মনু মিয়ার জমিদার বাড়ি : সবুজেঘেরা নান্দনিক সৌন্দর্যের বাড়ি
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ঘোড়াশাল জমিদার বাড়ি নামে খ্যাত মনু মিয়ার জমিদার বাড়ি

অবস্থান
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার প্রাণকেন্দ্রে মিয়া পাড়া গ্রামে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত। চমৎকার সৌন্দর্যের পরিপূর্ণ এই বাড়িটির আসল নাম ঘোড়াশাল জমিদার বাড়ি। যদিও এটি মনু মিয়ার জমিদার বাড়ি হিসেবে বেশি পরিচিত। এই জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ঘোড়াশালের জমিদার সাজদা মিয়া। মনোরম জমিদার বাড়িটি প্রায় ১০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে। এই জমিদার বাড়ির ভেতরে অত্যন্ত নান্দনিক পরিবেশের দেখা মেলে। এই জমিদার বাড়িতে মোট তিনটি জমিদার বাড়ি দেখতে পাবেন। মৌলবি আবদুল কবিরের বাড়ি, নাজমুল হাসানের বাড়ি ও মনু মিয়ার বাড়ি।ইতিহাস
আহমদুল কবির মনু মিয়া ছিলেন ঘোড়াশালের জমিদার আবু ইউসুফ লুৎফুল কবির এর পুত্র। তার জন্ম ১৯২৩ সালে। ১৯৪২-৪৩ সালে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ক্রীড়া সম্পাদক, ১৯৪৫-৪৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর প্রথম সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি অর্থনীতিতে গ্রাজুয়েশন শেষ করে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় যোগদান করেন। এরপর ১৯৫০ সালে তিনি পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। ২০০৩ সালে তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।আরও পড়ুন : বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, নরসিংদী

বাড়িতে কি কি দেখতে পাবেন
এই জমিদার বাড়ির মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করে ভেতরে ঢুকতেই প্রথমে বাম দিকে একটি মসজিদ দেখতে পারবেন। তার সামনেই রয়েছে চমৎকার প্রথম ভবন মৌলবি আবদুল কবিরের বাড়ি। দৃষ্টিনন্দন এই ভবনটির বয়স ২৪৭ বছর। এর নির্মাণকাল ১১৭৬ বঙ্গাব্দ। এর বাম পাশেই রয়েছে নাজমুল হাসানের বাড়িটি। এই ভবনটির সৌন্দর্য যেকাউকে মুগ্ধ করবে। চা পান, বিশ্রামাগার ও আড্ডা দেয়ার জন্য চমৎকার জায়গা রয়েছে এখানে। এই জমিদার বাড়ির সর্বত্রই রুচিশীল সৌন্দর্য চোখে পড়ে। এই প্রতিটি ভবনই অসাধারণ কারুকার্যে শোভিত। শুভ্রতা আর নান্দনিকতায় পরিপূর্ণ এই ভবনগুলোতে এখানকার জমিদারদের রুচিশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। তার সাথে চারপাশের সবুজ ঘাস এবং গাছপালার ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ এখানে সৃষ্টি করেছে অপরূপ লাবণ্যের। বাড়ির পেছনে রয়েছে চমৎকার শান বাঁধানো দুইটি পুকুর। পুকুরের পাশেই আছে ছায়াঘেরা বসার সুন্দর ব্যবস্থা। বাড়ির সামনে ও পেছনের বিশাল আঙিনা সবুজে সবুজে অপরূপ। অসংখ্য ফুলের গাছের শোভায় বাড়ির সৌন্দর্য বেড়েছে বহুগুণ। এখানে দেখতে পাবেন চার রকমের কাঠ গোলাপের ফুলের গাছ। এই জমিদার বাড়ির মনোরম সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে শুরু করে আসবাবপত্র সবকিছুতেই রয়েছে পরিপাটি আর রুচিশীলতার ছোঁয়া। খোলামেলা পরিবেশের নান্দনিক সৌন্দর্যের এই বাড়িটি দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কতটা আগের। সঠিক যত্ম ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এর সৌন্দর্য আগের চেয়ে একটুও মলিন হয়নি। এই জমিদার বাড়িটি কোনও ভ্রমণ স্পট নয়। তাই এটি দেখতে গেলে খুব বড় দলবল নিয়ে না যাওয়াই ভালো। এতে করে ঘুরেও মজা পাবেন। গেটে দারোয়ান আছে। তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করবেন।আরও পড়ুন : হেরিটেজ ইকো রিসোর্ট : নরসিংদী
যেভাবে যাবেন :
ঢাকার গুলিস্তান বা মহাখালী থেকে নরসিংদিগামী যে কোন বাসে চড়ে চলে যাবেন নরসিংদী। তারপর সিএনজি বা অটো রিকশা চড়ে যেতে হবে পলাশ। এখানে পৌঁছে যেকেউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দেবে এই জমিদার বাড়ি।রুবাইদা আক্তার এস এম