লোকতাক লেক : পৃথিবীর একমাত্র ভাসমান লেক
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : মনিপুরের অন্যতম দর্শনিয় স্থান ভাসমান লেক লোকতাক

অবস্থান
মনিপুর রাজ্যের বিষ্ণুপুরে এই লেকটি অবস্থিত। মনিপুরের রাজধানী ইম্ফাল থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে মৌরাং শহরে এই লেকটির অবস্থান। মিষ্টি জলের এই লেকটি প্রায় ২৮৭ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। এই রাজ্যের বিভিন্ন নদীর পানি এসে মিশেছে এই লেকের পানিতে। স্বচ্ছ পানির ওপর ভাসছে টুকরো টুকরো সবুজ ঘাস ও লতার ঝোপ।ফুমদিস
এগুলো সবুজ গোল চাকতির মতো অসংখ্য বৃত্তাকার ভাসমান জলাভূমি, যা দেখতে একেকটি দ্বীপের মতো। স্থানীয় ভাষায় এগুলোকে 'ফুমদিস' বলে। এই ফুমদিসগুলোর ২০ ভাগ পানির ওপর ভেসে থাকে আর বাকি অংশ থাকে পানির নিচে। এই দ্বীপগুলোর অনেক কয়েকটিতে রয়েছে মানুষের বসবাস।আরও পড়ুন : মেরি এন্ডারসন ভাসমান রেস্তোরা ও বার, নারায়ণগঞ্জ

ভাসমান দ্বিপের বাড়িঘর
খড়, বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ছোট ছোট কুটির। মজার ব্যাপার হল বাতাস লেগে এই দ্বীপ ঘরবাড়িসহ ভাসতে থাকে। পানির ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভেসে ভেসে বাড়িগুলো বিভিন্ন জায়গায় দিক পরিবর্তন করতে থাকে। লোকতাকে চলাচলের একমাত্র বাহন হলও নৌকা। প্রায় প্রতিটি বাড়ির সামনেই একটি করে ডিঙি নৌকা বাঁধানো আছে। লোকতাকের সবচেয়ে বড় দ্বীপটির আয়তন প্রায় ১৫ বর্গ মাইল। যা 'কেইবুল লামাজাও জাতীয় উদ্যান' নামে পরিচিত। এই উদ্যানটি বিশ্বের একমাত্র ভাসমান জাতীয় উদ্যান। এই উদ্যানে মনিপুরের জাতীয় পশু সাঙ্গাই হরিণ বা নাচুনে হরিণ দেখতে পাবেন। এখানে পর্যটকদের জন্য বাংলো এবং ওয়াচ টাওয়ার আছে । এই ওয়াচ টাওয়ার থেকে দিগন্তবিস্তৃত সবুজ ভাসমান ঘাসজমি দেখতে পাবেন। এই লেকের ভাসমান দ্বীপগুলোতে প্রায় ৪২০-৪২৫টির মতো ঘর আছে। এখানে বসবাসকারীরা সবাই জেলে। এই লেকই তাদের জীবিকার প্রধান উৎস। মৌরাং হয়ে লোকতাকের মধ্যে একটি সরু ভূখণ্ড প্রবেশ করেছে।থাঙ্গা
এই ভূখণ্ডে 'থাঙ্গা' নামে একটি গ্রাম গড়ে উঠেছে। এই গ্রামের বাড়িঘরগুলোর মধ্যে একধরনের সাদৃশ্য দেখা যায়। প্রায় প্রতিটি বাড়ির আকৃ্তিই একই রকম।আরও পড়ুন : বৈকাল হ্রদ: বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন হ্রদ

খানকার আকাশ খুব বেশিই নীল। এখানে অসংখ্য পাখির কলরবে লোকতাকবাসীর ঘুম ভাঙ্গে। সন্ধ্যা নেমে এলে লোকতাকের কুটিরগুলোতে জ্বলে উঠে লন্ঠনের আলো। সারাদিনের কর্মযজ্ঞ শেষে সাঁঝের বেলায় এখানকার বাসিন্দারা যে যার ঘরে ফিরে আসে। প্রতিটি কুটিরের আলোয় লোকতাককে মনে হয় আকাশের আয়না। আলোর প্রতিবিম্ব মিটিমিটি করে জ্বলতে থাকে জলের বুকে। রাতের বেলায় লোকতাকে নৌকায় চড়ে ঘুরতে পারেন। এই নৌকা বিহারে আপনি পাবেন অপার নীরবতার এক অনন্য অনুভূতি। বিশাল রাতের আকাশের নিচে মনে হবে অন্য জগতে হারিয়ে গেছেন। ঝুম বৃষ্টির সময় লোকতাকের সৌন্দর্য অনন্য এক মাত্রায় পৌঁছে যায়।
আরও পড়ুন : পর্যটকদের মুগ্ধ করছে ভাসমান ‘অন্তেহরি জলের গ্রাম’

রুবাইদা আক্তার এস এম