অনেক সময় দেখা যায় ঘোরাঘুরির ইচ্ছে থাকলেও সুবিধা অনুযায়ী সময় এবং দূরত্ব ঠিকভাবে খাপ খায় না। এমন অবস্থায় একদিনের ট্যুর হয়ে ওঠে সঙ্গী। সপ্তাহান্তে কিংবা কোন ছুটির দিনক্ষণ মিলিয়ে বের হয়ে পড়লেই চলে যায়। একদিনেই ঘুরে আসা যাবে এমন কিছু এক দিনের ট্যুর স্পট এর সন্ধান নিয়েই এবারের ব্লগ।
কুমিল্লা
ওয়ার সিমেট্রি, এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শতশত সৈনিক শায়িত আছে; ছবি : উইকিপিডিয়া
ঢাকা থেকে মাত্র দুই-আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া যায় কুমিল্লা। কুমিল্লায় আপনি দেখতে পারেন ওয়ার সিমেট্রি যা মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈন্যদের কবর। এছাড়া শালবন বিহার এবং বৌদ্ধ মন্দিরও রয়েছে বিখ্যাত স্থাপনা এবং টুরিস্ট স্পট হিসেবে।
এছাড়াও ঘুরে দেখতে পারেন ধর্ম সাগর পাড়, রূপবান মুড়া, ইটাখোলা মুড়া। হাতে সময় থাকলে অনুমতি সাপেক্ষে ঘুরে দেখা যাবে বার্ড ( Bangladesh Academy for Rural Development)। এসব জায়গা রিকশা বা সিএনজি নিয়েই ঘুরে দেখতে পারবেন।
গাছগাছালি ঘেরা নান্দনিক জিন্দা পার্ক; ছবি : সংগৃহীত
এক দিনের ট্যুর স্পট হিসেবে এটা খুবই জনপ্রিয়। জিন্দা পার্ক নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বাসে করে যেতে হবে কাঞ্চন ব্রিজ, যারা ভাড়া জনপ্রতি ২৫ টাকা। কাঞ্চন ব্রিজ থেকে ইজি বাইকে করে জিন্দা পার্ক পর্যন্ত ভাড়া ৩০টাকা। এখানে রয়েছে একটি কমিউনিটি স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক, লাইব্রেরি, মসজিদ, ঈদগাহ, কবরস্থান এবং একটি রেস্তোরাঁ।
এখানকার লাইব্রেরি বর্তমানে একটি স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে জনপ্রিয়। গাছের ছায়ায় রোদের আবছা আলোয় অপূর্ব এই ভবনটি নিঃসন্দেহে মন কেড়ে নিতে পারে। প্রায় ২৫০ প্রজাতির ১০হাজারের মত গাছপালা রয়েছে এই জায়গাটা ঘিরে।
মাওয়া ও আড়িয়াল বিল
বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আড়িয়াল বিল; ছবি : আমার বিক্রমপুর
ঢাকা থেকে মাওয়াগামী যেকোনো পরিবহন ধরে ঘুরে আসা যাবে মাওয়া এবং আশেপাশের জায়গাগুলো। গুলিস্তান থেকে মাওয়াগামী বাস ভাড়া ৬০/৭০টাকা। হাতে সময় থাকলে পদ্মা রিসোর্টেও বেড়ানো যাবে। স্পিডবোট নিয়ে মাওয়া পার হয়ে ঘাটের হোটেল থেকে নিতে পারবেন ইলিশের স্বাদ।
এরপরে ফিরে এসে আড়িয়াল বিলও ঘুরে দেখতে পারেন। তার জন্য মাওয়া থেকে বাস বা লেগুনা নিয়ে শ্রীনগর যেতে হবে। এরপরে অটোরিকশা বা লোকাল সিএনজি নিয়ে যাওয়া যাবে আড়িয়াল বিল। হাতে সময় থাকলে নৌকা নিয়ে ঘণ্টা চুক্তিতে বিলে ঘোরাও যাবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, গাজীপুর; ছবি : মোসতাক আহমেদ সজীব
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে অবস্থিত সাফারি পার্ক। ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত বাঘের বাজার থেকে মাত্র ৩কিমি পশ্চিমে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক।
এছাড়া রয়েছে নুহাশ পল্লী যা জেলা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে পিরুজালী গ্রামে অবস্থিত। এই দুইটি জায়গা দেখার পরে হাতে সময় থাকলে ঘুরে যেতে পারেন ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান থেকে।
চাঁদপুর
ড্রোন থেকে চাঁদপুর; ছবি : উইকিপিডিয়া
একদিনের ট্যুরে ঢাকা থেকে মাত্র তিন ঘণ্টার ছোট লঞ্চ ভ্রমণে যাওয়া যেতে পারে চাঁদপুরে। এরপরে রিক্সা নিয়ে চলে যেতে পারেন তিন নদীর মোহনা’য় পর্যটক স্পটে। সেখান থেকে বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে বাস ধরে হাজীগঞ্জ গিয়ে ঘুরে আসতে পারেন।
এখানে সুসজ্জিত এবং কারুকার্যময় দর্শনীয় একটি মসজিদ রয়েছে। চাঁদপুরে কালীবাড়ি রোডে অবস্থিত হোটেলগুলোর খাবার বেশ ভাল। ইলিশ খেতে চাইলে এখানে চলে আসতে পারেন।
সাদুল্লাহপুর
সাদুল্লাপুরের গোলাপ গ্রাম ছবি : ট্যুর ডট কম
মিরপুরের বেড়িবাধ থেকে নৌকায় জনপ্রতি মাত্র ত্রিশ টাকায় যাওয়া যাবে গোলাপ গ্রাম, সাদুল্লাহপুরে। তুরাগের তীরে অবস্থিত এই গ্রাম পুরোটাই যেন গোলাপ বাগান। নানা রঙের নানা জাতের গোলাপের চাষ হয় এখানে।
পাইকারী দরে গাছ এবং ফুল নিতে ব্যবসায়ীরা ছাড়াও হাজারো মানুষ ভিড় করে এখানে। ফেরার পথে বিরুলিয়া জমিদার বাড়িগুলোও দেখে যাওয়া যেতে পারে।
বি: দ্র: যেকোনো জায়গায় ঘুরতে গেলে সেখানকার অধিবাসীদের ক্ষতি হয় এমন কাজ করা যাবে না এবং পরিবেশ দূষিত হয় এমন কিছু থেকে বিরত থাকতে হবে।