ধলেশ্বরী নদীর তীরের শাহ মেরিন রিসোর্ট, ঢাকা

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : শাহ মেরিন রিসোর্ট, ঢাকা


শাহ মেরিন রিসোর্ট, Shah Marine Resort

ছবি : সংগৃহীত


বর্তমান সময়ে অবকাশ যাপনে রিসোর্টগুলো ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সারা সপ্তাহের ব্যস্ততা শেষে পরিবার কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে তাই অনেকেই আজকাল চলে যান রিসোর্টে ঘুরতে। ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য তাই নানা ধরনের রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন বিনোদনের মিশেলে এই রিসোর্টগুলো সুন্দর সময় কাটানোর জন্য দারুণ গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। যারা সময়ের অভাব দূরে কোথাও যেতে পারছেন না তাদের কথা মাথায় রেখে ধলেশ্বরী নদীর ধারে গড়ে উঠেছে ‘শাহ মেরিন রিসোর্ট’ (Shah Marine Resort)। আনন্দময় সময় কাটাতে এখন আর বেশি দূরে যেতে হবে না, ঢাকার খুব কাছের এই রিসোর্টে চমৎকার এক অবকাশ কাটাতে পারবেন আপনি।

গাবতলির আমিনবাজার ব্রিজ থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে ধলেশ্বরী নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে এই রিসোর্ট। এখানে পা রাখলেই চোখে পড়বে সবুজ, সুন্দর একটি গ্রাম। গ্রামের গহীনে, একেবারে নিরিবিলি- নির্জন পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে এ রিসোর্টটি। এর একপাশে ধলেশ্বরী অন্য পাশে সবুজ গ্রাম। এমন নিসর্গের দেখা পেয়ে মনটা আনন্দে মেতে ওঠবে। প্রকৃতির ছায়াতলে আধুনিকতার মিশেলের গড়ে তোলা এই রিসোর্টটি ৪ বিঘা জায়গার ওপর গড়ে তোলা হয়েছে। এই রিসোর্টের মূল ভবন একটি পূর্ণাঙ্গ জাহাজের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে প্রবেশ করলে মনে হবে জাহাজটি আপনাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে উত্তাল সাগরের বুকে। রিসোর্টের দেয়ালে দেয়ালে জাহাজিদের ঘড়ি টাঙানো। জাহাজের ডেকের সাথে মিল রেখ রুমগুলোতে জানালার বদলে গ্লাসের আবরণ দেওয়া হয়েছে। রুম থেকেই দিগন্ত-জোড়া ধানক্ষেত আর ধলেশ্বরীর সৌন্দর্য চোখে পড়ে। রিসোর্টের একপাশে ধলেশ্বরী নদীর জল আছড়ে পড়ে। কানে আসে জলের কলকল শব্দ।



শাহ মেরিন রিসোর্ট, Shah Marine Resort

ছবি : সংগৃহীত



রিসোর্টের সার্ভিসগুলো

এই রিসোর্টে আছে আকর্ষণীয় সুইমিং পুল। যেকোনো সময়েই ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন এর নীল জলে। রাত নামার সাথে সাথে পুলের পানিতে জ্বলে উঠে লাল-নীল-সবুজ রঙের বাতি। পানির রঙ বদলে গিয়ে পুলটির সৌন্দর্য এসময় আরও বেড়ে যায়। নদীতে ঘুরে বেড়াতে চাইলে সে ব্যবস্থাও আছে এখানে। স্পিড-বোট কিংবা ট্রলারে করে নদীর বুকে ঘুরে আসতে পারবেন। তবে এর জন্য কিছু আলাদা খরচ হবে। রিসোর্টের আরও নানান আয়োজনের মধ্যে রয়েছে বারবিকিউ এর ব্যবস্থা। নদীর পাড়ে বসে পরিবার বা বন্ধুদের সবাই মিলে বারবিকিউ করতে পারবেন। রাতে নদীর শান্ত বাতাস আর বারবিকিউ এর স্বাদ দুইটো দারুণ ভালো লাগবে। রিসোর্টের আছে বড় মাঠ। এই মাঠে বাস্কেটবল খেলা যাবে। এছাড়া ইনডোর গেমসেরও ব্যবস্থা আছে এখানে। টেবিল টেনিস, কেরাম, লুডু ইত্যাদি খেলতে পারবেন। শরীরচর্চার জন্য এখানে একটি জিমনেশিয়ামও আছে।

বাস্কেট বল খেলার গ্রাউন্ডের পাশেই নদীর দিকে মুখ করে একটা কাঠের দোলনা ঝোলানো আছে। একটা ছাউনি দেয়া আছে এই দোলনার ওপরে। এই দোলনায় দুলতে দুলতে ধলেশ্বরীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। এই রিসোর্টের রুমগুলোতে প্রায় ৬০ জন অতিথির ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। কর্পোরেট ইভেন্ট, পিকনিক অথবা গেট টুগেদারের জন্য প্রায় ১ হাজার অতিথির ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন রুমও আছে এখানে। তাই যেকোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারবেন এই রিসোর্টে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমসহ একদিনের জন্য রিসোর্টে থাকতে খরচ পড়বে জনপ্রতি তিন হাজার টাকা। এছাড়াও আছে কাপল প্যাকেজ। ডে-লং অথবা নাইট-স্টে দুইভাবেই এখানে থাকা যাবে। ডে-লং প্যাকেজ ৪ হাজার টাকা (২ জন) আর নাইট-স্টে প্যাকেজ ৬ হাজার টাকা (২ জন)। এখানে ৩-৭ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ৫০ শতাংশ ছাড় দেয়া হয়। এই প্যাকেজগুলোতে থাকছে দুপুরের খাবার, সন্ধ্যার নাস্তা, রাতের খাবার, এসি রুম, সুইমিং পুল, ওয়াইফাই, গাড়ি পার্কিংসহ আরও বেশ কয়েকটি সুবিধা।

যোগাযোগ :

ফোন : ০১৯৬৬৫৯৪০১১

ফেইসবুক পেইজ : https://www.facebook.com/smrresort/

ওয়েবসাইট https://shahmarineresort.com/


যেভাবে যাবেন :

ঢাকা থেকে যাবেন হেমায়েতপুর। সেখান থেকে সোজা চলে যাবেন সিঙ্গাইর ব্রিজে। ব্রিজ পেরিয়ে বাম দিকে প্রথম যে সরু সড়কটি চলে গেছে সেটি দিয়ে এগুলেই পেয়ে যাবেন শাহ মেরিন রিসোর্ট।  

রুবাইদা আক্তার   এস এম