মনু মিয়ার জমিদার বাড়ি : সবুজেঘেরা নান্দনিক সৌন্দর্যের বাড়ি

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ঘোড়াশাল জমিদার বাড়ি নামে খ্যাত মনু মিয়ার জমিদার বাড়ি



মনু মিয়ার জমিদার বাড়ি Monu Mia Zamidar Bari

সবুজ গাছগাছালি ঘেরা মনোরম পরিবেশে জমিদার বাড়িটি গড়ে তোলা হয়, নরসিংদী। ছবি : সংগৃহীত


 কালের স্রোতে হারিয়ে গেছে জমিদারি প্রথা,বিলীন হয়েছে তাদের জৌলুস আর ক্ষমতা। জমিদারদের সেই প্রভাব-প্রতিপত্তি কালের গর্ভে বিলীন হলেও তাদের জমিদার বাড়িগুলো আজও রয়ে গেছে শৈল্পিক স্থাপত্যের চিহ্ন হয়ে। ইতিহাস আর ঐতিহ্যের স্মৃতিমাখা এই প্রাচীন নিদর্শনগুলো ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য হয়ে উঠেছে আকর্ষণের জায়গা। বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা এই জমিদার বাড়িগুলো তাই মুখর থাকে পর্যটকদের আনাগোনায়। ঐতিহ্যবাহী জেলা নরসিংদীতেও রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাচীন জমিদার বাড়ি। এসকল জমিদার বাড়ির মধ্যে অন্যতম একটি হল মনু মিয়ার জমিদার বাড়ি (Monu Mia Zamidar Bari)। রুচিশীলতা ও নান্দনিক সৌন্দর্যের দিক থেকে এই বাড়িটি নরসিংদীর অন্যান্য জমিদার বাড়ি থেকে বেশ এগিয়ে।


অবস্থান

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার প্রাণকেন্দ্রে মিয়া পাড়া গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত। চমৎকার সৌন্দর্যের পরিপূর্ণ এই বাড়িটির আসল নাম ঘোড়াশাল জমিদার বাড়ি। যদিও এটি মনু মিয়ার জমিদার বাড়ি হিসেবে বেশি পরিচিত। এই জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ঘোড়াশালের জমিদার সাজদা মিয়া। মনোরম জমিদার বাড়িটি প্রায় ১০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে। এই জমিদার বাড়ির ভেতরে অত্যন্ত নান্দনিক পরিবেশের দেখা মেলে। এই জমিদার বাড়িতে মোট তিনটি জমিদার বাড়ি দেখতে পাবেন। মৌলবি আবদুল কবিরের বাড়ি, নাজমুল হাসানের বাড়ি ও মনু মিয়ার বাড়ি।


ইতিহাস

আহমদুল কবির মনু মিয়া ছিলেন ঘোড়াশালের জমিদার আবু ইউসুফ লুৎফুল কবির এর পুত্র। তার জন্ম ১৯২৩ সালে। ১৯৪২-৪৩ সালে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ক্রীড়া সম্পাদক, ১৯৪৫-৪৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর প্রথম সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি অর্থনীতিতে গ্রাজুয়েশন শেষ করে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় যোগদান করেন। এরপর ১৯৫০ সালে তিনি পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। ২০০৩ সালে তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

আরও পড়ুন : বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, নরসিংদী


মনু মিয়ার জমিদার বাড়ি Monu Mia Zamidar Bari

মনু মিয়ার জমিদার বাড়িটি ঘোড়াশাল জমিদার বাড়ি নামেও পরিচিত, নরসিংদী। ছবি : সংগৃহীত



বাড়িতে কি কি দেখতে পাবেন

এই জমিদার বাড়ির মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করে ভেতরে ঢুকতেই প্রথমে বাম দিকে একটি মসজিদ দেখতে পারবেন। তার সামনেই রয়েছে চমৎকার প্রথম ভবন মৌলবি আবদুল কবিরের বাড়ি। দৃষ্টিনন্দন এই ভবনটির বয়স ২৪৭ বছর। এর নির্মাণকাল ১১৭৬ বঙ্গাব্দ। এর বাম পাশেই রয়েছে নাজমুল হাসানের বাড়িটি। এই ভবনটির সৌন্দর্য যেকাউকে মুগ্ধ করবে। চা পান, বিশ্রামাগার ও আড্ডা দেয়ার জন্য চমৎকার জায়গা রয়েছে এখানে। এই জমিদার বাড়ির সর্বত্রই রুচিশীল সৌন্দর্য চোখে পড়ে। এই প্রতিটি ভবনই অসাধারণ কারুকার্যে শোভিত। শুভ্রতা আর নান্দনিকতায় পরিপূর্ণ এই ভবনগুলোতে এখানকার জমিদারদের রুচিশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। তার সাথে চারপাশের সবুজ ঘাস এবং গাছপালার ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ এখানে সৃষ্টি করেছে অপরূপ লাবণ্যের। বাড়ির পেছনে রয়েছে চমৎকার শান বাঁধানো দুইটি পুকুর। পুকুরের পাশেই আছে ছায়াঘেরা বসার সুন্দর ব্যবস্থা। বাড়ির সামনে ও পেছনের বিশাল আঙিনা সবুজে সবুজে অপরূপ। অসংখ্য ফুলের গাছের শোভায় বাড়ির সৌন্দর্য বেড়েছে বহুগুণ। এখানে দেখতে পাবেন চার রকমের কাঠ গোলাপের ফুলের গাছ। এই জমিদার বাড়ির মনোরম সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে শুরু করে আসবাবপত্র সবকিছুতেই রয়েছে পরিপাটি আর রুচিশীলতার ছোঁয়া। খোলামেলা পরিবেশের নান্দনিক সৌন্দর্যের এই বাড়িটি দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কতটা আগের। সঠিক যত্ম ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এর সৌন্দর্য আগের চেয়ে একটুও মলিন হয়নি। এই জমিদার বাড়িটি কোনও ভ্রমণ স্পট নয়। তাই এটি দেখতে গেলে খুব বড় দলবল নিয়ে না যাওয়াই ভালো। এতে করে ঘুরেও মজা পাবেন। গেটে দারোয়ান আছে। তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করবেন।

আরও পড়ুন : হেরিটেজ ইকো রিসোর্ট : নরসিংদী

যেভাবে যাবেন :

ঢাকার গুলিস্তান বা মহাখালী থেকে নরসিংদিগামী যে কোন বাসে চড়ে চলে যাবেন নরসিংদী। তারপর সিএনজি বা অটো রিকশা চড়ে যেতে হবে পলাশ। এখানে পৌঁছে যেকেউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দেবে এই জমিদার বাড়ি।  

রুবাইদা আক্তার   এস এম