সুন্দর কোনো স্থান ভ্রমণে অনেক সময়েই আমরা সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত উপভোগ করি। ভ্রমণের ক্লান্তিতে সূর্যোদয় অনেক ক্ষেত্রে না দেখতে পেলেও সূর্যাস্ত কিন্তু উপভোগ করাই যায়। নিজের জন্য নীরব কিছুটা সময় বরাদ্দ রেখে ভালোভাবে কোথাও বসে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারেন। সূর্যাস্ত সব জায়গাতেই সুন্দর হলেও বেশ কিছু স্থান রয়েছে যেখানে সবচেয়ে সুন্দর সূর্যাস্তের দেখা মেলে। চলুন আজ সেই সুন্দরতম সূর্যাস্তের স্থান সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।
উলুয়াটু টেম্পল, বালি
পাহাড়ের উপর থেকে ভারত মহাসাগরের বুকে অস্ত যাওয়া সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্যের দেখা মেলে এখানে; ছবি : ফ্লিকার
বালিতে সচরাচর বেশ সংখ্যক মন্দিরের দেখা মেলে তবে উলুয়াটু মন্দিরটি অন্য যেকোনো মন্দির থেকে আলাদা। ২৫০ মিটার উঁচু পাহাড়ের চুড়ায় এই মন্দিরটির নিচে ভারত মহাসাগরের ঢেউ আছড়ে পরে। মন্দিরটি সবসময়েই উন্মুক্ত থাকে তবে বেশিরভাগ পর্যটক বিকেলে আসেন এবং সূর্যাস্ত দেখার স্পট ঠিক করেন। ঐতিহ্যবাহী কেচাক নৃত্যও প্রদর্শন করা হয় প্রতিদিন ৬টায়। সেলফি স্পট হিসেবেও জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়।
ধূসর কমলা রঙের এমন সূর্যাস্তের দেখা পেতে যেতে হবে সুদূর স্কটল্যান্ড; ছবি : ফ্লিকার
ইউকের গ্রীষ্মে সূর্যাস্ত খুব একটা মনোমুগ্ধকর না হলেও এই আইসেল অফ ইগে আপনি অত্যন্ত সুন্দর সূর্যাস্তের দেখা পাবেন। ধূসর কমলা বর্ণের এই সূর্যাস্ত পৃথিবীর সুন্দর কিছু সূর্যাস্তের তালিকায় অনায়াসেই জায়গা নিয়ে নিবে। অনেক পর্যটক ফোর্ট উইলিয়াম দেখার পর এই স্থানে সূর্যাস্ত দেখতে ভিড় জমান।
ওইয়া, গ্রীস
গ্রীসের সান্তোরিনিতে অবস্থিত সূর্যাস্তের মুগ্ধকর দৃশ্য; ছবি : গ্রিকা ডট কম
গ্রীসের সান্তোরিনিতে অবস্থিত এই সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করতে আগে থেকেই আপনাকে জায়গার জন্য বুক করে রাখতে হবে। এখানের সূর্যাস্ত অনেকটা ছবির মতো। আকাশ জুড়ে গোলাপি আবহ যেন কমে যাচ্ছে মনে হবে। এছাড়াও পর্যটকদের জন্য অসংখ্য বার, ক্যাফে এবং রেস্তরা রয়েছে এখানে।
এ্যাংকর টেম্পল, কম্বোডিয়া
ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত এ্যাংকর টেম্পলের সূর্যাস্ত; ছবি : কম্বো ট্যুরস ডট কম
এই জায়গাটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্গত। বলা হয়ে থাকে এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উপাসনালয়। এখান থেকেও বেশ সুন্দর সূর্যাস্তের দেখা পাবেন। এই ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ভ্রমণের পাশাপাশি অনেকে এখানের সূর্যাস্ত উপভোগ মিস করেন না। শেষ বিকেলের কমলা রঙের আলোক ছটায় আপনি সূর্যাস্ত দেখতে পাবেন। এখানে অনেক পর্যটক সূর্যোদয়ও দেখতে আসেন।
অস্ট্রেলিয়ার সুগারলোফ রক এরিয়ায় সূর্যাস্তের মনোহর রূপ; ছবি : ফ্লিকার
পাথুরে এই জায়গাটি অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত। সারাদিন ধরেই একে সুন্দর লাগবে কিন্তু সন্ধ্যায় এর সৌন্দর্য কয়েক গুন বেড়ে যায়। সমুদ্রের অন্যপাশ দিয়ে সূর্যের নেমে যাওয়া দেখতে অসংখ্য পর্যটক এখানে ভিড় জমান। আপনার ভাগ্য ভালো থাকলে সূর্যাস্তের সাথে তিমি এবং ডলফিনের খেলা দেখতে পাবেন সমুদ্রে।
নাগ্রিল, জামাইকা
কফির সাথে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে যেতে পারেন জামাইকার নাগ্রিলের; ছবি : ট্রিপ এডভাইজর
নাগ্রিলে সূর্যাস্ত দেখার জন্য অসংখ্য পর্যটক ভিড় করেন। সূর্যাস্তের সাথে আপনি কফিও উপভোগ করতে পারবেন এখানের ক্যাফে থেকে। ক্রিমসন এবং পার্পল রঙের সমন্বয়ে আপনি বেশ চমৎকার এক সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারবেন।
চায়নার ইয়ালোং বীচের সূর্যাস্তের দৃশ্য; ছবি : সানিয়াট্যুর ডট কম
ইয়ালোং বে বিচ রিসোর্ট সানিয়াতে অবস্থিত। পাম গাছ, বিচ এবং পরিষ্কার সমুদ্রের পানি সব কিছু আপনাকে উপভোগ্য এক সূর্যাস্তের পরিচয় করিয়ে দিবে। নির্মল আবহাওয়ার এই জায়গাটি পর্যটকদের নিকট বেশ জনপ্রিয়।
ক্লং ডাও বীচ, কোহ লান্টা, থাইল্যান্ড
সূর্যাস্তের সময় দিগন্তজোড়া এমন রঙ্গিন রূপ উপভোগ করতেই পর্যটকেরা এখানে ছুটে আসেন; ছবি : হোস্টেল ওয়ার্ল্ড ডট কম
থাইল্যান্ডের এই স্থানে পর্যটকদের সমাগম তুলনামূলকভাবে কম। তবে যারা আসেন তারা মূলত এখানের অসাধারণ সূর্যাস্ত দেখা জন্যই আসেন। সূর্যাস্তের পর এখানে আতশবাজি প্রদর্শন করা হয়। অরেঞ্জ এবং পিঙ্কের সমন্বয় দেখতে পাবেন সূর্যাস্তের সময় আকাশে। পুরো থাইল্যান্ডের সেরা সূর্যাস্ত এখানেই দেখতে পাবেন।
উপরিউক্ত স্থান ছাড়াও সূর্যাস্ত সব জায়গাতেই কম-বেশি অনেক সুন্দর। কখনও সুযোগ পেলে কোন স্থান ভ্রমণে নিজের মত করে সূর্যাস্ত উপভোগ করার চেষ্টা করবেন।