মথুরাপুর দেউল মঠ : চারশত বছর ধরে কালের নীরব সাক্ষী হয়ে টিকে আছে
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত ফরিদপুরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন মথুরাপুর দেউল মঠ

অবস্থান
ফরিদপুর জেলা থেকে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং মধুখালী উপজেলা থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার উত্তরে মথুরাপুর দেউল মঠটি অবস্থিত। নির্মাণ কালের মতোই কে এই মঠ নির্মাণ করেছে সে নিয়েও আছে সন্দেহ। বলা হয়ে থাকে, সম্রাট আকবরের সেনাপতি রাজা মানসিংহ রাজা প্রতাপাদিত্যকে হারিয়ে ১৬৩৬ সালে এই মঠের প্রতিষ্ঠা করেন। তবে, ইতিহাস বলে ঘটনাটি সঠিক নয়।ইতিহাস
১৬১২ সালে রাজা প্রতাপাদিত্যের সাথে এনায়েত খানের যুদ্ধ হয়। এনায়েত খান ছিলেন সুবেদার ইসলাম খানের ভাই। যুদ্ধে প্রতাপাদিত্য পরাজিত হন এবং তাকে দিল্লীতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এই থেকে বোঝা যায় যে, মঠটি প্রতাপাদিত্য তৈরি করেননি। অন্যদিকে মানসিংহ ১৬০৬ সালে এই স্থান ত্যাগ করেন। এর মানে তিনিও এই মঠ প্রতিষ্ঠা করেননি। মঠটি নিয়ে যশোর ও ফরিদপুরের স্থানীয়দের মতে সংগ্রাম সিংহ নামক একজন ফৌজদার মথুরাপুর দেউল নির্মাণ করেন। দেউলটি উচ্চতায় প্রায় ৯০ ফুটের কাছাকাছি।১২ কোণবিশিষ্ট মঠটি নিজস্ব শৈল্পিক গুণে অনন্য। এতগুলো কোণ থাকায় ওপর থেকে দেখলে মনে হবে যেন দিনের আলোয় তারা ফুটে আছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মঠটি আরও উঁচু ছিল, কালের বিবর্তনে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে হতে বর্তমান আকৃতিতে এসে দাঁড়িয়েছে।
টেরাকোটার চমৎকার কারুকার্য দেখা যায় মঠটির দেয়ালে। মঠের গায়ে মাটির ফলকে তৈরি বিভিন্ন মূর্তি তীর্থযাত্রীসহ পর্যটকদের নজর কাড়ে। রামায়ণ, মহাভারতের বিভিন্ন চরিত্র, বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি, প্যাঁচা, হনুমান, ঘোড়াসহ আরও নানারকমের মূর্তি রয়েছে মঠের গায়ে।
যেখানে থাকবেন :
ফরিদপুরে পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন হোটেলের ব্যবস্থা রয়েছে। বাসস্ট্যান্ডের কাছেই রয়েছে হোটেলগুলো। ৮০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকার ভেতরে আপনার পছন্দমতো রুম পেয়ে যাবেন। তাছাড়া রয়েছে সার্কিট হাউজ। কিন্তু সার্কিট হাউজে থাকতে হলে আপনাকে আগে থেকেই অনুমতি নিয়ে নিতে হবে।যেভাবে যাবেন :
ঢাকা থেকে বাসে করে ফরিদপুর গিয়ে সেখান থেকে আরেকটি বাসে করে মধুখালি যাওয়া যাবে। মধুখালি থেকে রিকসায় মথুরাপুর দেউল যাওয়া যায়।ইন্দিরা বিশ্বাস এস এম
তথ্যসূত্র https://www.kalerkantho.com/print-edition/education/2017/11/26/570172
Click Here To See More