জাতীয় মাছ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ইলিশ মাছের অবাধ প্রজনন ও প্রকৃতিকভাবে উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ অনন্য

চকচকে রুপালী ইলিশ। ছবি : ষাট গম্বুজ বার্তা

 জাতীয় মাছ ইলিশ বাংলাদেশের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। অনাদিকাল থেকেই আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে, কর্মসংস্থান ও আমিষ জাতীয় খাদ্য সরবরাহে এই মাছ অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে। বিগত দশেক বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট সমস্যার কারণে (নদ-নদীর নব্যতা হ্রাস, পরিবেশ বিপর্যয়,  নির্বিচারে জাটকা নিধন ও অধিক মাত্রায় ডিমওয়ালা ইলিশ আহরণ) ইলিশ উৎপাদন দ্রুত হ্রাস পাচ্ছিলো। এ মাছের উৎপাদন সহনশীল পর্যায়ে বজায় রাখেত বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা, কৌশল যেমন : অভয়াশ্রম ঘোষণা, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ও জাটকা সংরক্ষণ ইত্যাদি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। ইলিশ মাছ সারা বছরই কম-বেশি প্রজনন করে থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রজনন করে অক্টোবরে (আশ্বিন/কার্তিক) বড় পূর্ণিমায়।  এই সময় শতকরা প্রায় ৬০-৭০ ভাগ ইলিশ মাছই পরিপক্ক ও ডিম ছাড়ার উপযোগী অবস্থায় থাকে। আর এই সময়েই বেশি পরিমাণ (মোট ধৃত মাছের ৫০-৬০ শতাংশ) মাছ ধরা পড়ে। নির্বিচারে ডিমওয়ালা মাছ ধরা ও জাটকা নিধনের ফলে ইলিশ মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও নতুন প্রজন্মের প্রবেশন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল।

ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পরা ইলিশ। ছবি : পরিবেশ ডট কম

তাই ইলিশ মাছের অবাধ প্রবেশন নিশ্চিতকরণের জন্যে কতকগুলি নির্দিষ্ট এলাকায় অভয়াশ্রম ঘোষণা করে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তেমনই অবাধ প্রজনন ও প্রকৃতিকভাবে অধিক ডিম ও পোনা উৎপাদনের জন্য 'মৎস সংরক্ষণ ১৯৫০'-এর অধীনে সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুমে আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার দিনসহ পূর্বের ৩ দিন পরের ৪ দিন মোট ১১ দিন প্রধান প্রজনন এলাকায় ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

  • ইলিশ মাছের প্রজাতিগত বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক বিস্তৃতি :
ইলিশ মাছ ইন্ডিয়ান শ্যাড (Indian shad) নামে পরিচিত। এ মাছ Cluipriformes বর্গের Clupeidae পরিবারের Alosinae উপ-পরিবারে Tenualosa গণের অন্তর্ভুক্ত। উক্ত Tenualosa গণটি দীর্ঘ দিন যাবত Hilsa গণ নামে পরিচিত ছিল। সারাবিশ্বে Tenualosa গোণের মোট ৫ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। T.ilisha প্রজাতির মাছ ভারত মহাসাগরের উত্তরাংশে(পারস্য উপসাগর হতে পূর্বদিকে মায়ানমার পর্যন্ত) বিস্তৃত এবং প্রধানত বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের দেশসমূহে পাওয়া যায়। Tenualosa গণের পাঁচটি প্রজাতির মধ্যে বাংলাদেশে শুধুমাত্র T.ilisha এবং T.toli বা চন্দনা ইলিশ এই দুই ধরনের প্রজাতি পাওয়া যায়। T.ilisha স্বাদে সুস্বাদু হয়ে হয়ে থাকে। T.toli দিয়ে সাধারনত নোনা ইলিশের শুটকি তৈরি করা হয়ে থাকে।

  • বাংলাদেশে ইলিশ মাছের বিস্তৃতি :
[caption id="attachment_28381" align="alignnone" width="887"] ছবি : দৈনিক দেশকাল

বাংলাদেশের ইলিশ মাছের বিস্তৃতি ব্যাপক। এক সময় দেশের প্রায় সব প্রধান নদ-নদী এবং নদী শাখা ও উপ-নদীতেও প্রচুর পরিমানে ইলিশ মাছ পাওয়া যেত। বন্যা বা প্লাবনের বৎসরে নদীর সাথে সংযোগ আছে এমন সব বিল ও হাওড়েও ইলিশ মাছ কখনও কখনও পাওয়া যেত। বর্তমানে দেশের প্রায় ১০০টি নদ-নদীতে ইলিশ ও জাটকা পাওয়া যায় এবং প্রধান আহরণ এলাকা হচ্ছে পদ্মা, বিষখালী, মেঘনা নদীর নিন্মাঞ্চল, তেতুলিয়া, কালাবদর বা আড়িয়াল খা (নিন্ম অংশ), ধর্মগঞ্জ, নয়াভাংগানি ইত্যাদি নদী এবং মোহনা ও বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় অঞ্চল। এসব এলাকায় প্রায় সারা বছর ইলিশ ধরা পড়ে। ইলিশের জন্যে বিখ্যাত এক সময়ের পদ্মা, ধলেশ্বরী, গড়াই, চিত্রা, মধুমতি ইত্যাদি নদীতে বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে ইলিশ মাছ প্রায় পাওয়া যায় না বললেই চলে।   


তথ্যসূত্র : বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট www.fri.gov.bd