হোম কোয়ারেন্টাইন ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে হোম কোয়ারেন্টাইন এ থাকাই আক্রান্ত দেশগুলোর মানুষের একমাত্র সমাধান



হোম কোয়ারেন্টাইন

ছবি : সংগৃহীত


করোনা ভাইরাস বর্তমানে সারা বিশ্বজুড়ে এক আতংকের নাম। এর প্রবল প্রাদুর্ভাব বিশ্ববাসীকে করেছে ভয়ার্ত। এক অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে গিয়েছে মানুষের জীবন। প্রতিনিয়ত এই মহামারি নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে নানান খবর। যা সকলের মনে আতঙ্ক ও অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে হোম কোয়ারেন্টাইন এ থাকাই আক্রান্ত দেশগুলোর মানুষের একমাত্র সমাধান। আমাদের দেশেও করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে দেশবাসী। এতে করে যাদের এনজাইটি ও হাই ব্লাড প্রেশার রয়েছে তাদের স্বাস্থ্য-ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে হোম কোয়ারেইন্টাইনে থাকাকালে সব বয়সী মানুষেরই মানসিক স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকাকালীন সময়ে নিজের ও পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কি করতে পারেন তা নিচে দেয়া হল:

১। পরিবারের সাথে সময় কাটান :

হোম কোয়ারেইন্টাইনে থাকাকালে একাকীত্ব অনুভব হওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার। এই সময়ে মন ভালো রাখতে আপনার পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটান। আমাদের দৈনন্দিন ব্যস্ততায় পরিবারকে সময় দেয়া হয়ে উঠেনা। এসময় পরিবারের সকলে মিলে গল্প করুন, ভালো কোনও মুভি দেখুন,এছাড়া বিভিন্ন ইনডোর গেমসও খেলতে পারেন- এতে পরিবারের শিশুদেরও মন প্রফুল্ল থাকবে।

২। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সংযত হোন :

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার ভয় এবং অনিশ্চয়তা মেনে নিতে না পারাই এনজাইটি ডিজঅর্ডারের সাধারণ লক্ষণ। যাদের এই সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘরে আবদ্ধ থাকার কারণে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা( ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে। এমন অবস্থায় নিজের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য খবর পড়া যথাসম্ভব কমিয়ে দিন। সংবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত নানান রকম খবর ছড়িয়ে পড়ছে। করোনা ভাইরাস সম্পর্কে অনেক ভুল তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনে। তাই বিশ্বাসযোগ্য মাধ্যম ছাড়া অন্য উৎসের তথ্যে বিশ্বাস করবেন না। নিজেকে ও প্রিয়জনদের সুরক্ষার জন্য করণীয় বিষয়গুলো জেনে প্রস্তুতি নিন। নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্যের আপডেট জেনে নিন। সবকিছু পড়ে উদ্বিগ্ন হবেন না।

৩। নিয়মিত ব্যায়াম করুন :

ব্যায়াম শুধু শরীরের জন্যই নয় মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। ঘরে বসেই নিয়মিত সকাল ও বিকেলে শরীর চর্চা করতে পারেন। নানা রকমের ফ্রি হ্যান্ড এক্সেসাইজ রয়েছে। প্রয়োজন হলে ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখে নিতে পারেন। এতে করে আপনার শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকবে।

৪। ম্যাডিটেশন ও যোগ ব্যায়াম করুন :

এনজাইটি ও অস্থিরতা কাটাতে ম্যাডিটেশন অত্যন্ত উপকারী। নিজ বাসায় কোয়ারেন্টাইনে থাকাকালে দুশ্চিন্তা দূর করতে নিয়মিত ম্যাডিটেশন করতে পারেন। ম্যাডিটেশন মন ও মস্তিষ্ককে শান্ত করে ও লাগামহীন চিন্তার গতিতে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রয়োজনে অনলাইন থেকে গাইডেড ম্যাডিটেশনের অডিও ও ভিডিও ফাইল ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এছাড়া যোগ ব্যায়ামও করতে পারেন। ইউটিউবে যোগ ব্যায়ামের অসংখ্য ভালো টিউটোরিয়াল রয়েছে।

৫। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন :

কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব আমরা সবাই জানি। এসময় বারবার ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মুখে হাত না ছোঁয়ানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পুরো ঘর ও সকল আসবাবপত্র পরিষ্কার রাখুন। পরিবারের সবাই মিলেমিশে বাড়ি পরিষ্কার রাখার কাজ করতে পারেন। পরিবারের ছোটদেরও এই পরিচ্ছন্নতায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিন। সবাই মিলে কাজ করলে পরিবারের সকলের মন প্রফুল্ল থাকবে।

৬। যেকোনো শখের কাজে সময় দিন :

নিজ বাসায় কোয়ারেন্টাইনে থাকাকালে যেকোনো শখের কাজে মনোনিবেশ করতে পারেন। এতে করে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। আমাদের প্রতিদিনের কর্মজীবনের ব্যস্ততায় অনেক শখের কাজেই আর সময় দেয়া হয়ে উঠে না। বাসায় থাকাকালীন এই সময়ে যেকোনো নতুন শখের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারেন। যার যে শখের কাজের প্রতি আগ্রহ রয়েছে সেটাতে সময় দিন। গার্ডেনিং, লেখা-লেখি, ছবি আঁকা, বই পড়া, রান্না করা, ক্রাফটিং, নতুন কোনও ভাষা শেখা অথবা যেকোনো নতুন দক্ষতা অর্জনে এই সময়টা কাজে লাগাতে পারেন।

৭। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখুন : 

হোম কোয়ারেইন্টাইনে থাকাকালে একাকীত্ব কাটাতে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ভার্চুয়াল যোগাযোগ রাখুন। প্রিয়জনদের খোঁজ-খবর নিন। তাদেরকে টেক্সট অথবা ফোন করুন। মাঝে মাঝে যে যার বাসা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সবাই একত্রিত হয়ে আড্ডা দিন। এতে করে আপনার মন উৎফুল্ল থাকবে। সর্বোপরি, যেকোনো মহামারি আতঙ্কিত হয়ে সমাধান করা যায় না। সতর্কতা অবলম্বন ও মানসিকভাবে স্থির থাকার মধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। নিজের ও পরিবারের প্রতি যত্নশীল হউন এবং মানসিক সুস্থতার দিকে নজর রাখুন।  

রুবাইদা আক্তার   এস এম