রসনামৃত : ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী খাবারদাবার

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়, পদ্মার ইলিশ ও পিঠা

ফরিদপুরের বিভিন্ন খাবারের মাঝে খেজুরের গুড়, ইলিশ ও বিভিন্ন স্বাদের পিঠা উল্লেখযোগ্য। এসব খাবারদাবার ফরিদপুরের স্বকীয়তাকে বহন করে। চলুন জেনে আসা যাক ফরিদপুরের এসব উল্লেখযগ্য খাবারদাবার সম্পর্কে।

খেজুরের গুড়

ফরিদপুরের খেজুরের গুড় সারা দেশেই বিখ্যাত; ছবি : ফরিদপুর প্রতিদিন


খেজুরের গুড় ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে খেজুরের গুড় অন্যতম। ফরিদপুরের খেজুরের গুড় সারা দেশে বিখ্যাত। এই জেলাতে রয়েছে প্রচুর খেজুর গাছ। খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করে সেই রস থেকে খেজুরের গুড় তৈরি করা হয়। বাংলা অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। তাই এ সময়ে এই অঞ্চলের গাছীরা খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করার কাজে থাকে ব্যস্ত। প্রচুর উত্তাপে খেজুরের রসকে ঘন ও শক্ত পাটালিগুড়ে পরিণত করা হয়। ধরন অনুযায়ী খেজুরের গুড়কে ঝোলা গুড়, দানা গুড়, পাটালি, চিটাগুড় ইত্যাদি ভাগে ভাগ করা যায়। তাছাড়া শীতের সকালে খেজুরের রস খাওয়ার স্বাদই থাকে আলাদা। এই খেজুর রস আর খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি করা হয় নানা ধরনের শীতের পিঠা ও অন্যান্য সুস্বাদু পিঠা। শীতের সকালে পুলি পিঠা, পায়েস, দুধ চিতই পিঠা ইত্যাদি পিঠা তৈরি করা হয় খেজুরের রস ও গুড় দিয়ে।

আরও পড়ুন : বাগাটের দেশ খ্যাত দই, ফরিদপুর

পদ্মার ইলিশ

পদ্মার ইলিশ

ফরিদপুরের পদ্মার ইলিশ; ছবি : বিডি জার্নাল


ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে পদ্মার ইলিশ মাছ অন্যতম। ফরিদপুর জেলা পদ্মার তীরবর্তী জেলা হওয়াতে ইলিশের মৌসুমে এখানে পাওয়া যায় অত্যন্ত সুস্বাদু ইলিশ। সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে অক্টোবর মাসের শেষ পর্যন্ত ইলিশের মৌসুম থাকে। এ সময়ে ইলিশ প্রজননের জন্যে সাগর থেকে পদ্মা নদীতে আসে। ইলিশ মাছ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। ইলিশ বাংলাদেশের একটি জিআই পণ্য। পৃথিবীর মোট ইলিশের প্রায় ৬০ শতাংশ ইলিশ মাছ উৎপন্ন হয় বাংলাদেশে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলাে পদ্মার ইলিশ। এর স্বাদই হয় আলাদা অন্যান্য জায়গার ইলিশ থেকে। এর স্বাদে যেকেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য।

আরও পড়ুন : ফরিদপুরের লালমোহন মিষ্টি

হরেক রকমের সুস্বাদু পিঠা

ফরিদপুরের পিঠা

উৎসব আমেজে এমন নানান ধরণের পিঠা দেখতে পাওয়া যায় এখানে; ছবি : সংগৃহীত


 ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে হরেক রকম পিঠা অন্যতম। হেমন্তের ধান কাঁটা উৎসবে কৃষকের ঘরে যখন নতুন ধান ওঠে সেই ধান ঢেকিতে ভেঙ্গে তৈরি হয় নানা রকম পিঠা। তখন কৃষকের ঘরে ঘরে হয় নবান্ন উৎসব। শীতকালে আবার পাওয়া যায় খেজুরের গুড়। তাই পুরা শীতকাল জুড়েই চলতে থাকে বাড়িতে বাড়িতে পিঠা তৈরির গমগমে আমেজ। আবার শরৎকালে বানানাে হয় তালের পিঠা, তালের বড়া, তালের পারােটা ইত্যাদি। আবার পহেলা বৈশাখে ও নানা উৎসবে সারা বছর জুড়েই থাকে এই অঞ্চলে পিঠা তৈরির উৎসব।

এই অঞ্চলের হরেক রকমের হলাে ভাপা পিঠা, খেজুর রসে ভাপা পিঠা, শাহি ভাপা পিঠা, খোলা চিতই, দুধ চিতই, রস চিতই বা রসের পিঠা, সিদ্ধ কুলি পিঠা, ভাজা কুলি পিঠা, পাটিসাপ্টা, ক্ষীরে ভরা পাটিসাপ্টা ও তিলের পুলি। এছাড়াও আছে দুধ পুলি, তেলে ভাজা পিঠা বা পাকান পিঠা, সুন্দরী পাকান পিঠা, খেজুর রস দিয়ে পায়েস, কলার পিঠা, ইলিশ পিঠা, নকশি পিঠা, ফুলঝুরি পিঠা, বাদাম-নারকেল ঝাল পিঠা, তালের পিঠা, নারকেলের নাড়ু, খই এর মুড়কি, কলাই রুটি, কাউনের পায়েস, কাঁটা পিঠা, পাতা পিঠা ইত্যাদি ধরনের সুস্বাদু পিঠা।

 শফিক তুহিন   এস এম