গাইবান্ধা পৌর পার্ক : শহরের কর্মব্যস্ততা ও যান্ত্রিকতার বিপরীতে স্বস্তির নীড়

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বর্তমানে গাইবান্ধার বিনোদনের মূল কেন্দ্র এই পার্ক

gaibandha-park দর্শনার্থীদের সমাগমে পরিপূর্ণ গাইবান্ধা পৌর পার্ক।  ছবি : ট্যুর টুডে বিডি

 বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা গাইবান্ধা নিজের ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও দর্শনীয় স্থান রয়েছে এই জেলার নিজ দখলে। গাইবান্ধা পৌর পার্ক অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান। গাইবান্ধার মানুষের বিনোদনের কথা ভেবে গাইবান্ধার পৌর মেয়র এই পার্ক তৈরি করেন। ১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই পার্ক এখনও মানুষের বিনোদনের নীড়। গাইবান্ধা জেলার প্রথম শহীদ মিনার এই পার্কের কাছেই অবস্থিত। শহীদ মিনারের পশ্চিম দিকে চলে গেছে পৌর পার্কের রাস্তা । পৌর পার্কের মূল আকর্ষণ একটি পুকুর। পুকুরের চারদিকে নানা রকম বিনোদনের ব্যবস্থা নিয়ে গড়ে উঠেছে জনসাধারণের এই আনন্দ স্থান। পুকুরের পানির কিছুটা অংশ ইস্পাতের রেলিং দিয়ে ঘেরা। পুকুরের মাঝে রয়েছে পানির ফোয়ারা। পুকুর পাড়ে বসার জন্য টাইলসের তৈরি আসন রয়েছে। এছাড়া পুকুরের চারিদিকে রয়েছে সুন্দর সরু সিঁড়ি। পুকুরের দুই কোণায় পানির উপরে চারটি সাদা রঙের কলামের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে লাল রঙের ছাদযুক্ত ছাউনি। এখানে দাঁড়িয়ে অনেকেই অবসরে গল্প-আড্ডায় মেতে ওঠেন।গাইবান্ধা পৌর পার্ক গাইবান্ধা পৌর পার্ক। ছবি : গাইবান্ধা জেলা

 এছাড়া পুরো পার্কের চারদিক ঘিরে রয়েছে রঙ্গিন বাতি। সন্ধ্যার পর অন্ধকার নেমে এলে এই বাতিগুলো পার্ককে আলোকিত করে রাখে। বাচ্চাদের জন্যেও পার্কে রয়েছে খেলার ব্যবস্থা। পুকুরের পাশে রয়েছে বাচ্চাদের জন্য দুটো করে দোলনা ও স্লাইডার। আরও রয়েছে বাঘ, জিরাফ ও হাতির ভাস্কর্য। বিভিন্ন উৎসব বিশেষ করে নতুন বছরের দিনে এখানে লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। দিনভর চলে নানা অনুষ্ঠান ও আয়োজন। স্থানীয় মানুষেরা ব্যস্ততাকে ছুটি দিয়ে প্রতিদিন ভিড় করেন এখানে। পৌর পার্কের পাশে রঙ্গিন ছাতা মেলে বসে চটপটি ও ফুচকার দোকান। চটপটি, ফুচকা খেতে খেতে আড্ডা দেয়ার মতো দারুণ জায়গা এই পার্ক।

কীভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে গাইবান্ধা যাওয়ার জন্য সরাসরি বাস রয়েছে। এসি ও নন-এসি দু-ধরনের বাসই যাতায়াত করে ঢাকা-গাইবান্ধা রুটে। ঢাকা থেকে নাবিল পরিবহণ, হানিফ পরিবহণ, এস আর ট্রাভেলস এর বাসে করে সাড়ে ছয় ঘণ্টা থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাবেন গাইবান্ধায়। আন্তঃনগর ট্রেনে আসতে চাইলে আসতে হবে রংপুর এক্সপ্রেস ও লালমনি এক্সপ্রেসে। রংপুর এক্সপ্রেস রবিবার এবং লালমনি এক্সপ্রেস শুক্রবারে বন্ধ থাকে। এছাড়া বাকি দিনগুলোতে এই ট্রেনে ঢাকা থেকে সরাসরি গাইবান্ধা আসতে পারবেন। গাইবান্ধা বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশা, ভ্যান কিংবা ইজিবাইকে যেতে পারবেন গাইবান্ধা পৌর পার্কে।

যেখানে থাকবেন : গাইবান্ধায় সরকারি আবাসনের মধ্যে রয়েছে গাইবান্ধা সার্কিট হাউজ, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র ইত্যাদি। এছাড়া, গাইবান্ধা সদর উপজেলায় বেশ কিছু বেসরকারি আবাসিক হোটেল রয়েছে। এগুলোর মধ্যে হোটেল নর্থ বেঙ্গল, হোটেল আর-রহমান, হোটেল আল-সাইফুল এবং এসকেএস ইন অন্যতম।

খাবার : গাইবান্ধা সদর উপজেলায় বেশ কয়েকটি খাবার হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে পুবালী হোটেল ও রেস্তোরাঁ, তৃপ্তি হোটেল ও রেস্তোরাঁ, প্রিয়াংকা হোটেল ইত্যাদি অন্যতম। রসমঞ্জরী গাইবান্ধার বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। গাইবান্ধায় গেলে এই মিষ্টির স্বাদ নিতে কিন্তু ভুলবেন না। গাইবান্ধা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, রমেশ ঘোষের মিষ্টির দোকানে পেয়ে যাবেন এই মজাদার মিষ্টি।