মহিষার ঐতিহাসিক দিগম্বরী দিঘী : শরীয়তপুর
শরীয়তপুর জেলার ঐতিহাসিক দিগম্বরী দিঘী

শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষারে দিগম্বরী দিঘী অবস্থিত। প্রায় ৬০০ বছর পূর্বে দিঘীটি খনন করা হয় বলে ধারণা করা হয়। বার ভূঁইয়াদের অন্যতম চাঁদ রায় ও কেদার রায় এর নির্দেশে এখানে দিঘী খনন করা হয়। দিগম্বরী দেবীর উদ্দেশ্যে নির্মিত এই দিঘী পরবর্তীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম এক তীর্থস্থানে পরিণত হয়। প্রায় ২৩ একর জায়গাজুড়ে দীঘি ও এর আশপাশের স্থাপনা রয়েছে।
মহিষারে দিগম্বরী দিঘী
দিঘীর চারপাশে দিগম্বরী সন্ন্যাসী বাড়ি, জোড়া পুকুর, মানসা মন্দির, কালী মন্দির ও লক্ষ্মী মন্দির রয়েছে। এসবের পাশাপাশি রয়েছে মেলা চত্বরও। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ হতে ০৭ (সাত) দিন ব্যাপী বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাচীনকাল হতেই এখানে সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার পূজার রীতি রয়েছে। পহেলা বৈশাখের মেলা ও পূজায় দেশ বিদেশ থেকে নানান দর্শনার্থীর আগমন ঘটে এখানে। দিগম্বরী দীঘি ও এর সংশ্লিষ্ট স্থাপনা এই অঞ্চলের অন্যতম সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর শীতের সময় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি দেখা মেলে হাজার হাজার অতিথি পাখির। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা বিভিন্ন মানত নিয়ে এখানে আসেন। এছাড়াও নানান কল্প কাহিনীর প্রচলন রয়েছে এই দিঘীকে ঘিরে।তাদের বিশ্বাস, দীঘির জলে স্নান করলে সব পাপ ও রোগমুক্তি ঘটে। ১৯৮২ সালে অর্ধশতাধিক সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন করে ৬০০ বছরের পুরনো দীঘিটি পুন:র্খনন করা হয়। খননের সময় বেশ কিছু দুর্লভ মূর্তি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে ৪২ কেজি ওজনের একটি কষ্টি পাথরের মূর্তি। বর্তমানে দিগম্বরী দীঘি ও এর আশপাশে অঞ্চল ঘিরে পর্যটন এলাকা গড়ে তোলা হয়েছে। এখানকার অন্যতম দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে বুড়ির হাঁট জামে মসজিদ, রুদ্রকর মঠ, সুরেশ্বর দরবার শরীফ, ধানুকা মনসা বাড়ি, মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম, পন্ডীতসার, শিবলিঙ্গ, মানসিংহের বাড়ি, প্রখ্যাত কবি ও গীতিকার অতুল প্রসাদ সেনের জন্মস্থান মগর, বৈদ্য প্রধান স্থান রাজনগর, কুরাশি, বুড়ির হাঁটের মসজিদ, হাটুরিয়া জমিদার বাড়ি, রুদ্রকর মঠ, জমিদার বাড়ি সহ অন্যান্য।
যেভাবে যাবেন :
শরিয়তপুর যেতে হলে প্রথমে মাওয়া ঘাট হয়ে যেতে হবে। ঢাকার সায়দাবাদ বা গুলিস্তান হতে মাওয়া ঘাট যেতে হবে প্রথমে। বিআরটিসি, ইলিশ, গ্রেট বিক্রমপুর, আনন্দ পরিবহণে করে মাওয়া যেতে পারেন। মাওয়া ঘাটে নেমে তারপর লঞ্চ বা স্পিড বোটে চড়ে নদী পার হবেন। নদী পার হয়ে শরীয়তপুরে বাস, মোটর সাইকেল বা টেম্পোতে করে যাওয়া যায়। জেলা শহরে পৌঁছে স্থানীয় বাহনে দিগম্বরী দীঘি যাওয়া যায়।সাখাওয়াত হোসেন এস এম