স্বাধীনতার প্রায় ১৩ বছর পর ১৯৮৪ সালে দেশে নতুন জেলা হিসেবে যুক্ত হয় জয়পুরহাট। থানা থেকে মহকুমা আর মহকুমা থেকে জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায় জয়পুরহাট জেলা। উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত সব মিষ্টিই জয়পুরহাটে পাওয়া যেত। কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় নতুন নতুন মিষ্টি বাজারে নিয়ে আসছে মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো, মিষ্টির দোকানগুলো।
জয়পুরহাটের মিষ্টি ছবিঃ হাসান ব্লগ
স্থানীয়রা জানান, জয়পুরহাটে দুধের উৎপাদন বেশি ও দামও কম হওয়াতে নানা ধরনের মিষ্টি তৈরী যেমন শুরু হয়েছে তেমনি সারা শহর জুড়ে গড়ে উঠেছে মিষ্টির দোকান। ব্যবসায়ীরা প্রচলিত মিষ্টির বাইরে ভিন্ন ভিন্ন মিষ্টি নিয়ে আসছেন এবং মিষ্টিপ্রমীরাও তা দারুণভাবে গ্রহণ করছেন।
রসগোল্লা, রসমঞ্জুরি, চমচম, কালোজাম, পানতোয়া, ছানা জিলাপীর সাথে যুক্ত হয়েছে হাড়িভাঙ্গা, দুধকুমারী, পাটিসাপটা, খেজুরদানা, জামাই সন্দেস, ক্ষীরমালাই, পেস্তাভোগ, বাদামলাড্ডুসহ নতুন নানাধরনের মিষ্টান্ন।
কৃত্রিম রং বা সুগন্ধি ব্যবহার না করে খাঁটি দুধ, চিনি, মসলা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে মিষ্টি তৈরী করছে এখানকার মিষ্টির দোকানগুলো। নতুন মিষ্টিগুলো স্বাদে কোন অংশেই পুরনো মিষ্টিগুলো থেকে কম নয়। স্থানীয়দের অনেকে সাম্প্রতিককালে নতুন এসব মিষ্টিগুলোকেই পছন্দ করছেন বেশি।
হাড়িভাঙ্গা মিষ্টি ছবিঃ হাসান ব্লগ
সাম্প্রতিককালে জয়পুরহাটে মিষ্টি হিসেবে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছে শর্ম্মার হাড়িভাঙ্গা মিষ্টি। জয়পুরহাট শহরের মরোয়ারী পল্লীতে দূর্গা বস্ত্রালয় বিপরীত পাশে অবস্থিত শর্ম্মা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারসহ জেলার সকল মিষ্টির দোকানেই নানাভাবে তৈরী করা হয় বিখ্যাত এই হাড়িভাঙ্গা মিষ্টি। হাড়িভাঙ্গা মিষ্টি দেখতে আমের অর্ধেক সাইজের হয় এবং এর মধ্যে বিশেষভাবে তৈরী মালাই থাকে। তাছাড়া মালাইয়ের রসে ডুবানো থাকে বিধায় স্বাদ যেন আরও বেড়ে যায়।
শর্ম্মা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার
শর্ম্মা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ছাড়াও মধুমিতা সুইটমিট, বন্ধু মিঠাই এন্ড ডেইরী ও শাহপুরের কিং সুইটস জয়পুরহাটের বিখ্যাত মিষ্টার দোকান।
জয়পুরহাটের মিষ্টির দামের কথা বলতে গেলে, রসকদম মিষ্টির মতোই খেজুরদানা ও হাড়িভাঙ্গা মিষ্টির দাম প্রতিকেজি ৩০০-৪০০ টাকা, মজাদার ক্ষীরমালাই প্রতি পিছ ৩০ টাকা, বাদাম লাড্ডু প্রতি কেজি ২৫০ টাকা। অন্য মিষ্টিগুলোর দাম প্রতিকেজি ২০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে।