গুঠিয়া মসজিদ : এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মসজিদ

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : গুঠিয়া মসজিদের মূল নাম বাইতুল আমান

 বাইতুল আমান Guthiya_Masjid,_Barishal গুটিয়া মসজিদ

বিশালাকার এই মসজিদটি স্থাপত্য সৌন্দর্যের দিক দিয়েও নজরকাড়া; ছবি : উইকিপিডিয়া


 বরিশাল বিভাগের অন্যতম বিখ্যাত স্থাপনা গুঠিয়া মসজিদ। পুরো এশিয়ার মাঝেও এটি অন্যতম বৃহত্তম জামে মসজিদ। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুটিয়ার চাংগুরিয়া গ্রামে এই মসজিদটি অবস্থিত। প্রায় ১৪ একর এলাকা জুড়ে বিশাল এই মসজিদটি নির্মিত। যদিও এই মসজিদটির প্রকৃত নাম বাইতুল আমান তবে এটি গুঠিয়া মসজিদ নামেই সমাধিক পরিচিত। ব্যক্তিগতভাবে গুঠিয়া ইউনিয়নের এস সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু এই মসজিদ এবং ঈদগাহ কমপ্লেক্সের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন ২০০৩ সালে। ২০০৬ সালে এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়। বলা হয়ে থাকে যে, এই মসজিদের নির্মাণ কাজে ২ লাখ ১০ হাজার শ্রমিক কাজ করেছেন।

মসজিদটির তত্ত্বাবধায়নের জন্য ৩০ জন কর্মচারী রয়েছেন। একত্রে প্রায় ১,৫০০ মুসল্লি এখানে নামাজ পড়তে পারেন। মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও ঈদগাহ কমপ্লেক্সটিতে ২০,০০০ হাজার লোক একত্রে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন। এই মসজিদটির মিনার প্রায় ১৯৩ ফুট উঁচু। মসজিদটিতে খুবই উচ্চমানের কাঁচ, বোস স্পিকার এবং ফ্রেম ব্যবহার করা হয়। পাশ্চাত্যের বিখ্যাত মসজিদগুলির মত শৈল্পিক মাধুর্য এই মসজিদেও লক্ষ্য করা যায়। পুরো মসজিদটি নির্মাণে ২১ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : নান্দনিক স্থাপত্যের নিজাম হাসিনা মসজিদ, ভোলা এই মসজিদ কমপ্লেক্সে এতিমখানা, একটি ডাকবাংলো, লেক-পুকুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের দেখা পাবেন। মূল কমপ্লেক্সের প্রবেশপথের ডান দিকে পুকুর এবং পুকুরের পশ্চিম দিকে মসজিদ। ঈদগাহে প্রবেশপথের দু-পাশে রয়েছে দুটি ফোয়ারা। নামাজের সময় ব্যতীত এই মসজিদটি দর্শনার্থীদের জন্য বিকেল ৪টা থেকে খুলে দেয়া হয়। তবে সন্ধ্যার পর পরই এই মসজিদটির আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। অসংখ্য আলোর কারসাজিতে এই মসজিদের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অসংখ্য দর্শনার্থী এই মসজিদটি দেখতে আসেন। এখানে বিভিন্ন পবিত্র স্থান তথা কাবা শরীফ, আরাফার ময়দান, মুযদালিফাহ, মিনা, জাবালে নূর ও জাবালে সূর পাহাড়, নবীর জন্মস্থান, মা হাওয়ার কবরস্থান, খলিফাদের কবরস্থান, জাবালে রহমত, মসজিদ এ কু’বা, জান্নাতুল বাকী, মসজিদে নববী সহ বিভিন্ন বিখ্যাত স্থানের মাটি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

এছাড়াও জমজম কূপের পানি, হযরত আব্দুল কাদের জিলানী(র:) এর হাতের লিখা তাবিজ ও দুটি পয়সা এবং হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী(র:) এর মাজারের মাটিও রয়েছে এখানে। দর্শনার্থীরা এখানে এসব নিদর্শন দেখতে এবং নামাজ আদায় করতে ভিড় জমান প্রতিনিয়ত। বরিশাল ভ্রমণে অবশ্যই এই স্থানে ভ্রমণের চেষ্টা করবেন।


 বাইতুল আমান Guthiya_Masjid,_Barishal গুটিয়া মসজিদ

রাতের বেলায় মসজিদটি আরও আলোকোজ্জ্বল ও চমকপ্রদ হয়ে উঠে; ছবি : উইকিপিডিয়া


 কিভাবে যাবেন ঢাকা থেকে সড়ক কিংবা নৌপথে বরিশাল যেতে পারেন। ভোর ৬টা হতে গাবতলি বাস টার্মিনাল থেকে বরিশালগামী বাস ছেড়ে যায়। এসব বাস মাওয়া এবং পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে বরিশালে যায়। নন-এসি এবং এসি বাস ভাড়া ৫০০-৮০০ টাকা যা পরিবর্তনশীল। সাকুরা,হানিফ, ঈগলসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাস যাতায়াত করে বরিশালে। লোকাল বাসের ভাড়া কম হলেও সময় বাচাতে এগুলো পরিহার করায় শ্রেয়। আপনি নৌপথেও বরিশাল যেতে পারেন।

সদরঘাট টার্মিনাল থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে সুন্দরবন ১০/১১, সুরভী ৮/৯, পারাবত ১১/১২ সহ বেশ কিছু লঞ্চ ছেড়ে যায়। এসব লঞ্চেও বরিশালে পৌঁছোতে পারবেন। লঞ্চের ডেক ভাড়া ১৫০ টাকা, ডাবল কেবিন ও ভিয়াইপি কেবিন ভাড়া যথাক্রমে ১৬০০ এবং ৪,৫০০ টাকা। বরিশাল শহর থেকে মাহেন্দ্রা গাড়ি, বাস, সিএনজি কিংবা অটোরিক্সাযোগে আপনি গুটিয়া মসজিদে যেতে পারবেন। আরও পড়ুননীল মসজিদ খ্যাত ইস্তানবুলের সুলতান আহমেদ মসজিদ : তুরস্ক


কোথায় থাকবেন বেশ ভালোমানের আবাসিক হোটেল পাবেন বরিশালে রাত কাটানোর জন্য। হোটেল হক ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল এথেনা ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল গ্র্যান্ড প্লাজা বেশ ভালো মানের হোটেল। কোথায় খাবেন বরিশালে আপনি সামুদ্রিক খাবারের দেখা পাবেন বিভিন্ন হোটেলেই। এছাড়াও দেশী ও স্থানীয় খাবারও পাবেন হোটেলগুলোতে। আপনার পছন্দমত খাবার অনুযায়ী হোটেল সহজেই খুঁজে পাবেন বরিশালে।      মোঃ খালিদ বিন জামান   এস এম