বাবা আদমের মাজার ও প্রখ্যাত দিঘী : আদমদিঘী, বগুড়া
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বাবা আদমের মাজার

প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন বা বর্তমান মহাস্থানগড়ের রাজধানী হিসেবে বগুড়া জেলা ঐতিহাসিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাজশাহী বিভাগের আওতাধীন এই জেলাটি উত্তরবঙ্গের শিল্প ও ব্যবসা বাণিজ্যের অন্যতম পীঠস্থান হিসেবে গণ্য হয়। অতীত ঐতিহ্যবাহী এই জেলাটিতে রয়েছে নানা প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা, যা ভিন্ন এক শতকের নানান ঘটন অঘটনের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আজও। এসব স্থাপনার সামনে দাঁড়িয়ে কেউ আজও হয়তো সেই কয়েক শতাব্দী অতীত কল্পনায় চলে যায়। প্রাচীন কোন অত্যাচারী রাজার সৈন্য বহর হেঁটে যায় তাঁর সামনে কিংবা দখলদারি কায়েম করতে দু-পক্ষের অস্ত্রের ঝনঝনানি আর ঘোড়ার তীব্র হ্রেষা।
আজকে আপনাদের জানাবো তেমনই একটি প্রাচীন ইতিহাস সমৃদ্ধ বাবা আদমের মাজার ও আদমদিঘী এর প্রখ্যাত এক দিঘী নিয়ে। বগুড়া জেলার একটি উপজেলার নাম আদমদীঘি। নাম শুনেই বোঝা যায় এই নামের পেছনে রয়েছে উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনাপ্রবাহ। জানা যায়, এই উপজেলা শহরটির অস্তিত্ব ১৩'শ শতাব্দীর পরেই কেবল পাওয়া যায়। আর এর উত্থানের পেছনে রয়েছে যুদ্ধ আর রাজ শাসনের ইতিহাস। তখন এই অঞ্চল শাসন করতেন রাজা দ্বিতীয় বল্লাল সেন। বল্লাল সেনের তখনকার রাজধানী ছিলো ঢাকার বিক্রমপুর। তিনি ছিলেন অত্যাচারী এক জমিদার। তার অত্যাচারের হাত থেকে নিম্ন বর্ণের হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান কেউই বাদ যেতো না।
বাবা আদমের মাজার
ঠিক সেই সময়টাতে পার্শ্ববর্তী আরাকান রাজ্য হতে বাবা আদম নামে এক মুসলিম ধর্ম প্রচারকের আগমন ঘটে এই অঞ্চলে। ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্য বারো জন শিষ্য নিয়ে বাবা আদম এখানে আসেন। এখানে আস্তানা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাঁর অনুসারীর সংখ্যাও। কেবল ধর্ম প্রচারকই নয় তিনি দয়ালু এবং মহানুভব একজন মানুষ ছিলেন। তাঁর শিষ্যদের আচার-আচরণ জনগণের মধ্যে বাবা আদমকে জনপ্রিয় করে তোলে এবং আশপাশের অঞ্চলেও তাঁর প্রভাব গড়ে ওঠে। তাঁর ডাকে সারা দিয়ে স্থানীয় পানি সংকট নিরসনে হিন্দু, মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষজন এক হয়ে দিঘী খনন করা শুরু করে। বিশাল এই দিঘী যা এক সময় বাবা আদমের নামেই পরিচিতি লাভ করে।আর স্থানীয় জায়গাটাও আদমদিঘী হিসেবে ধীরে ধীরে ইতিহাসের পাতায় ঠাই করে নেয়। হিন্দু রাজার রাজত্বে এসে অন্য ধর্মের একজন ধর্ম প্রচারকের এমন জনপ্রিয়তা এবং মুসলমানদের ক্রমাগত সংখ্যা বৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী যুদ্ধকেই ডেকে আনে। বল্লাল সেনদের সাথে মুসলমানদের সেই যুদ্ধে বাবা আদম আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে আদম দিঘীতে নিয়ে আসা হয় এবং আঘাতের ফলে তাঁর মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর পরে তাঁকে আদমদিঘীর দক্ষিণ পাড়ে কবর দেয়া হয়। শোনা যায়, মৃত্যুর পূর্বেই এখানে নিজের মৃত দেহ সমাধির ব্যাপারে তিনি অনুরোধ করে যান। তাঁর কবরকে ঘিরেই এখানে পরবর্তীতে মাজার গড়ে ওঠে যা বাবা আদমের মাজার নামে পরিচিত। নানা সময়ই এখানে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নানা ভক্ত বৃন্দ ছাড়াও সাধারণ দর্শনার্থীর আগমন ঘটে।
যেভাবে যাবেন :
ঢাকা থেকে বাসে বা ট্রেনে করে বগুড়া যাওয়া যায়। বগুড়া জেলার আদমদিঘী সদর ইউনিয়ন পরিষদের পেছনেই অবস্থিত। বগুড়া থেকে আদমদীঘির দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। বগুড়া শহর হতে সিএনজি, বাস, অটোরিকশায় করে এখানে যাওয়া যায়।
আরো পড়ুন ঃ উড়াল দেব আকাশে: অভিজ্ঞতা লিখে জিতে নিন বিমানের টিকিটসহ নানা পুরস্কার!
ফেসবুক পেইজঃ ট্রাভেল বাংলাদেশ
সাখাওয়াত হোসেন এস এম