জয়পুরহাটের ঐতিহাসিক গোপীনাথপুর মন্দির

নন্দিনী প্রিয়ার পূজা স্থানে তৈরি করা হয়েছে গোপীনাথপুর মন্দির


গোপীনাথপুর মন্দির

ছবি: সংগৃহীত


আমাদের দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা আমাদের অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে এখনও স্ব-মহিমায় নিজের অস্তিত্ব জানান দেয়। প্রতিটি জেলার এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা যেমন আমাদের দেশের সৌন্দর্যের অন্যতম অনুষঙ্গ তেমনি পর্যটকদেরও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা যেমন আমাদের অতীতের চিহ্ন হিসেবে আপন মহিমায় দাঁড়িয়ে আছে তেমনই এগুলোর রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব। এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন প্রাচীন মন্দির। এই মন্দিরগুলো তাদের অনবদ্য স্থাপত্যশৈলীর জন্য পরিণত হয়েছে আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্যে। তেমনই একটি মন্দির হলো জয়পুরহাটের গোপীনাথপুর মন্দির।

জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলা সদর হতে মাত্র ৬/৭ কিলোমিটার পূর্বে গোপীনাথপুরে এই মন্দিরটি অবস্থিত। এই প্রাচীন মন্দিরটি গোপীনাথ ঠাকুরের মন্দির নামেও পরিচিত। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৫০০ শতাব্দীর শেষ দিকে বাংলার শাসক সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ প্রজাদের দুঃখ নিজ চোখে দেখার উদ্দেশ্যে এই এলাকায় আসেন। তিনি নন্দিনী প্রিয়ার পূজা পার্বণ এবং অতিথি সেবায় মুগ্ধ হয়ে তামার ফলকে লিখে পূর্ণগোপীনাথপুর ও গোপালপুর মৌজার সব সম্পত্তি দান করেন। পরবর্তীতে নন্দিনী প্রিয়ার সেই পূজা স্থানে তৈরি করা হয়েছে গোপীনাথপুর মন্দির। এই মন্দিরে কাঠের গোপীনাথের যে বিগৃহটি রয়েছে তা সাধক নন্দিনী প্রিয়ার নিজ হাতে স্থাপন করেছিলেন। তবে আলাউদ্দিন হুসেন শাহের দেয়া তাম্র পত্রটি মুক্তিযুদ্ধের সময় হারিয়ে গেছে ।

গোপীনাথপুর মন্দির

ছায়া-সুনিবিড় সবুজে ঘেরা দারুণ প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে এই মন্দিরটি অবস্থিত। যা এই প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শনটিকে আরো সৌন্দর্যমন্ডিত করেছে । পাল যুগের নির্মাণশৈলীর সাথে এ মন্দিরটির কাঠামোর বেশ সাদৃশ্য রয়েছে। বাংলা ১৩০৪ সালে এক ভূমিকম্পে এ মন্দিরটি ভেঙ্গে পড়ে । ভেঙ্গে যাওয়া মন্দিরটি ১৯২৮ হতে ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে আবার নির্মাণ করা হয়। তবে এখনও এর পুরাতন কারুকার্যের কিছু নমুনা মুল ভবনে দেখতে পাবেন । এই মন্দিরটির উচ্চতা ৫০ ফুট।

এখনও প্রতিদিন এখানে পূজা-অর্চনা চলে। নিয়মিত সকাল সন্ধ্যায় আরতি করা হয় মন্দিরে। এই মন্দিরে সারা বছরই পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর ফাল্গুনে দোল পূর্ণিমাতে এখানে মেলা বসে। এই মেলা চলে তের দিন ধরে। এটি বাংলাদেশের প্রাচীন ও বড় মেলা। এসময় দূর- দূরান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা এখানে আসেন। মেলার সময় এই মন্দির ও তার পাশের এলাকা ঘিরে মৃৎশিল্প, হস্তশিল্প, কারুপণ্যসহ নানারকম তৈজসপত্রের কেনা-বেচা চলে। এছাড়াও সারা বছর জুড়েই ভ্রমণপ্রেমীদের এখানে আগমন ঘটে। আর তাই এই মন্দিরটি একটি আকর্ষণীয় পিকনিক স্পট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

যেভাবে যাবেন :

ঢাকা থেকে সরাসরি বাস কিংবা ট্রেনে চড়ে জয়পুরহাটে যাওয়া যায়। ঢাকার গাবতলি, সায়দাবাদ, টেকনিক্যাল,মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে জয়পুরহাটের বাস পেয়ে যাবেন । ননএসি বাসে ভাড়া পড়বে ৪৫০ টাকা। আর ট্রেনে যেতে চাইলে কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেন পেয়ে যাবেন। জয়পুরহাট বাস স্ট্যান্ড থেকে বাস বা সিএনজি চড়ে আক্কেলপুর উপজেলা নেমে সেখান থেকে অটোভ্যান যোগে গোপীনাথপুর মন্দির যেতে পারেন। জয়পুরহাট থেকে আক্কেলপুর উপজেলা যেতে ৩০-৪৫ মিনিটের মত সময় লাগবে। আর ভাড়া পড়বে ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মতো।

যেখানে থাকবেন :

জয়পুরহাট শহরে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হোটেল সাদ; ১ নং স্টেশন রোড জয়পুরহাট, প্রমি হোটেল; সদর থানার পশ্চিম পাশে, হোটেল পৃথিবী ইন্টারন্যাশনাল; সদর রোড,জয়পুরহাট। এছাড়া আক্কেলপুর উপজেলা সদরে থাকতে চাইলে ডাকবাংলোতে থাকতে পারেন। সেক্ষেত্রে আগে থেকে অনুমতি নিতে হবে।  

রুবাইদা আক্তার   এস এম