষণা সবকিছুতেই এগিয়ে চলছে পুরোদমে। যার ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিচরণও বেশি এখানে। দিনাজপুর এলে উত্তরবঙ্গের সেরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে যেন ভুলবেন না। কিছু স্মৃতি অবশ্যই নিয়ে যাবেন এই চোখ জুড়ানো প্রাঙ্গন থেকে।

কীভাবে যাবেন : বাবলু পরিবহণ, নাবিল পরিবহণ, শ্যামলী পরিবহন, হানিফ পরিবহণ, এস কে ট্রাভেলস এর বাসগুলো ঢাকা থেকে দিনাজপুর যাতায়াত করে। ট্রেনে যেতে হলে দ্রুতযান এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে দিনাজপুর যাওয়া যায়। দিনাজপুর নেমে একটি অটো বা সিএনজি নিতে হবে। দিনাজপুর মূল শহর থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার এবং মূল সড়কের পাশে হওয়ায় অটো, সিএনজিতে খুবই সহজে এবং কম সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানো যায়।

আবাসন : দিনাজপুরে অনেকগুলো সরকারি ও বেসরকারি আবাসিক হোটেল আছে। সরকারি হোটেলের মধ্যে রয়েছে সার্কিট হাউজ, পর্যটন মোটেল, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো ইত্যাদি। বেসরকারি হোটেলের মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক গেস্ট হাউজ, হোটেল সোনার তরী, স্বপ্নপুরী গেস্ট হাউজ ইত্যাদি।

খাবার : দিনাজপুরে বিভিন্ন ধরনের খাবার হোটেল রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু খাওয়ার হোটেল হলো : রুস্তম হোটেল, মৌচাক হোটেল, বিসমিল্লাহ হোটেল ও রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।  


তথ্যসূত্র : https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%80_%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A6_%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B6_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%93_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%AF%E0%A6%BC https://www.hstu.ac.bd/ https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A6_%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B6