ঐতিহাসিক কল্পনা বোর্ডিং-এ হোক জমপেশ ভুরিভোজ

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: ১৯৬৫ সালে শাঁখারিবাজারে চালু হয় কল্পনা বোর্ডিং


কল্পনা বোর্ডিং

নানান ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে কল্পনা বোর্ডিং; ছবি : সংগৃহীত


বোর্ডিং এ ঢুকেই দেখবেন পুরনো আমলের চেয়ার-টেবিল, স্টিলের থালা-গ্লাস। যেকোনো একটি টেবিলে বসলেই আপনার কাছে চলে যাবে কল্পনা বোর্ডিং-এর মেন্যু। ১২ পদের ভর্তা আর নানারকম সবজির পদ থেকে পছন্দ করে ভুরিভোজ শুরু করে দিন কল্পনা বোর্ডি-এ। ১৯৬৫ সালে চালু হওয়া কল্পনা বোর্ডিং আজও টিকে আছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। জজ কোর্ট হয়ে শাঁখারিবাজারে গেলে একদম শেষ মাথায় ডান দিকে সরু এক গলির ভেতর পড়বে 'কল্পনা বোর্ডিং'। থাকা-খাওয়া দু'ধরণের ব্যবস্থাই চালু রয়েছে কল্পনা বোর্ডিং-এ। বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তি কল্পনা বোর্ডিং-এ ভিড় করতেন এর খাবারের স্বাদের জন্য। রাজা তৈলক্ষ মহারাজ, সুবোধ মিত্র, আব্দুর রাজ্জাক, রনেশ দাস মৈত্র, নায়িকা সুলতানা, কোলকাতার তৎকালীন ছাত্রনেতা প্রিয়দাস মুন্সীসহ অনেকেই আসতেন কল্পনা বোর্ডিং-এ।

দেশ স্বাধীনের আগে প্রায়ই আসতো স্বয়ং বঙ্গবন্ধু, বোর্ডিং-এর ২১ নম্বর রুমটি সবসময় বরাদ্দ থাকতো তার জন্যে। যুদ্ধের সময় ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা এখান থেকেই ভিসা দেয়াসহ তাদের যাবতীয় কাজ করতেন। বোর্ডিং-এ সকালের খাবারের ব্যবস্থা করা হয় না। বোর্ডিং-এ খাওয়া-দাওয়ার কাজ চলে সকাল ১১টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। মেন্যুতে থাকে চিতল মাছের পেটি, চিতল মাছের কোপ্তা আর পাঁচ তরকারি। নামে পাঁচ তরকারি হলেও বিভিন্ন সবজি দিয়ে তৈরি বোর্ডিং-এর পাঁচ তরকারির সুনাম অনেক।

আরও পড়ুন : পুরান ঢাকার বিউটি বোর্ডিং : সুমন্ত গুপ্তের ভ্রমণ গল্প

এছাড়া মুড়িঘণ্ট, ইলিশ, রুই, বোয়াল, আইড়, টাকি মাছের ভর্তা, শৈল মাছের ভর্তা ইত্যাদিও থাকে মেন্যুতে। বোর্ডিং-এর চিতল মাছের পেটি ও চিতল মাছের কোপ্তা এতই সুস্বাদু যে একসময় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল বোর্ডিং থেকে এই খাবারের অর্ডার করত। বোর্ডিং এর চিতল পেটি খেয়ে প্রশংসা করেছিলেন আনন্দবাজার পত্রিকার এক সাংবাদিক। ঝাল কৈ ও মিষ্টি কৈ নামে দুইভাবে কৈ মাছ রান্না করা হয়। মাছ আর ভর্তাই শুধু নয়, মাংসের ব্যবস্থাও আছে বোর্ডিং-এ। শুধু পুরনো ঐতিহ্যই নয়, খাবারের উন্নত মানের কারণে কল্পনা বোর্ডিং আজও টিকে আছে আর ভোজন রসিকেরাও আজো ভিড় জমাচ্ছে কল্পনাতে।

আকার অনুযায়ী চিতলের পেটির দাম পড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। আইড় মাছ, কৈ মাছ পাওয়া যায় ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। এছাড়া বিভিন্ন পদের ভাজি, সবজি সব ১০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়। প্রতিদিন কল্পনা বোর্ডিং-এ প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ লোকের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। এছাড়া পছন্দমতো পার্সেল নেয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে বোর্ডিং-এ।

আরও পড়ুন : পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার গুলো

প্রথমদিকে কল্পনা বোর্ডিং ছিল কেবল দুইতলা। যুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনী বোর্ডিং পুড়িয়ে দেয়। ১৯৭২ সাল থেকে বোর্ডিং নতুন করে সাজানো হয়। বর্তমানে বাড়িয়ে কল্পনা বোর্ডিং চারতলা করা হয়েছে। বোর্ডিং-এ খাবারের পাশাপাশি থাকার ব্যবস্থাও বেশ উন্নত। ওপর তলায় থাকার ব্যবস্থা আর নিচতলায় খাবারের আয়োজন। বোর্ডিং-এ সিঙ্গেল রুমের ভাড়া ২০০ টাকা। ডাবল রুম ২৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন। কল্পনার আরেকটি বিশেষত্ব হলও পুরোপুরি পারিবারিক অংশীদারিত্বে চলে এই বোর্ডিং। বিখ্যাত সব লোকেদের আড্ডাখানা ছিল কল্পনা বোর্ডিং- এ। সেই ইতিহাসের সামিল হতে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন কল্পনা বোর্ডিং থেকে আর সাথে জমপেশ ভূরিভোজন তো থাকছেই। 

 ইন্দিরা বিশ্বাস

তথ্যসূত্র:  https://m-bdnews24 com.cdn.ampproject.org/v/s/m.bdnews24.com/amp/bn/detail/lifestyle/1405146?amp_js_v=a3&_gsa=1&usqp=mq331AQFKAGwASA%3D#aoh=15963681441887&referrer=https%3A%2F%2Fwww.google.com&_tf=From%20%251%24s


Click Here To See More