শৈল্পিক স্থাপত্যের কিসমত মারিয়া মসজিদ : রাজশাহী

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : কিসমত মারিয়া মসজিদ বা দুর্গাপুর মসজিদ



কিসমত মারিয়া মসজিদ

ছবি : সংগৃহীত


পদ্মার তীরের প্রাচীন জেলা রাজশাহী আম ও রেশমি বস্ত্রের জন্যই শুধু বিখ্যাত নয়। এর রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বও। বয়ে চলা পদ্মার অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই জেলাটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শিক্ষার দিক থেকেও বেশ সমৃদ্ধ। ঐতিহ্যবাহী এই জেলাটির রয়েছে অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে আছে বিখ্যাত মসজিদ, মন্দির ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। রাজশাহীর তেমনই এক প্রাচীন নিদর্শন হল কিসমত মারিয়া মসজিদ (Kismat Maria Mosque)।

এই মসজিদটি রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলার মারিয়া গ্রামে অবস্থিত। রাজশাহী সদর থেকে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক ধরে প্রায় ১৩ কিলোমিটার গিয়ে শিবপুর বাজার থেকে আরও ৪-৫ কিলোমিটার গেলেই এই মসজিদটি পেয়ে যাবেন। স্থানীয়রা এই মসজিদটিকে দুর্গাপুর মসজিদ নামেই ডেকে থাকে। আমবাগান আর ফসলের মাঠ দ্বারা বেষ্টিত এই মসজিদটি দেখতে বেশ নান্দনিক।


ইতিহাস

এই মসজিদটির ইতিহাস সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা যায়নি। মসজিদের ফটকে অথবা অন্য কোথাও কোন শিলালিপিও খুঁজে পাওয়া যায়নি যা দেখে এর নির্মাণকাল সম্পর্কে জানা যাবে। তবে, এর নির্মাণশৈলী দেখে অনুমান করা হয়, মসজিদটি আনুমানিক ১৫০০ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল। ধারণা করা হয়, স্থানীয় কোন মুসলিম দরবেশ বা দিল্লির মোঘল শাসকদের নির্দেশে কোনো জমিদার কর্তৃক এটি নির্মিত হয়েছে। প্রাচীন এই মসজিদটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা কিংবদন্তি প্রচলিত আছে।


মসজিদের কারুকাজ

এই মসজিদের উপরিভাগে তিনটি গম্বুজ রয়েছে এবং মসজিদের চারধারে চারটি কারুকাজ সম্পন্ন পিলার দেখতে পাওয়া যায়। এই মসজিদের পূর্বদিকে প্রবেশের জন্য তিনটি ফটক রয়েছে। মসজিদটির সামনে লাগোয়া ভাবে ছোট্ট উঁচু খোলা বারান্দা আছে। বারান্দাটি অনুচ্চ প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত এবং একটি তিন ধাপের ছোট সিঁড়ি দ্বারা মাটির সাথে সংযুক্ত। প্রায় ২ ফুট থেকে ৩ ফুট উঁচু ভিত্তির উপর নির্মিত এই মসজিদের গম্বুজগুলোর সাথে পুরান ঢাকায় অবস্থিত কারতালাব খানের মসজিদের গম্বুজের ব্যাপক সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।


কিসমত মারিয়া মসজিদ

ছবি : সংগৃহীত


 মসজিদটি আকারে বেশ ছোট। মসজিদটির ক্ষয়ে যাওয়া দেয়ালে এখনও কিছু শৈল্পিক কর্ম দেখতে পাওয়া যায়। মুসলিম ঐতিহ্য অনুসারে শিল্পীদের করা পোড়ামাটির টেরাকোটা এগুলো। গাছ-ফুল-লতা ইত্যাদির নকশা করা হয়েছে এগুলোতে। যা এই মসজিদের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই মসজিদের দক্ষিণ দিকে একটি ছোট ভবন দেখতে পাওয়া যায়। এটি একটি দ্বিতল চৌচালা স্থাপনা যা বিবির ঘর বলে পরিচিত। এই স্থাপনাটা নির্মাণ করা হয়েছে চুন, সুরকি ও ইট দিয়ে। অবাক করা ব্যাপার হলো, অন্যান্য প্রাচীন মসজিদের মত এই মসজিদের কাছে কোনো পুকুর বা দিঘি নেই। এমনকি কোনো ওযুখানাও নেই।


যেভাবে যাবেন :

ঢাকা থেকে বাসে বা ট্রেনে করে রাজশাহী যেতে পারেন। ঢাকার গাবতলি, কল্যাণপুর থেকে গ্রিন লাইন ও দেশ ট্র্যাভেলস এসি বাস রয়েছে। ভাড়া পড়বে ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা। এছাড়া শ্যামলী, হানিফ, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, বাবলু এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদি নন-এসি বাসে চড়েও রাজশাহী যেতে পারেন। ভাড়া পড়বে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর ট্রেনে যেতে চাইলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস ট্রেন রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এরপর রাজশাহী শহর থেকে আপনাকে শিবপুর বাজারে আসতে হবে। লোকাল বাসে করে ২৫ মিনিট থেকে ৩০ মিনিটে মাত্র ১০ টাকা ভাড়ায় শিবপুর বাজারে চলে আসতে পারবেন। তারপর শিবপুর বাজার থেকে আপনাকে পালি গ্রামে আসতে হবে। মাত্র ৫ টাকা ভাড়ায় আপনি এখানে আসতে পারবেন। পালিগ্রাম থেকে ভ্যানে করে খুব সহজেই কিসমত মারিয়া মসজিদে পৌঁছাতে পারবেন।

যেখানে থাকবেন : রাজশাহী শহরে বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেলে বিভিন্ন মানের রুম রয়েছে। অন্যান্য আবাসিক হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে হোটেল হক্স ইন, নাইস ইন্টারন্যাশনাল, ডালাস ইন্টারন্যাশনাল, শুকরান ইত্যাদি হোটেলে ৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকায় রুম পাবেন।  


রুবাইদা আক্তার   এস এম