বান্দরবানের সকল দর্শনীয় স্থানসমূহের তালিকা
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল পাহাড়ি কন্যা বান্দরবান ভ্রমণ করুন অনাবিল শান্তিতে

মারমা ভাষায় বান্দরবানের নাম 'রদ ক্যওচি ম্রো'। পার্বত্য এই জেলা ভ্রমন পিয়াসুদের নিকট তুমুল জনপ্রিয়। অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার ভ্রমণ কিংবা পাহাড়ের গহীনে হারিয়ে নিজেকে খুজে পেতে অসংখ্য পর্যটক বান্দরবান ভ্রমন করেন। আর পুরো বান্দরবানজুড়েই এতো বেশি দর্শনীয় স্থান যে, আপনাকে বেশ কয়েকবার বান্দরবান যেতে হবে সবগুলো স্পট দেখার জন্য কিংবা বেশ লম্বা একটি সময়জুড়ে বান্দরবানে কাঁটাতে হবে। সেই ধারাবাহিকতায় ট্রাভেল বাংলাদেশের পাঠকদের আজ আমরা জানাবো বান্দরবানের সকল দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে।
বড়ইতলী :
কক্সবাজার বান্দরবান সীমান্তের নাইক্ষ্যাংছড়িতে বড়ইতলী ঝরনা অবস্থিত। মেরিন ড্রাইভ বা রামু যেকোনো দিক থেকেই আপনি এই ঝরনাতে যেতে পারবেন। যারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করে তাদের জন্য এটি খুবই আদর্শ একটি জায়গা।
জিংসিয়াম সাইতার :

আপনি যদি ট্রেকিং করতে ভালোবাসেন তবে এটি আপনার জন্য আদর্শ একটি জায়গা। অনিন্দ্য সুন্দর এই জায়গাটি রুমা থানার রুমানার পাড়ার পাশেই অবস্থিত। তিন ধাপ জুড়ে তিনটি ঝরনা রয়েছে এখানে। রাস্তা বেশ দুর্গম হওয়ায় যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে এখানে ট্রেকিং করবেন। তুইনুম ঝরনা : ম্রো ভাষায় এটি কালো পানির ঝিরি নামের পরিচিত। আলিকদম উপজেলায় ম্রো সম্প্রদায় অধ্যুষিত ৪ নং কুরুকপাতা ইউনিয়নের তুইনুম ঝিরিতে এটি অবস্থিত। সোনাইছড়ি : এই ট্রেইলটিতে গুহা, ঝরনা ও পাহাড় সব ধরনের অভিজ্ঞতা পাবেন। চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে অটো বা সিএনজিতে করে ফকিরহাট রেললাইনে যেতে হবে আপনাকে। এরপর সেখান থেকে ট্রেকিং শুরু করতে হবে।
মুনলাই পাড়া : 
কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজম গড়ে উঠেছে এখানে। মূলত পাহাড়ি জীবনধারা দেখার জন্য অনেকেই এই স্থান ভ্রমনে যেয়ে থাকেন। মুনলাই পাড়াই ৫৪টি পরিবার বসবাস করে। রুমা বাজার পৌছে সেখান থেকে ৩ কিলোমিটার দূরেই মুনলাই পাড়ার অবস্থান।
সাঙ্গু নদী :

সাঙ্গু নদীর অপর নাম শঙ্খ। এই নদীর দুই তীরে রয়েছে পাহাড়, বন, নদী ও ঝরনা। নৌকা ভ্রমনের দারুন এক অভিজ্ঞতা পেতে পারেন সাঙ্গু নদীতে। এই নদীতে ভ্রমনের জন্য আপনাকে প্রথমে থানচি যেতে হবে। এরপর থানচি থেকে সাঙ্গু নদী ভ্রমনে যেতে পারবেন। তাজিংডং : বান্দরবানের রুমা উপজেলার রোমাক্রী পাংশা ইউনিয়নে এই বিশাল পাহাড় অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৩০০ ফুট উঁচুতে এর অবস্থান। ট্রেকার আর এডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য অন্যতম আকর্ষন হচ্ছে তাজিংডং। পাতাং ঝিরি
ঝরনা : রুমা উপজেলায় অপরুপ এই ঝরনা অবস্থিত। এই ঝিরির শীর্ষে উঠা বেশ কঠিন হলেও অনেকেই উঠে থাকেন। নীল দিগন্ত
পর্যটন কেন্দ্র : থানচি উপজেলার জীবন নগর এলাকায় এটি অবস্থিত। এখান থেকে খুবই সুন্দর পাহাড়ের ভিউ পাবেন। বান্দরবান শহর থেকে জিপ বা চান্দের গাড়ি পাবেন এখানে যাওয়ার জন্য।
শৈলপ্রপাত ঝরনা :

রুমা সড়কের ৮ কিলমিটার দূরে শৈলপ্রপাত অবস্থিত। এর সৌন্দর্য একেক সময়ে একেক রকমের হয়ে থাকে। বান্দরবান শহর থেকে জীপ বা চান্দের গাড়িতে এখানে যেতে পারবেন।
ঋজুক ঝরনা : রুমা বাজার থেকে নদীপথে থানচি যাওয়ার পথে ঋজুক ঝরনা পড়ে। সাঙ্গু নদীর পাড়ে অবস্থিত এই ঝরনা থেকে প্রায় সারা বছরেই পানি পড়তে থাকে।
জাদিপাই ঝরনা : বাংলাদেশের সব থেকে সুন্দর ঝরনার নামের তালিকায় সবার প্রথমে এটিই থাকবে। ঝরনাপ্রেমীদের প্রিয় একটি গন্তব্য হচ্ছে এই জাদিপাই ঝরনা। রুমা উপজেলার জাদিপাই পাড়ায় এই ঝরনাটি অবস্থিত।
রুপমুহুরী ঝরনা : আলীকদম উপজেলা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে পোয়ামুহুরী এলাকায় মাতামুহুরি নদীর কুল-ঘেষে রুপমুহুরী ঝরনার অবস্থান। পাথরে ঘেরা পাহাড়ের বুকে এই ঝরনা আপনাকে মুগ্ধতার ভুবনে নিয়ে যাবে।
মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স :
সমতল থেকে প্রায় দেড় হাজার ফুট উঁচুতে এই পর্যটন কমপ্লেক্সের অবস্থান। চকরিয়া এলাকায় লামা আলীকদম সড়কের ১৬ কিলোমিটার পয়েন্টে এই নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র মিরিঞ্জা অবস্থিত।
আলীর সুরঙ্গ : আলীকদম উপজেলা সদর থেকে তিন কিলমিটার পূর্ব-দক্ষিনে আলীর পাহাড় অবস্থিত। আর এই আলীর পাহাড়ে চারটি সুরঙ্গের অবস্থান।
তিনাপ সাইতার :

বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে তিনাপ সাইতার অবস্থিত। জায়গাটি দুর্গম এবং একিই সাথে অসম্ভব সুন্দর। রোয়াংছড়ি বা আত্ত্যাহপাড়া দু-দিক দিয়েই তিনাপ সাইতার যেতে পারেন। তবে যারা অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসে তারা রোয়াংছড়ি রুটকেই বেছে নিয়ে থাকেন।
ফাইপি জলপ্রপাত : বান্দরবানের থাইকাং পাড়ায় এই ফাইপি জলপ্রপাত অবস্থিত। থানচি বা রুমা দুদিক দিয়েই আপনি এখানে যেতে পারবেন।
বাকলাই ঝরনা : থানচি উপজেলার বাকলাই পাড়ায় চমৎকার এই ঝরনাটি অবস্থিত। ৩৮০ ফুট উচু এই ঝরনা বাকলাই গ্রাম থেকে ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
আন্ধারমানিক : বান্দরবানের থানচি উপজেলার বড় মদক এলাকায় আন্ধারমানিকের অবস্থান। এর মূল আকর্ষন নারেসা ঝিরি।
আমিয়াখুম :

মিয়ানমার সীমান্তের পাশেই নাক্ষিয়ং স্থানে এই জলপ্রপাতটি অবস্থিত। ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্রতা আপনাকের বেশ ভালোভাবেই মুগ্ধ করবে।
কেওক্রাডং : বান্দরবান শহর থেকে রুমা বাজার হয়ে বগালেকে আসতে হবে আপনাকে প্রথমে। এরপর বগালেক থেকে ট্রেকিং করে কেওক্রাডং এ যেতে পারবেন।
চিংড়ি ঝরনা : বগালেক থেকে কেওক্রাডোং যাওয়ার পথেই চিংড়ি ঝরনার দেখা মিলবে।
সাকাহাফং পর্বত : থানচি বাজার থেকে ট্রেকিং করে এই পাহাড়ের চূড়ায় আপনাকে পৌঁছাতে হবে।
লিলুক ঝরনা :
থানচি বাজার থেকে বোটে করে তিন্দু যেতে হবে প্রথমে আপনাকে। এরপর তিন্দু থেকে ট্রেকিং করে লিলুক ঝরনায় যেতে পারবেন। তিন্দু : থানচি বাজার থেকে থেকে বোটে তিন্দু যেতে পারবেন।
লামা : বান্দরবানের উপজেলা লামা ক্রমশ পর্যটকদের নিকট বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চকোরিয়া থেকে লামাগামী বাস পাবেন।
নীলাচল : বান্দরবান শহর থেকে নীলাচলে যাওয়ার জন্য জিপ বা চান্দের গাড়ি পাবেন।
লামোনই ঝরনা : আলীকদম বা থানচি যেকোন ভাবেই লামোনই ঝরনায় যেতে পারবেন।
প্রান্তিক লেক : বান্দরবান শহর থেকে লোকাল বা রিজার্ভ সিএনজি যোগে প্রান্তিক লেকে যেতে পারবেন।
বগালেক :
বান্দরবান শহর থেকে রুমা বাজার হয়ে বগালেক যেতে হবে আপনাকে। তিন দিকে পাহাড় আর পাহাড়ের বুকে লেক, রুপকথার কোনো স্থানের মতোই সুন্দর এই জায়গাটি।
ডিমপাহাড় : বান্দরবান শহর থেকে রিজার্ভ জিপ বা চান্দের গাড়িতে ডিমপাহাড়ে যেতে পারবেন।
নীলগিরি : 
বান্দরবান শহর থেকে চান্দের গাড়ি বা জিপে নীলগিরিতে যেতে পারবেন। মেঘলা : বান্দরবান জেলা শহরে প্রবেশের ৫ কিলোমিটার আগে মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স অবস্থিত।
নাফাকুম : থানচি থেকে নৌকায় রোমাক্রি যেতে হবে আপনাকে। এরপর রোমাক্রি থেকে শ্বাস রুদ্বকর ট্রেকিং করে নাফাকুম যেতে হবে আপনাকে।
স্বর্ণ মন্দির :
বান্দরবান জেলার বালাঘাটা এলাকায় এই স্বর্ণ মন্দির অবস্থিত।
মোঃ খালিদ বিন জামান এস এম