তৎকালীন হিন্দু সমাজের চিত্র তুলে ধরে একেকটি মন্দির
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ভক্তরা বিভিন্ন কিছু মানত করে মন্দিরে পূজা দিতে আসেন দূর-দুরান্ত থেকে
ধামরাই জগন্নাথ রথ। ছবি : অফরোড বাংলাদেশ
আপনি জানেন কি, হিন্দু কোন ধর্মের নাম নয়! কি, অবাক হলেন?
হিন্দু শব্দটি দ্বারা বেঝায় যে সকল নাগরিক সিন্ধু নদের অববিাহিকায় বসবাস করে। আর প্রকৃতপক্ষে হিন্দুদের বলা হয় সনাতন ধর্মবলম্বী। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে ভারত ও নেপালের পর বাংলাদেশ তৃতীয় বৃহত্তম হিন্দু অধ্যুষিত রাষ্ট্র। সনাতন ধর্মের প্রচার ও প্রসারের কল্যাণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মন্দির নির্মিত হয়েছিল। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সনাতন ধর্মবলম্বীরা পূজা অর্চনা করে থাকেন মন্দিরগুলোতে। কিছু মন্দির নতুন করে সংস্করন করার কারণে পূর্বের রূপ অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে মিশে থাকা মন্দিরগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।
দোল মন্দির :
দোল মন্দির, পুঠিয়া। ছবি : উইকিপিডিয়া
পুঠিয়ার আরেকটি বিখ্যাত মন্দির দোল মন্দির। ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে জমিদার ভূবেন্দ্র নারায়ন রায় পূজা অর্চনার জন্য নির্মাণ করেছিলেন। তবে এই সম্পর্কে অনেকেরই দ্বিমত রয়েছে। বলা হয়ে থাকে, জমিদার তার কিশোরী স্ত্রীর সাথে লুকোচুরি খেলার জন্য এই মন্দির তৈরি করেছিলেন। আর এখানে পরবর্তীতে কোন মূর্তিও পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী শহর থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে পুঠিয়াতে সুন্দর এই মন্দিরটি অবস্থিত। মন্দিরটি চার তলা। তবে যত উপরে উঠা যায় প্রতি তলার উচ্চতা কমতে থাকে। এখানে অসংখ্য দরজা রয়েছে। দরজাগুলোর ওপর খুব সুন্দরভাবে কারুকাজ করা হয়েছে।
গোলকধাম মন্দির :
গোলকধাম মন্দির। ছবি : প্রোলিফিক মাস্টারমাইন্ড
রংপুর বিভাগের দেবীগন্জ উপজেলায় গোলকধাম মন্দির অবস্থিত। ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে পঞ্চগড়ে মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছিল। মন্দিরের আকার আকৃতি অনেকটা গ্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছিল। ছয়কোণা আকৃতিবিশিষ্ট মন্দিরের আশেপাশে অনেক গাছপালা রয়েছে। মন্দিরটি মূলত নির্মাণ করা হয়েছিল কৃষ্ণ গোস্বামী স্মৃতি রক্ষার উদ্দেশ্যে।
বরদেশ্বরী মন্দির :
ছবি : ট্যুর টুডে বিডি
পাল আমলের উদাহরণ যদি দেখতে চান তাহলে আপনাকে যেতে হবে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বরদেশ্বরী মন্দিরে। এই মন্দিরটি পাল আমলে তৈরি করা হয়েছিল। এটি ঐতিহাসিক এক অনন্য নিদর্শন। ২ দশমিক ৭ একর জমির উপর মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছিল। প্রচলিত কাহিনী থেকে জানা যায়, শিব সহধর্মিনীর মৃত্যুর পর তিনি একদম ভেঙে পরেন। মৃত্যু যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সহধর্মিনীর শবদেহ নিয়ে তিনি প্রথমে পুরো পৃথিবী ঘুরে বেড়ান। স্বর্গের রাজা বিষ্ণুদেব শিবের এই কষ্ট আর সহ্য করতে পারছিল না। বিষ্ণুদেব শবদেহটি ৫১টি খণ্ডে বিভক্ত করে দেন। এর মধ্যে বাংলাদেশে দুইটি খন্ড পরেছিল। একটি হচ্ছে সীতাকুণ্ডে, অন্যটি পঞ্চগড়ের বরদেশ্বরী এলাকায়। এরপর পাল আমলে মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছিল করোতোয়া নদীর তীর ঘেঁষে।
রামসাগর মন্দির :
ছবি : উইকিমিডিয়া কমনস্
দিনাজপুর সদর উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক একটি মন্দির রামসাগর মন্দির। মন্দিরটি দেখতে অনেকটা গোলাকার আকৃতির। এখানে তিনটি কক্ষ রয়েছে। বহু পুরনো হওয়ার কারণে ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মন্দিরটি অনেকটাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গিয়েছে। তবে কিছু ধ্বংসাবশেষ এখনো টিকে আছে।
কুমিল্লা জগন্নাথ মন্দির :
ছবি : লনলি ট্রাভেলর
কুমিল্লায় অবস্থিত জগন্নাথ মন্দিরের অপর নাম সতেরো রত্ন মন্দির। এটি অবস্থিত কুমিল্লার কৃষ্ণপুর গ্রামে। শ্রী জগন্নাথের প্রতি উৎসর্গ করে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এখানে টেরাকোটা শিল্পের অনন্য দৃষ্টান্ত দেখা যায়। সূক্ষ্ম কাজগুলো পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
মন্দির নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন রাজা কইলাস সিংহ। কিন্তু তিনি সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে পারেননি। পরবর্তীতে মন্দিরের কাজ শেষ করেন মহারাজা কৃষ্ণকিশোর মানিক্য। এটি দেখতে অনেকটা অষ্টকোণ আকৃতির। তবে সতেরো রত্নের অধিকাংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত। মন্দিরটি বাহির থেকে দেখতে অনেকটা তিনতলা বলেই মনে হয়। তবে আসলে মন্দিরটি পাঁচতলা।