লাকুটিয়া, জমিদার বাড়ি, বরিশাল

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : যে জমিদার পরিবারের নির্মিত কলেজ থেকেই শুরু শের-ই-বাংলা’র কর্মজীবন


লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি, বরিশাল।

লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি, বরিশাল। ছবি : উইকিপিডিয়া

ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি প্রায় ৪০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে। বরিশাল শহরের উত্তর দিকে লাকুটিয়া গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত। এখানে জমিদারদের বেশ কিছু সমাধিসৌধ এবং মন্দিরের দেখা পাবেন। আটচালা দেউল-রীতিতে নির্মিত মন্দিরগুলো মোটামুটি অক্ষতই রয়েছে। প্রজাদরদী জমিদার রাজচন্দ্র রায় এই জমিদার বাড়ি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বরিশাল বিভাগের অন্যতম পুরনো এই জমিদার বাড়িতে নানা ধরনের শিল্পকর্ম রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, উনিশ শতকে এই বাড়িটিতে নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হত।

আরও পড়ুন :  অক্ষত বরিশাল বিভাগ ভ্রমণের সুখস্মৃতি

জমিদার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের জনহিতকর কাজ করেছেন। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে প্রজাকল্যানে রাস্তা নির্মাণ করেছেন এই জমিদার পরিবারের সদস্যরা। এই জমিদার পরিবারের নির্মিত ‘রাজচন্দ্র কলেজ’ থেকেই শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক তার কর্মজীবন শুরু করেন। লাকুটিয়া জমদিরাদের উল্লেখযোগ্য স্থাপনা হচ্ছে তাদের মন্দিরসমূহ। একাধিক মন্দির রয়েছে এই জমিদার বাড়িতে। সবচেয়ে উঁচু মন্দিরটি পংকজকুমার রায় চৌধুরী তার পিতা-মাতার স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মাণ করেছিলেন।

এখানে একটি মঠ, বড় দীঘি, মাঠ এবং দৃষ্টিনন্দন জমিদার বাড়ি দেখতে পাবেন। জমিদার বাড়ির মূল প্রবেশপথের পূর্বে আপনাকে লোহার দরজা পেড়িয়ে যেতে হবে। শান বাঁধানো ঘাট করা সুন্দর একটি পুকুর দেখতে পাবেন মূল প্রবেশপথের বা দিকে। পাশেই আম বাগানের দেখা মিলবে। রানীর দীঘি নামে খ্যাত এই জায়গাটি। বিএডিসি বর্তমানে এই বাড়িটি দেখাশোনা করে। এক পাশে রয়েছে বিএডিসির ট্রাক্টর ঘর এবং অন্য পাশে তাদের অফিস এবং গোডাউন। বাড়িটির তিন পাশ ঘিরে রয়েছে ধানের জমি।


লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি, বরিশাল।

লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি, বরিশাল। ছবি : লোনলি ট্রাভেলার


কয়েকশত বছরের পুরনো হলেও এখানের দ্বিতীয় তলার অংশটি নতুনের মতোই। অবহেলিত হয়ে পড়ে থাকলেও পর্যটকদের আনাগোনা থাকে সবসময়েই। অসংখ্য মানুষ জমিদার বাড়িটি দেখতে আসেন। অনেকেই বন্ধুদের সাথে অলস সময় কাটিয়ে যান। আবার অনেকেই আসেন ছবি তুলতে। এখানের দীঘির পাড় শীতকালে পিকনিক স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই দীঘিতে বেশ বড় সুন্দর পদ্মফুল ফোটে। বরিশালের সবথেকে বেশি পদ্মফুল নাকি এই দীঘিতেই ফুটে। একটি দীঘি, দুটো বাড়ি এবং তিনটি পুরনো মন্দির সব মিলিয়ে ইতিহাস সমৃদ্ধ এবং ঐতিহ্যবাহী এই জায়গাটি। চারশো বছরের পুরনো ইতিহাস নিয়ে সগৌরবে এটি তার অস্তিত্ব জানান দিয়ে যাচ্ছে। বরিশাল ভ্রমণে অবশ্যই এই স্থান থেকে ঘুরে আসা উচিত। উল্লেখ্য যে, ভবনটি অত্যধিক পুরনো। সেজন্য প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা টানানো রয়েছে।


লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি, বরিশাল

লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি, বরিশাল। ছবি : লোনলি ট্রাভেলার



যেভাবে যাবেন :

ঢাকা থেকে বরিশালে লঞ্চ কিংবা বাস উভয়ভাবেই যাওয়া যায়। আপনি আপনার সুবিধামত যেকোনো এক মাধ্যমে বরিশালে যেতে পারেন। বাসে যেতে চাইলে গাবতলি বাস টার্মিনাল থেকে বরিশালগামী বাসে উঠবেন। ভোর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নিয়মিত বিরতিতে বাস বরিশালের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। বরিশালগামী বিভিন্ন পরিবহনের বাস পাবেন। নন-এসি এবং এসির ভাড়া ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা যা পরিবর্তনশীল। বরিশালে নতুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ড থেকে নেমে শ্মশান মোড়ে এসে লাকুটিয়া বাবুরহাটে যাওয়ার জন্য অটোরিকশা বা টেম্পো পাবেন।

আরও পড়ুন :  বরিশাল, পটুয়াখালী বা দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চের সুযোগ-সুবিধা, ভাড়া, সময়সূচী

নৌপথে যেতে চাইলে সদরঘাট টার্মিনাল থেকে বরিশালগামী লঞ্চে উঠতে হবে আপনাকে। রাত ৮-৯.৩০ টায় এই লঞ্চ ছেড়ে যায় এবং পরদিন ভোরে আপনি বরিশালে পৌছবেন। লঞ্চ থেকে নেমে লাকুটিয়ায় যেতে পারবেন।

যেখানে থাকবেন : হোটেল গ্র্যান্ড প্লাজা, হোটেল এথেনা ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল হক ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন ভালো মানের হোটেল পাবেন বরিশালে রাত কাটানোর জন্য।  

খালিদ বিন জামান   এস এম