ভারতের সবচেয়ে পুরনো কোলকাতাস্থ আলিপুর চিড়িয়াখানা

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : সপরিবারে ঘুরে আসুন বিশাল পরিধির এই চিড়িয়াখানাটি থেকে

giraffe ছবি : খবর অনলাইন

কোলকাতার একটি প্রাচীন দর্শনীয় স্থান আলিপুর চিড়িয়াখানা। এটি ভারতের সবচেয়ে পুরনো ও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। শহরের আলিপুরে অবস্থিত চিড়িয়াখানাটিতে শীতের ছুটিতে মানুষের আনাগোনা থাকে সবচেয়ে বেশি। চিড়িয়াখানাটি ৪৬ দশমিক ৫০ একর জমির ওপর স্থাপিত হয়েছে। বর্তমানে ১০৮ প্রজাতির মোট ১২৬৬টি প্রাণী রয়েছে।

পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে যখন চিড়িয়াখানা গড়ে উঠছিল তখন ব্রিটিশ সরকারও ভারতে একটি চিড়িয়াখানা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চিড়িয়াখানা বানানোর পক্ষে বিভিন্ন প্রশ্নের পরে ১৮৭৩ সালে স্যার রিচার্ড টেম্পল একটি প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব দেয়ার পরে সরকারের পক্ষ থেকে জমি দেয়া হয় এশিয়াটিক সোসাইটিকে।

এছাড়া এগ্রি-হর্টিকালচারকেও জমি দেয়া হয়। চিড়িয়াখানাটি উদ্বোধন করা হয় ১৮৭৬ সালের প্রথমদিনেই। এর ছয় মাস পর সাধারণ মানুষজন চিড়িয়াখানায় আসার অনুমতি পায়। চিড়িয়াখানায় বিভিন্ন ব্যক্তি পশু দান করেছিলেন, এমনকি সাধারণ জনগণের অবদানও ছিল অপরিসীম। তখনকার গভর্নরের ব্যক্তিগত পশুগুলো এই চিড়িয়াখানায় আনার পরে পশুদের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। চিড়িয়াখানার প্রাণিদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল 'অদৈত্ব' নামের একটি কচ্ছপ। কচ্ছপটি ২৫০ বছর বেঁচে ছিল।ALIPUR ছবি : ওয়ান ইন্ডিয়া বেঙ্গলি

একসময় চিড়িয়াখানায় পশুদের মধ্যে সংকরায়ন ঘটানোর মাধ্যমে নতুন প্রজাতির উদ্ভব ঘটানো হয়েছিল। সিংহ ও বাঘের সংকরে গঠিত 'টাইগন' প্রজাতি তাদের বাচ্চার জন্মও দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সংকরায়ন পদ্ধতির বিপক্ষে আন্দোলনের চাপে পড়ে ভারত সরকার ১৯৮৫ সালে সংকরায়ন পদ্ধতির সমাপ্তি ঘটায়। চিড়িয়াখানাটিতে রয়েছে জিরাফ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ভালুক, হরিণ, কুমির, শিম্পাঞ্জি, সিংহ, জেব্রা,হাতি, কচ্ছপ, ইমু পাখিসহ আরও অনেক প্রাণি।

এছাড়া চিড়িয়াখানায় বাঘের জন্য কাচের তৈরি একটি ঘেরাও দেয়া হয়েছে। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সময়ে এটি উদ্বোধন করা হয়। ১০ ফুট উঁচু এবং চারদিকে ঘেরাও দেয়ার মত ২০০ ফুট কাচ আনা হয়েছিল সুইজারল্যান্ড থেকে। সরীসৃপ ভবনে রয়েছে নানা প্রজাতির সাপ, রয়েছে চন্দ্রবোড়া, পাইথনও। এছাড়া রয়েছে নানা প্রজাতির পাখি। চিড়িয়াখানায় তিনটি ভবনের পাশাপাশি পুকুরও আছে। এখানে শীতে অতিথি পাখির আনাগোনা দেখতে পাওয়া যায়।alipur zoo ছবি : তমালস ব্লগার 

পরিবারের সাথে সময় কাটানোর পাশাপাশি নানা রকম জ্ঞান অর্জন করা যায় এইখানে ঘুরতে এসে। সময় করে ঘুরে আসতে পারেন এই চিড়িয়াখানা থেকে।

টিকিট ও সময় : চিড়িয়াখানায় ঢুকতে হলে প্রথমে টিকিট কিনতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের দাম ২৫ রুপি এবং পাঁচ বছরের নিচের বাচ্চাদের জন্য ১০ রুপি। অ্যাকুরিয়ামে খরচ পড়বে ৫ রুপি, প্রতি ঘণ্টায় ভিডিও করতে লাগবে ২০০ রুপি। আলিপুর চিড়িয়াখানা সপ্তাহে ছয়দিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শুধুমাত্র বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে।

কীভাবে যাবেন : আলিপুর চিড়িয়াখানায় ঘুরতে যেতে হলে আপনাকে প্রথমে বাংলাদেশ থেকে কোলকাতায় যেতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই ভিসা এবং পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ থেকে বাস, ট্রেন এবং বিমানে চড়ে যেতে পারবেন প্রমোদ নগরী কোলকাতায়। বাসে চড়ে কোলকাতায় আসতে হলে শ্যামলী এনআর পরিবহন, গ্রিন লাইন, সোহাগ পরিবহণ, সৌহার্দ্য পরিবহন ইত্যাদি বাসে সরাসরি ঢাকা-কলকাতা যেতে পারবেন।

এক্ষেত্রে নন-এসি বাসে ভাড়া ৮০০-১,০০০ টাকা এবং এসি বাসে ১,৫০০-২,০০০ টাকা। এছাড়া ঢাকা থেকে বাসে করে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে কোঁলকাতায় যেতে পারবেন। ট্রেনে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সুবিধাজনক উপায় হল মৈত্রী এক্সপ্রেস।

সপ্তাহে চারদিন (শুক্র, শনি, রবি, বুধ) মৈত্রী এক্সপ্রেসের ট্রেন ঢাকা-কোলকাতা যায়। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে সকাল আটটা দশ মিনিটে ট্রেন ছাড়ে। তবে কোলকাতা খুব সহজে এবং কম সহজে যেতে চাইলে বিমানে যেতে পারেন। বাংলাদেশ বিমান, রিজেন্ট এয়ারলাইনস, নভো এয়ার, এয়ার ইন্ডিয়া, জেট এয়ারওয়েজের বিমানে যেতে পারবেন কোলকাতা শহরে। কোলকাতা শহরের হাওড়া স্টেশন কিংবা রবীন্দ্র সদন স্টেশন আলিপুরের কাছের স্টেশন। এছাড়া কোলকাতার যেকোনো প্রান্ত থেকে লোকাল বাসে করে আলিপুর চিড়িয়াখানায় যাওয়া যাবে।

যেখানে থাকবেন : আলিপুর চিড়িয়াখানার আশেপাশে বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। এগুলোর মধ্যে তাজ বেঙ্গল, আরহাম গেস্ট হাউজ, মহারাষ্ট্র ভবন, কলকাতা গেস্ট হাউজ অন্যতম।

খাবার : আশেপাশে বেশ কয়েকটি খাবারের হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে প্রসেনজিত হোটেল রেস্টুরেন্ট, দেবু’স হোটেল রেস্টুরেন্ট, হাজী'স কিচেন অন্যতম।