বন্দরনগরী চট্টগ্রাম : যার সৌন্দর্যে মার্কিন নাগরিকও আটকে গেছিলেন

ট্রাভেল বাংলা : বন্দরনগরী চট্টগ্রাম



চুয়েট।

চুয়েট। ছবি : সংগৃহীত


যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এসেছেন জগদ্বিখ্যাত সব পর্যটকেরা। প্রকৃতির এক অপার লীলাভূমি বাংলাদেশ। সৌন্দর্যের মধ্যে বিশেষ করে প্রত্মতাত্বিক নিদর্শন, ঐতিহাসিক মসজিদ এবং মিনার, পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত, পাহাড়, অরণ্য ইত্যাদি অন্যতম। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যুগ যুগ ধরে মুগ্ধ করে এসেছে এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দেশের প্রতিটি এলাকা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে বিশেষায়িত। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হচ্ছে বাংলাদেশের কক্সবাজার। যার সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে অনেক উন্নত দেশের নাগরিকেরা থেকে গেছেন এই বাংলায়। তেমনই একজন আমেরিকান ভদ্রমহিলা যিনি বাংলায় খোঁজে পেয়েছেন পৃথিবীর রুপ।

বিগত বিশ বছর ধরে বসবাস করছেন চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী নামের এলাকায় (এই মুহুর্তে উনার নামটি মনে করতে পারছিনা)। তিনি ছিলেন পেশায় একজন ইউনিভার্সিটির শিক্ষিকা। লিখেছেন বিশ'টির মত বই। লেকচার দিতে গিয়েছেন ত্রিশ কিংবা তারও বেশী দেশের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি'তে। একদিন তার কাছে এক সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, ‘এত দেশ বাদ দিয়ে 'কেন তিনি বাংলাদেশে পরে আছেন'। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, 'পৃথিবীর অনেক দেশে ঘুরেছি কিন্তু, কোথাও এত সৌন্দর্য আমি দেখেনি তাই, এখানে থেকে গেলাম।' বাংলার এমন মায়াভরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে যে কারও কাছেই মোহনীয়, বিশ্বে এমন মায়াময় প্রকৃতি আর কোথায় আছে। ট্র্যাভেল বাংলাদেশের পাঠকদের জন্যে আজ থাকছে সৌন্দর্যের অকৃপণ ছোয়ায় সাজানো বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থানের বর্ণনা। যেদিকেই যাবেন গাছপালা এবং পাহাড় একটি নিয়মিত দৃশ্য।


ডিসি হিল।

ডিসি হিল। ছবি : উইকিপিডিয়া



ডিসি হিল :

চট্টগ্রাম শহরের সিএনজিকে ডিসি হিল বললেই হবে। ডিসি হিল কি? চট্টগ্রামের যে কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, উত্‍সব, যেমন পহেলা বৈশাখ পহেলা ফাল্গুন , এসবের প্রাণকেন্দ্র হল ডিসি হিল। প্রায় সময়ই এখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়ে থাকে তা উপভোগ করতে পারেন অথবা ঘুরতে পারেন পুরো জায়গাটা। এটি বৃক্ষপ্রেমীদের স্বর্গ কারণ এই স্হানে মনোরম পরিবেশে তৈরি বেশ কিছু নার্সারি রয়েছে। একটি পাহাড়কে ঘিরে পার্ক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং নার্সারি গড়ে উঠেছে এই স্হানে। এখান থেকে বের হয়ে একটু সামান্য হাটলেই চেরাগী পাহাড় মোড়। কোনদিকে হাঁটবেন চিনতে না পারলে মানুষের সহায়তা নেয়া যেতে পারে। চেরাগী পাহাড় মোড়ে দেখবেন একটি অতি সুদৃশ্য মাজার যেটি রাস্তার মাঝখানে অবস্থিত।





ওয়ার সিমেট্রি। ছবি : উইকিপিডিয়া


ওয়ার সিমেট্রি :

এটি একটি সমাধিক্ষেত্র, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এই অঞ্চলে নিহত ব্রিটিশ সৈনিকদের এখানে সমাহিত করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম শহরের এই জায়গাটি ছবি তোলার জন্য খুবই আকর্ষনীয়। এছাড়া বিভিন্ন তথ্যে পরিপূর্ণ। জায়গাটি শুক্র ও শনিবার ছাড়া বাকি দিনগুলোতে ৩টা থেকে ৫টা খোলা থাকে।

জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর :

জিইসি থেকে চেপে বসুন ১০ নম্বর বাসে । গন্তব্য আগ্রাবাদ। আগ্রাবাদ বললেই নামিয়ে দিবে বাস। ৮ টাকা ভাড়া নিবে। আগ্রাবাদ যে পাশে বাস নামিয়ে দেবে সে পাশ দিয়ে যে রাস্তাটা ঢুকে গেছে ওটা ধরে সোজা হাঁটতে থাকবেন। সামনে এগুলেই বাম পাশে দেখবেন জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত :


পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। ছবি : সংগৃহীত


 বন্দরনগরী চট্টগ্রাম-এ অবস্থিত পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকতগুলোর মধ্যে একটি। চট্রগ্রাম শহরের কাছে এবং কর্ণফুলী নদীর মুখেই অবস্থিত এই সৈকত থেকে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারবেন। প্রকৃতিপ্রেমীরা নগরের ব্যস্ততা থেকে মুক্তি পেতে এখানে আসেন বঙ্গোপসাগরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। দর্শনীয় এই পর্যটন স্পটটি বাংলাদেশ নেভাল একাডেমী এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেই অবস্থিত। পতেঙ্গা সৈকতের প্রস্থ খুব বেশি নয় এবং এখানে সমুদ্রে সাঁতার কাটা ঝুঁকিপূর্ণ। সমুদ্র সৈকতজুড়ে ভাঙ্গন ঠেকাতে কংক্রিটের দেয়াল এবং বড় পাথরের খণ্ড রাখা হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে সৈকতের আশেপাশে বেশকিছু রেস্টুরেন্ট এবং খাবারের দোকান স্থাপিত হয়েছে। সৈকতে বাতির ব্যবস্থা করায় রাতের বেলা ভ্রমনকারী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। সূর্যোদয় দেখার জন্য এখানে আসতে হলে আপনাকে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতে হবে। চট্রগ্রাম শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় একঘণ্টায় বাস, টেম্পো অথবা অটোরিকশায় করে পতেঙ্গা সৈকতে পৌছাতে পারবেন।


সি আর বি

সি আর বি। ছবি : উইকিপিডিয়া


সিআরবি :

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম বিভাগের কোতোয়ালী থানার অধীনে টাইগার পাস সংলগ্ন পাহাড়ী এলাকায় অবস্থিত সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং (সিআরবি)। এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপকের নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়। ১৮৭২ সালে সম্পূর্ণ হওয়া ভবনটি বন্দর নগরীর প্রাচীনতম ভবন। এর পূর্বদিকে, সিআরবি সড়ক জুড়ে রয়েছে রেলওয়ে হাসপাতাল যা ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানে একটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাবনা ছিল এবং বর্তমানে যা ২৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। সিআরবি পার্শ্ববর্তী স্থানে রেল কর্মকর্তাদের জন্য একটি আবাসিক এলাকাও গড়ে উঠেছে। সিআরবি পাহাড়ের রয়েছে হাতির বাংলো। এছাড়াও কেন্দ্রের দিকে রয়েছে শিরীষতলা নামে একটি প্রশস্ত মাঠ, যেখানে প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন ইত্যাদি ঐতিহ্যগত উৎসব আয়োজিত হয়ে থাকে।  


আরো পড়ুন ঃ বিশ্বের সেরা ১০ সহিংস শহর : ভ্রমণের আগে দেখে নিন তালিকাটি 

নাবিলা বুশরা   এস এম