৭১-এর দু:সহ স্মৃতিবিজড়িত বাবুর পুকুর গণকবর : বগুড়া

৭১-এর দু:সহ স্মৃতিবিজড়িত বধ্যভূমি বগুড়ার এই বাবুর পুকুর বধ্যভূমি



বাবুর পুকুর গণকবর

বাবুর পুকুর গণকবর। বগুড়া। ছবি : সংগৃহীত



বাবুর পুকুর মূলত স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি গণকবর। মুক্তিযুদ্ধের শহীদ হওয়া এক বিদগ্ধ জনপদের ইতিহাস  লুকিয়ে আছে এই বধ্যভূমিতে। বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার খরনা ইউনিয়নের তিতখুর নামক স্থানে এই একাত্তরের গণকবরটি অবস্থিত। প্রাচীন জেলা হিসেবে পরিচিত বগুড়ার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সমৃদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস খোদিত এই বাবুর পুকুর গণকবর দর্শনার্থীদের মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতা অর্জনের দুঃসহ সেইসব দিনের ক্ষত আর মৃত্যুর বিভীষিকাকে। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ভিত্তি গড়ে ওঠে যে আত্মত্যাগ আর মৃত্যুর মিছিলের মধ্য দিয়ে, সেসবের রক্তাক্ত ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে দেশের নানান জায়গায় ছড়িয়ে থাকা জানা অজানা বধ্যভূমিতে। তেমনই একটি বধ্যভূমি বগুড়ার এই বাবুর পুকুর বধ্যভূমি।

বগুড়া জেলা শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে রয়েছে ঐতিহাসিক এই বধ্যভূমি ও মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত দলিল। ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর এখানেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে রক্তপিপাসায় মেতে ওঠে তাতে ঝরে পড়ে একে একে ১৪ টি জীবন। স্বাধীনতার জন্য, মুক্তির জন্য তারা পাক বাহিনীর হাতে নিজেদের জীবনকে বিপন্ন করে গেছেন। পাক বাহিনী ঐদিন এখানে একসাথে ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে হত্যা করে রেখে যায়। তার পূর্বে স্থানীয় শান্তি কমিটির সহযোগিতায় বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়ার শাহ পাড়া, ম-ল পাড়া, তেঁতুলতলা, হাজীপাড়া ও পশারী পাড়া সহ কয়েকটি পাড়া থেকে ২১ জনকে ধরে নেয়। ধরে নিয়ে বাবুর পুকুর এলাকায় এনে ১৪ জনকে ব্রাশ ফায়ার করে মেরে ফলে।

এই ১৪ জনের মধ্যে একজন ছিলো অজ্ঞাতনামা। সেইদিন বাবুর পুকুরে নির্মমভাবে খুন হওয়া শহীদদের কবর দিয়েছিলেন স্থানীয় আলাউদ্দিন মাষ্টার নামে এক ব্যক্তি। ১৯৭৯ সালে বগুড়া প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে কবরগুলো পাকা করা হয় এবং পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি-সংসদ সেখানে ২০১০ সালে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে এখানে। পাকা বেদী করে পাড় ও বেঁধে দেয়া হয়। প্রায় ১২ শতক জায়গার উপর নির্মাণ করা হয় স্মৃতিস্তম্ভের বেদী। নানা প্রান্ত হতেই দর্শনার্থীরা এই বাবুর পুকুর গণকবরে এসে শহিদদের প্রতি নির্মম অত্যাচারের ইতিহাস স্মরণ করে যান এবং তার আত্মার প্রতি শান্তি কামনা করেন।

এখানে শায়িত ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম নিম্নে উল্লেখ করা হলো :

১। হান্নান পশারী

২। মান্নান পশারী

৩। ওয়াজেদুর রহমান টুকু

৪। জামাল ম-ল

৫। মন্টু ম-ল

৬। আব্দুস সবুর ভোলা ম-ল

৭। সাইফুল ইসলাম

৮। আলতাফ আলী

৯। বাদশা শেখ

১০। বাচ্চু শেখ

১১। ফজলুল হক খান

১২। নূর জাহান

১৩। আবুল হোসেন

১৪। (অজ্ঞাতনামা)


এক নজরে দেখে নিন বগুড়া জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান সমূহ :

মহাস্থানগড়, ঐতিহাসিক যোগীর ভবনের মন্দির, পাঁচপীর মাজার কাহালু, সারিয়াকান্দির পানি বন্দর, বাবুর পুকুরের গণকবর – শাজাহানপুর, জয়পীরের মাজার- দুপচাচিয়া, সান্তাহার সাইলো, দেওতা খানকা হ্ মাজার শরিফ -নন্দীগ্রাম, বেহুলা লক্ষিণদ্বর (গোকুল মেধ)।


যেভাবে যাবেন :

বগুড়া শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে এই গণকবর টি অবস্থিত। শহর থেকে নাটোর রোডে বাস বা সিএনজি, অটো রিকশাতে এখানে আসতে পারেন।  

সাখাওয়াত হোসেন   এস এম