দেশের ভেতরে কাছে কোথাও এডভেঞ্চার এ্যাক্টিভিটির সুযোগ পেলে মন্দ হয় না। অল্প ছুটিতে পরিবার বা বন্ধুরা সবাই মিলে মজার কিছু এ্যাক্টিভিটিতে অংশগ্রহণ করতে পারলে আনন্দ বেড়ে যায় বহুগুণে। আর তাই গাজীপুরে রয়েছে দেশের প্রথম আউটডোর এ্যাক্টিভিটি ক্যাম্প দ্যা বেজ ক্যাম্প বাংলাদেশ (The Base Camp Banladesh)।
এ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ও ক্যাম্পিং লাভারদের কথা মাথায় রেখে গড়ে তোলা হয়েছে এটি। যারা সময়ের অভাবে দূরে কোথাও রোমাঞ্চের খোঁজে যেতে পারছেন না তারা চলে যেতে পারেন দ্যা বেজ ক্যাম্পে। দ্যা বেজ ক্যাম্প ঢাকা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে অবস্থিত। ঢাকা ময়মনসিংহ হাইওয়ের সাথেই এর অবস্থান। এর খুব কাছেই রয়েছে ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক।
দ্যা বেজ ক্যাম্প বাংলাদেশ দেশের প্রথম আউটডোর অ্যাক্টিভিটি ক্যাম্প। ২০১৩ সালে এটি গড়ে তোলা হয়। এডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য দারুণ একটি জায়গা এটি। এছাড়া যারা ক্যাম্পিং পছন্দ করেন তাদের জন্যও চমৎকার গন্তব্য এটি। ঢাকা থেকে খুব কাছে এর অবস্থান হওয়াতে কম সময়ে খুব সহজেই আউটডোর এ্যাক্টিভিটির মজা নিতে পারেন।
ছবি : দ্যা বেজ ক্যাম্প
দ্যা বেজ ক্যাম্পের ভেতরে যেতেই চোখে পড়বে আগত অতিথিদের পার্ক করা গাড়ির সারি। সামনেই সবুজে ছাওয়া বিশাল মাঠ। দেখতে পাবেন কেউ ক্রিকেট খেলছে, কেউবা তীর ছুড়ছে। শিশুদের কেউ কেউ ব্যস্ত বল ছোঁড়াছুড়িতে আবার কেউবা মনের আনন্দে সাইকেল চালাচ্ছে। মাঠের পাশে আছে গ্যালারি।
এখানকার প্যাকেজগুলো বেশ কয়েক ধরণের চ্যালেঞ্জ, গেম ও এক্টিভিটি দিয়ে সাজানো হয়েছে।
এ্যাডভেঞ্চারমূলক কার্যক্রম
চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশে এখানে উপভোগ করতে পারবেন এ্যাডভেঞ্চারমূলক কার্যক্রম। এখানে রয়েছে অনট্রি এবং অনগগ্রাউন্ড চ্যালেঞ্জ, আর্চারি, ফুটবল, ক্রিকেট, ফরেস্ট ট্র্যাকিং, সাইক্লিং মাঙ্কি পাস, টায়ার পাস, টায়ার স্যান্ডউইচ, জিপ লাইন, রোপ ট্রেঞ্চ, রোপ ওয়াক এর মতো কার্যক্রম।
এছাড়াও শিশুদের জন্য আছে পৃথক খেলার ব্যবস্থা। প্রতিটি এ্যাক্টিভিটিতেই সেফটির ব্যাপার মাথায় রাখা হয়। দিক নির্দেশনার জন্য রয়েছে ইন্সট্রাক্টর। শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ইন্সট্রাক্টররা আপনাকে নির্দেশনা দিবেন।
বেজ ক্যাম্পে রয়েছে সুইমিংপুল। অ্যাক্টিভিটিস শেষে শীতলতা পেতে সুইমিংপুলে ইচ্ছেমত সাঁতরে বেড়াতে পারবেন। সাথে আছে ভালো মানের চেঞ্জিং রুম এবং ওয়াশ রুম।
বেজ ক্যাম্পের বনে ট্রেকিংসহ পুকুরে মাছ ধরারও ব্যবস্থা রয়েছে। ক্যাম্পিং পছন্দ করেন যারা তাদের জন্য তাঁবুতে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কমপক্ষে ২০ জন থাকা যায় এমন তাঁবুও আছে এখানে।
ছবি : দ্যা বেজ ক্যাম্প
তাঁবুর পাশেই চলে ক্যাম্পফায়ার উৎসব। আছে বারবিকিউ পার্টির সকল ব্যবস্থা। শীতের রাতে এখানে ব্যাডমিন্টন খেলা চলে। আবার দিনে চলে ক্রিকেট, ফুটবল, ফ্রিসবি, টেবিল টেনিস, ক্যারাম ও আর্চারি। বনভোজন করতে চাইলে সে ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে। এখানে দিনে ও রাতে বুফের ব্যবস্থা থাকে। এছাড়া আগে বুকিং দেয়া থাকলে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খাবারের ব্যবস্থা করা যাবে।
তাঁবু ছাড়াও এখানে থাকার অন্যান্য ব্যবস্থা রয়েছে। আছে কাঠের তৈরি দ্যা নেচার রুম। এছাড়াও আছে বাংলো। ডুপ্লেক্স বাংলো বাড়ির দোতলায় রয়েছে ৭০ জন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন সম্মেলন কক্ষ। আছে ২৪ ঘণ্টা জেনারেটর সুবিধা। বাংলোতেও ক্যাম্পফায়ার করে বারবিকিউ করার ব্যবস্থা রয়েছে। স্কুলের বাচ্চাদের জন্য রয়েছে স্পেশাল জোন ও আলাদা প্যাকেজ।
এখানে ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা লেগেই থাকে। তাই এখানে আসার জন্য আগে থেকেই বুকিং দিতে হবে।
ছবি : দ্যা বেজ ক্যাম্প
খরচপাতি :
এখানে এসিসহ এটাচ বাথরুম ব্যবস্থাসহ সিঙ্গেল রুমের ভাড়া পড়বে ২,৫০০ টাকা । আর ডাবল রুমের ভাড়া পরবে ৩,৫০০ টাকা (সবগুলোতেই ডাবল বেড, এসি এবং এটাচ বাথের সুবিধা রয়েছে)। বাংলো নিতে চাইলে ভাড়া পরবে ১২,০০০ টাকা। বাংলোতে আপনি পাবেন ডাবল বেডসহ রুম, লাউঞ্জ এবং লিভিং রুম।
এখানে তাঁবু শুধুমাত্র মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া যায়। তাঁবু বুকিং করতে পারবেন এক্টিভিটি বেজড গ্রুপ প্যাকেজের ওপর। গ্রুপ সাইজের ওপরে আলাদা আলাদা প্যাকেজের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। বেজ ক্যাম্পের চেক ইন টাইম সকাল ১১টায় ও চেক আউট টাইম সকাল ১০ টায়।
কিছু জিনিস মনে রাখবেন :
এখানে ড্রাগস এবং অস্ত্র সঙ্গে আনা যাবে না
লিকার সম্পূর্ণ নিষেধ
শুধুমাত্র নির্দিষ্ট স্থানে ধূমপান করা যাবে এবং
বাইরের খাবার আনা যাবে না।