তুরতুক : ঘুরে আসুন ভারতের সর্বশেষ গ্রাম থেকে

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : জম্বু-কাশ্মীরে অবস্থিত পাহাড়ি সৌন্দর্যের তুরতুক গ্রাম


তুরতুক

রুক্ষ পাহাড়, নদী আর সবুজ বনানীর মিশেলে অপার সৌন্দর্যের গ্রাম তুরতুক; ছবি : মিডিয়াম ডট কম


 ভ্রমণের জন্য ভারত তুলনাহীন। তাইতো বাংলাদেশি পর্যটকরা ভারতের দার্জিলিং, সিকিম, মানালি, শিমলা, কুলু, উত্তরাখন্ডে ভিড় জমান সৌন্দর্য আস্বাদন করতে। কম খরচে খুব সহজেই এই জায়গাগুলোতে ভ্রমণ করা যায়। তবে, আপনি যদি ভারত ভ্রমণে কিছুটা ভিন্নতার ছোঁয়া আনতে চান তাহলে চলে যেতে পারেন ভারতের সর্বশেষ গ্রাম তুরতুকে। সীমান্তবর্তী এই গ্রামটি অপার্থিব সৌন্দর্যের অধিকারী।

তুরতুক

তুরতুক ভারতের জম্বু-কাশ্মীর রাজ্যের লেহ জেলার নুব্রা তেহসিলের অন্তর্ভুক্ত একটি গ্রাম। ভারতের লেহ শহর থেকে এর দূরত্ব ২০৫ কিলোমিটার । আর এটি বাংলাদেশ থেকে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সৃষ্টিকর্তা যেনও তার সকল সৌন্দর্য এই গ্রামটিকে আশীর্বাদ হিসেবে দান করেছেন। সীমান্তবর্তী এই গ্রামটি সেনাঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত এই গ্রামটি পাকিস্তানের বালতিস্থানের অংশ ছিল। বাংলাদেশ- পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ভারত এই গ্রামটি তাদের দখলে নিয়ে নেয়। এই গ্রামটিতে ২০১৬ এর মার্চ পর্যন্ত কোন বাংলাদেশী যাওয়ার অনুমতি ছিলও না। এখন চাইলে যেকেউ যেতে পারবেন ঘুরতে। এই গ্রাম থেকে ৭ কিলোমিটার দূরেই পাকিস্তান এর বর্ডার। যদিও এই পথে ভারত-পাকিস্তানে চলাচলের কোনও ব্যবস্থা নেই।

আরও পড়ুন : কল্পা : কৈলাস পাহাড়ের গায়ে কাল্পনিক সৌন্দর্যের গ্রাম



Nubra-Turtuk তুরতুক

তুরতুকের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া সায়ক নদ; ছবি : ট্রাভেলিং স্ল্যাকার ডট কম


প্রায় তিন হাজারের বেশী মানুষ বাস করে এই গ্রামে। তাদের প্রধান ভাষা বালতি। এই গ্রাম থেকে 'কে২' ( K2 ), চীন -পাকিস্তান সীমান্তে অবস্থিত বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ দেখা যায়। অপার সৌন্দর্যের এই গ্রামের চারপাশ পাহাড় দিয়ে ঘেরা। প্রকৃতির আশীর্বাদের সাথে এখানে আছে গ্রামবাসীর সহজ-সরল জীবনধারার অমায়িক সৌন্দর্য।

সৌন্দর্য

এই পুরো গ্রামটিই সবুজের চাদরে মোড়ানো। অপার নৈসর্গের ছোঁয়া এই গ্রামের বাঁকে বাঁকে। তবে অবাক করা ব্যাপার হল এতো সবুজে ঘেরা প্রকৃতির মাঝেই এই গ্রামের পাহাড়গুলো একদমই সবুজ শূন্য। পাহাড়গুলো পুরোই পাথুরে, মাটির, বরফের আবার কোনটা ইস্পাতের মতোই রুক্ষ ও কঠিন। এই পাহাড়গুলোর গায়ে এতোটুকুও গাছ বা ঘাস নেই। পাহাড়ের সর্বত্রই রিক্ততা। নানা রকম ফুল, ফল ,পাথুরে বাড়ি আর প্রবাহিত ঝর্ণার জল এই গ্রামটিকে করেছে ঈশ্বরের আশীর্বাদ। পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণা সজীব করেছে তুরতুক গ্রামকে। এছাড়া আছে সায়ক নদ। এই নদটি উত্তাল ও খরস্রোতা যা প্রাণ দান করেছে এই গ্রামে। তুরতুকের এই পাহাড়ের সারি, ঝর্ণা, ঝিরি ও নদী তাকে করেছে অনন্ত যৌবনা ও সতেজ।

আরও পড়ুন : রংবুল : দার্জিলিং এর অপার নৈসর্গের পাহাড়ি গ্রাম



তুরতুক ওয়াড় সিমেট্রি

তুরতুকে অবস্থিত ওয়ার মেমোরিয়াল; ছবি : উইকিপিডিয়া

 শীতে এখানকার পাহাড়গুলো শুভ্র বরফের চাদরে ঢেকে যায়। কিন্তু একটু রোদের পরশ পেলেই এই বরফ দ্রুত গলে পানি হয়ে পাশের সায়ক নদে এসে মিশে যায়। তাই যতই বরফ পড়ুক না কেনও এখানকার রোজকার জীবন তেমন একটা বাঁধাগ্রস্ত হয়না। এই গ্রামে ধান,গম, জব, আলু, কপিসহ অন্যান্য তরকারি, আপেলসহ নানা রকম ফলমূলের চাষ হয়। পুরো গ্রামই সুজলা-সুফলা শ্যামল রূপের। এখানকার সব বাড়ি-ঘরই পাথর দিয়ে তৈরি। পাথর সংগ্রহ করে একটার পর একটা বসিয়ে দিয়ে এই বাড়িগুলো নির্মাণ করা হয়।

কোথায় থাকতে পারবেন

এই গ্রামের মানুষের জীবন ধারণ বেশ সাদাসিধে। গ্রামবাসী অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ ও সহজ-সরল মনের। গ্রামটি প্রত্যন্ত হলেও এখানে বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আছে। এখানে প্রকৃতি যেমন উদার, তেমনি উদার এখানকার মানুষের মন। এই গ্রামের কিছুটা অবস্থা সম্পন্নরা তাদের নিজ বাড়ির বাড়তি রুমগুলোকে হোমস্টে হিসেবে গড়ে তুলেছে। তাই এই হোমস্টেগুলোতে আপনি একদম ঘরোয়া পরিবেশে থাকা-খাওয়ার সুযোগ পাবেন। একদম প্রশান্তিতে এখানে কয়েকটা দিন নিজের মতো করে অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারবেন।  

রুবাইদা আক্তার   এস এম