গোয়া : অনিন্দ্য সুন্দর সৈকতের রাণী

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : গোয়া-র চমৎকার সমুদ্র সৈকতগুলো





পাখির চোখে বাগা সৈকত, গোয়া। ছবি : ইতিনারি


 দুরন্ত নীল সাগরের সৈকতে বসে তীরে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের গর্জন শুনতে কার না ভালো লাগে। সমুদ্র আর আকাশের নীলিমা যেখানে মিতালি করে গভীর মায়ায়। ভ্রমণ প্রেমীরা ভালোবাসেন সমুদ্র সৈকতে কাটানো প্রিয় মুহূর্তগুলি। সুনীল সমুদের সৌন্দর্যের মূর্ছনায় যদি আপনিও হয়ে যেতে চান আনমনে তবে যেতে পারেন ভারতের গোয়া রাজ্যে। গোয়ার সমুদ্র সৈকতগুলো বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে দারুন জনপ্রিয়। বালুময় সৈকতে রক্তিম সূর্যের অনাবিল দৃশ্য, সাগর তটে আছড়ে পড়া ঢেউ আর সবুজ পাহাড়ের সৌন্দর্য দিয়ে মাখা অঞ্চল হল গোয়া। ভারতের সবচেয়ে ক্ষুদ্র রাজ্য হল এই গোয়া।


গোয়ার ইতিহাস

ভারতের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত এই জায়গাটি ১৯৬১ সাল পর্যন্ত পর্তুগিজদের শাসনে ছিল। যার ফলে এখানকার সবকিছুতেই পর্তুগিজদের প্রচুর প্রভাব অনুভব করা যায়। ইতিহাস বলে, ১৬০০ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত গোয়াই ছিল এশিয়ায় পর্তুগিজদের একমাত্র উপনিবেশ। ১৯৬১ সালের ১৮ ডিসেম্বর ভারতীয় সৈন্যরা গোয়া ভারতের দখলে আনে। পরবর্তীতে তা ভারতের একটি রাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৮৭ সালে এটি গোয়া রাজ্য নামে পরিচিতি পায়। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ এই রাজ্যটির পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পৃথিবীজুড়ে দারুণ সুখ্যাতি রয়েছে। অপার সৌন্দর্যের এই জায়গায় জলপ্রপাত, প্রাচীন গুহা, ঐতিহাসিক গির্জা কি নেই! সৈকতে নারিকেল গাছের সারি, পানকৌড়ি-বকসহ নানা পরিযায়ী পাখির কলতান আর স্বচ্ছ পানির ফোয়ারার রূপে মুগ্ধ হন এখানে আগত পর্যটকরা। গোয়ার মূল আকর্ষণ হলও এখানকার সমুদ্র সৈকতগুলো । এই সৈকতগুলোকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে পর্যটন ব্যবসা । অপরূপ এই সমুদ্র সৈকতগুলোর টানে লাখো লাখো বিদেশী পর্যটকদের আগমন ঘটে এখানে । হানিমুনের জন্যও এই সৈকতগুলো চমৎকার ডেসটিনেশন।


বেতুল বিচ, গোয়া

বেতুল সৈকত, গোয়া। ছবি : হোয়াটস শট ডট ইন


সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে গোয়ার সৈকতগুলোতে শুরু হয় আলো-আঁধারি খেলা। রাতের পার্টি, উৎসব, হৈ-হুল্লোড়ের জন্য গোয়ার সৈকতগুলো ব্যাপক বিখ্যাত। সাগর পাড়ে সাজানো থাকে শত শত টেবিল-চেয়ার। টেবিলের উপর থাকে স্বচ্ছ কাচের চিমনি। তার ভেতরে জ্বল জ্বল করে মোমবাতির আলো। মোহনীয় এই পরিবেশে পর্যটকরা উপভোগ করে ক্যান্ডেল নাইট ডিনার। রাত নামলেই পানশালা, পাব, ডিস্কো, ক্লাব ও ক্যাসিনোতে লোকজন মেতে থাকে জীবনের উল্লাসে। জাহাজের ক্যাসিনোতে সজোরে বাজতে থাকা গানের আওয়াজ সকাল হওয়া পর্যন্ত অবিরাম চলতে থাকে। গোয়ার অসংখ্য সৈকতগুলোর মধ্যে এমন কয়েকটি সমুদ্র সৈকত রয়েছে যেগুলির পরিবেশ বেশ শান্ত ও মনোরম। সেখানে বেশি মানুষের সমাগম হয় না। নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে সেসব সৈকতে যেতে পারেন । আবার এখানকার জনপ্রিয় সৈকতগুলিতে সব সময়ই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। আসুন এক নজরে গোয়ার কিছু সমুদ্র সৈকত সম্পর্কে জেনে আসা যাক।


বাগা সৈকত :

গোয়ার সৈকতগুলোর মধ্যে এটি বেশ বিখ্যাত। গোয়া ভ্রমণে এই সৈকতে আপনাকে যেতেই হবে। এই সৈকতটি সৌন্দর্যের দিক থেকে যেমন দারুণ তেমনই সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও বেশ উন্নত। এখানে অত্যন্ত মনোরম সময় কাটানো যায়।


অনজুনা সৈকত :

গোয়ার উত্তর অংশের একটি ছোট গ্রাম হল অনজুনা। তার একপাশে এই সমুদ্র সৈকত। এই সৈকতে বেড়াতে গেলে জনপ্রিয় ফ্লিয়া মার্কেটে অবশ্যই ঘুরে আসবেন। কেনাকাটার জন্য বাহারি জিনিসে ভরপুর এই মার্কেটটি পর্যটকদের আনাগোনায় সবসময় মুখর থাকে।


বাটারফ্লাই সৈকত :

গোয়ার চমৎকার একটি সৈকত হল বাটারফ্লাই সৈকত। মনোরম সৌন্দর্যের এই সৈকতটির লাবণ্য আরো বেশি বেড়ে যায় বসন্তকালে। এই সময় গাছে গাছে ফুল ফুটে চারপাশটা মিষ্টি রূপে ভরে তুলে। হাওয়া বইলে মনে হয় এই বুঝি স্বর্গে চলে এলেন।


বাটারফ্লাই বিচ, গোয়া

বাটারফ্লাই সৈকত, গোয়া। ছবি : ট্রাভেল ট্রায়াঙ্গল ডট কম



ক্যালানগুট সৈকত :

গোয়ার সবচেয়ে বড় সৈকত হল এই ক্যালানগুট সৈকত। এই সৈকতকে বলা হয় 'বিচের রানী'। এখানে প্রচুর পর্যটকের আনাগোনা দেখা যায়।


আরামবল সৈকত :

এই সৈকতটি উঁচু টিলা দিয়ে ঘেরা। উত্তর গোয়ার এই সমুদ্র সৈকতটি সৌন্দর্যের দিক থেকে অন্যান্য সৈকতের চেয়ে বেশ এগিয়ে। এই সৈকতের পাশে স্বচ্ছ জলের চমৎকার লেক রয়েছে। এর কাছেই আছে বাজার। অন্যান্য সৈকতগুলোর মতো এখানে অতো বেশি লোক সমাগম হয় না। তাই নির্জনতার মাঝে অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে এই সৈকতটিতে যেতে পারেন।


বেতুল সৈকত :

গোয়ার সবচেয়ে শান্ত সৈকতগুলোর মধ্যে এটি একটি। দক্ষিণ গোয়ার এই সৈকতটি সকালে ভ্রমণের জন্য অত্যন্ত মনোরম। সকালের শান্ত সমুদ্রের সাথে চারপাশের নৈসর্গ উপভোগের জন্য খুব সকালে এখানে আসতে পারেন। এর চারপাশে তেমন কোনও দোকানপাট নেই, নেই কোনো হৈচৈ। নির্জনতার স্বাদ একেবারে ষোল আনা পাবেন এখানে।


কাকোলেম বিচ :

গোয়ার শান্ত সৈকতের মধ্যে এটি আরেকটি। এখানে নির্জনতার মাঝে সমুদ্রের অপার সৌন্দর্য আপনাকে করবে বিমুগ্ধ। এই সৈকতকে 'টাইগার বিচ'-ও বলা হয়। যদিও এখানে কোনো বাঘ নেই। তাই নির্জন এই সৈকতে মনের আনন্দে সময় কাটাতে পারবেন।  

রুবাইদা আক্তার   এস এম