জাপানে গরমের শুরু হয় জুলাই থেকে। ঋতু ভিত্তিক জাপানে বিভিন্ন রকম উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। গরমের সময়ে শুরু হওয়া এসব উৎসব উপভোগ করতে চাইলে জুলাই মাসে আপনাকে আসতে হবে জাপানে। জাপানের ঐতিহ্য গুলোকে জানা যাবে এসব উৎসবের মধ্য দিয়ে।
আতশবাজি ফোটানো :
জাপানে জুলাই থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় আতশবাজি ফোটানোর আয়োজন করা হয়ে থাকে। ছবি : জে ডব্লিও ওয়েব মেগাজিন
জুলাই মাসে আয়োজিত সবচেয়ে জনপ্রিয় আয়োজন হলও আতশবাজি ফোটানো, এটি অনেকটা গ্রীষ্মকে স্বাগতম জানানোর মতোই।
জাপানে জুলাই থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় আতশবাজি ফোটানোর আয়োজন করা হয়ে থাকে। এসময় টোকিওতে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই আতশবাজি ফাটিয়ে গ্রীষ্মের তপ্ত গরমকে স্বাগত জানানো হয়।
জমকালো এসব আতশবাজি ফোটানোর জন্য সুমিডা ফেস্টিভ্যাল খুব জনপ্রিয়। জাপানে সবচেয়ে বড় আকারে আতশবাজি ফোটানো হয় এই ফেস্টিভ্যালে।
সুমিডা নদীর তীরে আয়োজিত এই ফেস্টিভ্যালে প্রায় বিশ হাজারের মতো জমকালো আতশবাজি ফোটানো হয়, যা দেখতে প্রায় ১ লাখ লোকের সমাগম ঘটে।
প্রতিবছর ৭ জুলাই তানাবাটা উৎসব পালন করা হয় জাপানে। ছবি : উইকিমিডিয়া
প্রতিবছর ৭ জুলাই তানাবাটা উৎসব পালন করা হয়। বলা হয় দুই প্রেমিক ওরিহিমে ও হিকোবশি ছায়াপথে হারিয়ে যায়, ফলে তাদের আর মিলন হতে পারে না।
কিন্তু ৭ জুলাই একদিনের জন্য তারা এক হতে পারে। তাদের জন্যই এই উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। দিনটিকে কেন্দ্র করে টোকিও ডিজনিল্যান্ড, যোইয়োজি মন্দির সহ বিভিন্ন জায়গায় ফানুশ ওড়ানোসহ বিভিন্নরকম আয়োজন করা হয়ে থাকে।
সমুদ্রসৈকত ভ্রমণ :
জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে জাপানের কান্টো প্রদেশের সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাছাড়া টোকিও থেকে এক-দুই ঘণ্টার দূরত্বেও রয়েছে সমুদ্র যার নীল জলরাশিতে গরমের তাপ থকে দূরে শীতলতার স্পর্শ পাবেন। সমুদ্রের ধারে অস্থায়ীভাবে থাকা, খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় পর্যটকদের জন্য।
গ্রীষ্মের এই সময়টিতে পর্যটকদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রায় সবগুলো সমুদ্র সৈকতেই নিরাপত্তা প্রহরীরা অবস্থান করেন। তাই আপনি নিশ্চিন্তে আপনার সময় উপভোগ করতে পারবেন।
কিমোনোর মতোই জাপানিজ পোশাক ইউকাটা বিশেষ করে গরমের সময়ের জন্যেই তৈরি করা। ছবি : ফ্লিকার
জুলাইয়ের গরমে জাপান ভ্রমণে গেলে জাপানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ইউকাটা অবশ্যই পরে দেখবেন। কিমোনোর মতোই জাপানিজ পোশাক ইউকাটা বিশেষ করে গরমের সময়ের জন্যেই তৈরি করা।
জাপানের গ্রীষ্মের উৎসবগুলোতে ইউকাটা পরে যাওয়াটাই অনেক ক্ষেত্রে রেওয়াজ। বিভিন্ন ডিজাইনের ইউকাটা পাওয়া যায়,বিভিন্ন দোকানে একদিনের জন্য ভাড়াও পাওয়া যায়। জাপান ভ্রমণে গেলে এই ঐতিহ্যবাহী পোশাকটি একবার অবশ্যই পরখ করে দেখবেন।
স্বাদ নিন মজাদার ডেজার্টের :
জাপানের জুলাই মানে তীব্র গরম। গরমের এই প্রখরতাকে দূরে রাখতে তাই ঠাণ্ডা ডেজার্টের কোন তুলনা হয় না। জাপানে তাই এসময় 'কাকিগরি' (জাপানিজ আইসক্রিম) খুব বিখ্যাত।
কাকিগরি আইসক্রিম ও সাথে স্পেশাল চা; গরমের দিনে জাপানের সবচেয়ে জনপ্রিয় ডেজার্ট এটি।
মিতামা মাটসুরি :
টোকিওতে হওয়া মিতামা মাটসুরি অনুষ্ঠানটি জাপানের ঐতিহ্যের সাথে সম্পৃক্ত। ছবি : টিপ টুইং ওয়ার্ল্ড
জুলাই মাসের মিতামা মাটসুরি খুবই জনপ্রিয় একটি উৎসব। টোকিওতে হওয়া এই অনুষ্ঠানটি জাপানের ঐতিহ্যের সাথে সম্পৃক্ত। ৪ দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠান বিশেষ করে ইয়াসুকুনি মন্দিরেই আয়োজন করা হয়ে থাকে। সাধারণত জুলাইয়ের ১৩-১৬ তারিখেই এটি আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানটির বিশেষত্ব হলও এদিন প্রায় ত্রিশ হাজার ফানুশ আকাশে ওড়ানো হয়ে থাকে। বিভিন্ন রকমের খাবার ছাড়াও জাপানের ঐতিহ্যবাহী ' বোন ওডোরি' নাচের আয়োজন করা হয় এতে।