সিটি অফ জয় : যে ৫টি বিষয়ের জন্য কোলকাতা পেলো এমন খ্যাতি!
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : সিটি অফ জয়

ভারতীয় উপমহাদেশ অনেক আগে থেকেই বিশ্ব সভ্যতার এক বিস্ময়কর ভূমি। উপনিবেশিক আমল থেকেই এই এলাকার একেকটা অঞ্চল একেক খ্যাতি লাভ করতে শুরু করে। বর্তমানে সময়ে ভারতের একেক অঞ্চল একেক বৈশিষ্ট্যের কারনে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে, বিশেষ করে প্রতিবেশি দেশ হিসেবে বাংলাদেশিদের কাছে আগ্রহের মাত্রাটা একটু বেশিই। কোলকাতা শহরটি আমাদের কাছে খুব পরিচিত, বিশেষ করে সেখানকার ভাষা, সংস্কৃতি ও মানুষের সাথে আমাদের বড্ড মিল। সেই শহরটি সমগ্র ভারতেই পরিচিত আনন্দের, প্রাণের শহর হিসেবে। আজকে ট্র্যাভেল বাংলাদেশের পাঠকদের জানানো হবে এমন ৫টি বিষয়, ঠিক যে কারনে এই শহরটিকে প্রাণের শহর বলা হয়।

ভারতের সাংবাদিক বীর সংঘভী ডিসকভারি চ্যানেলের কাছে একবার বলেন, ‘যদি আপনি নিজের শহরটিকে পরিষ্কার ও সবুজায়ন করতে চান, তাহলে দিল্লির সাথে লেগে থাকুন, আপনি যদি নিজের শহরকে সমৃদ্ধ ও বস্তুনিষ্ঠ করতে চান, তবে বোম্বাই চলে যান, যদি আপনি হাই-টেক এবং ড্রাফ্ট বিয়ারে পূর্ণ শহর চান, আপনার জায়গা বেঙ্গালুরু। তবে, যদি আপনি প্রাণের, যেখানটায় আত্মিক উচ্ছ্বাসের দেখা চান তাহলে আপনার ঠিকানা কোলকাতা’। উদ্ধৃতিটি তার মূল অর্থেও সত্য। শহরটির সংস্কৃতি, প্রেম, রহস্য, শ্রদ্ধা, উত্সাহ এবং অবশ্যই কিছু আশ্চর্যজনক দারুণ উপাদেয় রূপের প্রতিমূর্ত প্রতীক হিসাবে ‘আনন্দের শহর’ ডাকনাম অর্জন করেছে। কোলকাতা, বর্তমানে এমন একটি শহর হিসেবে পরিচিত যা পুরনো বিশ্ব এবং আধুনিক বিশ্বের মেলবন্ধনের একটি নিখুঁত অবস্থানকে ধরে রেখেছে। অতীত ঐতিহ্যের মাঝে আধুনিকতার এমন ছোঁয়া একে সময়ের উর্ধ্বে নিয়ে গেছে।

দুপুরের একটি বাধ্যতামূলক ভাতঘুমের কারনে জীবন সম্পর্কে কোলকাতাবাসীর অলস দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে হয়তো, তবে এই শহরটিতে আসা লোকেরা যখন ঘুরে ঘুরে বিশ্বের প্রাচীন ঐতিহ্যের স্বাক্ষী হবে তখন নিঃসন্দেহে মুগ্ধ হয়ে পড়বে। কোলকাতায় ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলোর সাহায্যে আপনি একটি লাভজনক চুক্তি করতে পারেন, যারা আপনাকে শহরটি ঘুরে দেখার এবং এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে সহায়তা করবে। এই শহরটির প্রতিটি রাস্তার, শহরের প্রতিটি কোণের একেকটি গল্প আছে। এখানে এমন পাঁচটি জিনিসের একটি তালিকা রয়েছে যা কোলকাতাকে ভারতের অন্যান্য শহরের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।
"সিটি অফ জয়" - খ্যাতি পাওয়ার কারণ
"সিটি অফ জয়" খ্যাতি পাওয়ার অন্যতম ৫টি কারণ সমূহ, ** উপনৈবেশিক শাসনামলে ১৯১২ সাল পর্যন্ত কোলকাতাই ছিল ব্রিটিশ আমলের রাজধান, এরপরে তা দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়। দিল্লীর আগে ব্রিটিশ শাসনামলের সব গুরুত্বপূর্ণ কাজের কেন্দ্র ছিল এই শহর। এছাড়াও রাজধানী দিল্লির পরে এটিই ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। আসলে এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের এক তাত্পর্যপূর্ণ শহর। সুতরাং এই শহরের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে ব্রিটিশ স্থাপত্যের। শহরটি ভ্রমণকালে তাই আপনিও পেয়ে যাবেন ব্রিটিশ আমলের এক অনুভূতি।
বাংলা সাহিত্য, পশ্চিম বাংলার সিনেমা বা সোপ অপেরার সাথে বাংলাদেশের সবাই মোটামুটি পরিচিত, আর তার সাথে পরিচিত হাওড়ার সৌন্দর্যের সঙ্গে। আর সন্ধ্যাবেলাতেই দেখা মেলে হাওড়ার আসল সৌন্দর্যের। যখন এটি আলোতে ঝলমল করে ঠিক বিয়ের কনের মতো। **কোলকাতাকে প্রায়শই ‘ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী’ বলা হয়। সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাদার তেরেসা, অমর্ত্য সেন এবং আরও অনেক বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পীদের কেন্দ্রস্থল এই কোলকাতা। শহরটির প্রতিটি পাড়ামহল্লায় বিকাল বেলায় দেখা মিলবে প্রবীনদের আড্ডার, যেখানে আদর্শ ও রাজনীতি নিয়ে আলোচনা চলে। এই শহরটির সাংস্কৃতিক রাজধানী হওয়ার জন্য রয়েছে অফুরন্ত ভাণ্ডার!

নাবিলা বুশরা এস এম