আসাম রাজ্য : নীল পাহাড় আর লাল নদের লীলাভূমি 

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : প্রাকৃতিক সম্পদ, নানান ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধিশালী আসাম রাজ্য

asam ছবি : সিলেট ভিউ ২৪

 “মনে করি আসাম যাবো জোড়া পাঙ্খা টঙাইবো

বাবু বলে কাম কাম সাহেব বলে ধরি আন সরদার বলে লিবো পিঠের চাম হে যদুরাম ফাঁকি দিয়া চলাইলি আসাম”

প্রতিবেশী বিশাল দেশ ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় এক রাজ্য এই আসাম। বৃক্ষ আচ্ছাদিত পাহাড়, মহা ব্রহ্মপুত্র নদ আর হিমালয়ের কোলঘেষা এই রাজ্য যেন প্রকৃতিরই কন্যা। তিব্বতের মানস সরোবর থেকে ব্রহ্মপুত্র উৎপত্তি লাভ করে আকাবাকা পাহাড় আর ঘূর্ণায়মান সমভূমির দেশ আসাম দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রকে অসমীয়া ভাষায় লোহিত বলা হয়ে থাকে যে কারণে আসামকে লাল নদের রাজ্যও বলা হয়। আবার পূর্বে হিমালয়ের কোলঘেষা হবার কারণে নীল পাহাড়ের দেশ নামেও এটি ভৌগলিকভাবে সুপরিচিত। ভারতবর্ষের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সেভেন সিস্টার্স এর প্রবেশদ্বার এই আসাম রাজ্য যে কোন পর্যটকের মন হরণ করে নিতে বাধ্য। প্রাচীন পৌরাণিক গাথা, প্রলোভিত সঙ্গীত এবং নৃত্য, বিশ্ব বিখ্যাত চা, বৈচিত্র্যময় রঙিন উপজাতি এবং বিরল প্রজাতি একশৃঙ্গ গণ্ডার এর দেখা পেতে আপনাকে আসতেই হবে আসাম রাজ্যে।  চলুন জেনে আসা যাক প্রকৃতির অসীম আশীর্বাদপুষ্ট এই রাজ্যের অতীত বর্তমান সম্পর্কে। পর্বতসংকুল অসমতল ভূমি হওয়ায় এই রাজ্য  ‘অসম’ নামবিশিষ্ট হয় যা পরবর্তীতে অপভ্রংশে রূপান্তরিত হয়ে ‘আসাম’ নাম গ্রহণ করে।  অন্য এক মতে, ‘অসম’ প্রতাপবিশিষ্ট আহম জাতি কর্তৃক একসময়ে অধিকৃত হওয়ায় এই প্রদেশটির নাম আসাম হয়েছে। আসামের অন্যতম নগর কামরূপের প্রাচীন নাম প্রাগ্‌জ্যোতিষপুর। এই অঞ্চল পৌরাণিক নরক নামক জনৈক রাজা দ্বারা শাসিত ছিল। তারই পুত্র ছিল ভগদত্ত, যার কথা মহাভারতে বর্ণিত হয়েছে।

ভগদত্তের পরবর্তী রাজগণের নাম যোগিনীতন্ত্রে বর্ণিত হয়েছে। তাদের সম্রাজ্যের কীর্তি আসামের গৌহাটি সহ বিভিন্ন স্থানে এখনও কিয়দংশে পরিলক্ষিত হয়। এছাড়াও খ্রীষ্টিয় প্রথম সহস্রাব্দে কামরূপ নামে এই অঞ্চলের পরিচিতি ছিল। এই অঞ্চলে ‘আহম’ সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে এই রাজ্য ‘আসাম’ নামে পরিচিত হয়। আহম সম্রাজ্যের ব্যাপ্তি ছিলো তেরশতক থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত। আসাম এবং এর আশপাশের এলাকগুলোতে প্রস্তর যুগ থেকেই মানুষের বসবাসের প্রমাণ পাওয়া যায়। সতেরোশো থেকে আঠারোশো শতকের মধ্যে লেখা কালিকাপুরাণ অনুসারে আসামের প্রাচীনতম শাসক ছিলেন মহীরঙ্গ। উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্যটি হিমালয়ের দক্ষিণে অবস্থিত। এর অভ্যন্তরে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ, বরাক উপত্যকা এবং উত্তর কাছাড় পর্বতমালা।

উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা এবং মেঘালয় রাজ্য দ্বারা আসাম বেষ্টিত এবং আসামসহ প্রতিটি রাজ্যই উত্তরবঙ্গের একটি সংকীর্ণ অংশ দ্বারা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া আসামের আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে। ১৮২৬ সালে ইয়াণ্ডাবু চুক্তির  মাধ্যমে আসাম প্রথম ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।  আসামের অধিবাসী বা আসামের ভাষাকে অসমীয়া নামে আখ্যায়িত করা হয়। তবে আসামের এক-তৃতীয়াংশ অধিবাসী বাঙালী। ব্রিটিশ শাসনামলে, বিশেষ করে ১৮৫০ থেকে ১৮৬০ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উড়িষ্যা থেকে প্রচুর চা শ্রমিককে এই আসামে নিয়ে আসে ব্রিটিশরা। তখন থেকেই এই অঞ্চলে বাঙ্গালিদের গোড়াপত্তন ঘটে। তবে এ রাজ্যের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে অসমীয়া ভাষাই প্রচলিত। এই প্রদেশ মূলত চা, রেশম, পেট্রোলিয়াম এবং জীববৈচিত্রের জন্য বিখ্যাত। আসাম সাফল্যের সঙ্গে একশৃঙ্গ গণ্ডার সংরক্ষণ করে তাদের অবলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছে। এশীয় হাতির অন্যতম বাসস্থান হল আসাম। এ রাজ্যটি বন্যপ্রাণী পর্যটনের ক্ষেত্রে ক্রমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হয়ে উঠছে।

Kaziranga-National-Park (1) কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের বিখ্যাত এক শৃঙ্গ ভারতীয় গন্ডার। ছবি : ইন্ডিয়া ডট কম


 ভূবনমোহিনী পর্যটনশিল্পের এক লীলাভূমি এই আসাম। প্রাকৃতিক হোক কিংবা ঐতিহাসিক, সব ধরণের পর্যটনের স্বাদ পাওয়া যাবে এই রাজ্যে। আসামের পর্যটন গন্তব্যের কথা বলতেই সবার প্রথমেই নাম আসে ‘কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান’ এর। কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক আসামের গোলাঘাট এবং নাগাওন জেলায় অবস্থিত। এই বন একশৃঙ্গী গণ্ডারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এছাড়া এই বন ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যের মধ্যে অন্যতম। আসামের অন্যতম প্রধান শহর গুয়াহাটি থেকে ২১৭ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। আসাম সরকার ও স্থানীয় বিভিন্ন বন্যপ্রাণী সংস্থা পরিচালিত ২০১৫ সালের মার্চ মাসের গণনা অনুযায়ী কাজিরাঙা বনে গণ্ডারের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৪০১টি। এছাড়া এ বনে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মিলে বাঘের সংখ্যা ২৫১টি। বিশ্বের অন্য সুরক্ষিত এলাকার মধ্যে এ বনেই বাঘের সর্বোচ্চ ঘনত্ব রয়েছে। এশীয় হাতীর অভয়ারণ্যের জন্য এ বন বিশেষভাবে পরিচিত। এছাড়া বনে প্রায় ৫০০ প্রজাতির পাখি দেখা যায়। এরমধ্যে বিশ্বের অনেক বিপন্ন বা মহাবিপন্ন পাখির দেখাও মিলতে পারে এই কাজীরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানে। কাজীরাঙ্গা ছাড়াও আসামে রয়েছে ইউনেস্কো কতৃক ১৯৮৫ সালে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত আরেকটি জাতীয় উদ্যান, নাম যার “মানস ন্যাশনাল পার্ক”।

গুয়াহাটি বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৩৭ কিলোমিটার দূরে ৫০০ বর্গ কিলোমিটারের এই পার্ক অবস্থিত। এই বনে প্রায় ৫০০ প্রজাতির পাখি, ৫৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৫০ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৩ প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে। গুয়াহাটি থেকে মাত্র ১৪০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ‘ওরাং রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল পার্ক’। আসামের তেজপুর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ‘নামেরি ন্যাশনাল পার্ক’ যা পাখিদের অভয়ারণ্য হিসেবে সুপরিচিত। ২১২ বর্গ মাইলের এ বনে ৩০০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। দিবরু-সাইখোয়া ন্যাশনাল পার্ক আসামের তিনসুখিয়া শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে। এর আয়তন ৪২৫ বর্গমাইল। নানা প্রজাতির উদ্ভিদ এ বনের অন্যতম আকর্ষণ।Kamrup kamakkha তন্ত্রসাধনার প্রসিদ্ধ স্থান কামরূপ কামাক্ষ্যার মন্দির। ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

এসব তো গেল শুধু জাতীয় উদ্যান গুলির কথা। আসাম রাজ্যের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘কামরূপ কামাক্ষ্যা’ মন্দিরের কথা তো বাকিই রয়েছে এখনও। মূলত তীর্থস্থান হলেও  কামাক্ষ্যা মন্দির” আসামের অন্যতম দর্শনীয় স্থান। হিন্দু দেবী কামাখ্যার এই মন্দির আসামের রাজধানী গুয়াহাটি শহরের পশ্চিমে নীলাচল পর্বতে অবস্থিত। হিন্দু পুরাণ অনুসারে ৫১ সতীপীঠের অন্যতম এই মন্দির, যার চত্বরে দশমহাবিদ্যার মন্দির আছে। এ মন্দিরগুলোতে ভুবনেশ্বরী, বগলামুখী, ছিন্নমস্তক, ত্রিপুরাসুন্দরী, তারা, কালী, ভৈরবী, ধূমাবতী, মাতঙ্গী ও কমলা- এ দশ দেবীর মন্দিরও আছে। এর মধ্যে ত্রিপুরাসুন্দরী, মাতঙ্গী ও কমলা প্রধান মন্দিরে পূজিত হন। অন্যান্য দেবীদের জন্য পৃথক মন্দির আছে। হিন্দুদের, বিশেষত তন্ত্রসাধকদের কাছে এ মন্দির একটি পবিত্র তীর্থ। মন্দিরে চারটি কক্ষ আছে : গর্ভগৃহ ও তিনটি মণ্ডপ। মণ্ডপ তিনটির স্থানীয় নাম চলন্ত, পঞ্চরত্ন ও নাটমন্দির। গর্ভগৃহটি পঞ্চরথ স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত। মণ্ডপগুলির স্থাপত্য তেজপুরের সূর্যমন্দিরের সমতুল্য যেগুলোতে খাজুরাহো বা অন্যান্য মধ্যভারতীয় মন্দিরের আদলে নির্মিত খোদাইচিত্র দেখা যায়। মন্দিরের চূড়াগুলো মৌচাকের মতো দেখতে। গর্ভগৃহটি আসলে ভূগর্ভস্থ একটি গুহা। এখানে কোনো মূর্তি নেই। শুধু একটি পাথরের সরু গর্ত দেখা যায়। ছোটো ও অন্ধকারাচ্ছন্ন গর্ভগৃহটিতে সরু খাড়াই সিঁড়ি পেরিয়ে পৌঁছাতে হয়। ভিতরে ঢালু পাথরের একটি খণ্ড আছে যেটি যোনির আকৃতিবিশিষ্ট। এটায় প্রায় দশ ইঞ্চি গভীর একটি গর্ত দেখা যায়। একটি ভূগর্ভস্থ প্রস্রবনের জল বেরিয়ে এ গর্তটি সব সময় ভর্তি রাখে। এ গর্তটিই দেবী কামাক্ষ্যা নামে পূজিত এবং দেবীর পীঠ হিসেবে প্রসিদ্ধ।

তন্ত্রসাধনার কেন্দ্র হওয়ায় বার্ষিক অম্বুবাচী মেলা অনুষ্ঠানে এখানে প্রচুর মানুষ আসেন। এছাড়া বার্ষিক মনসা পূজাও মহাসমারোহে আয়োজিত হয়। দুর্গাপূজাও কামাক্ষ্যা মন্দিরের একটি অন্যতম প্রধান উৎসব। আসাম রাজ্যে আরও দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে মাজুলি দ্বীপ, যেটি কিনা ব্রহ্মপুত্র নদের মধ্যস্থলে অবস্থিত বৃহত্তম নদী দ্বীপ। মাজুলি দ্বীপে ১৫ টি কিংবা তারও বেশি বৈষ্ণব মঠ কিংবা ক্ষেত্র রয়েছে। এই দ্বীপের বন্য প্রাণীর বিপুল বৈচিত্র্য আসামে বহু পর্যটকদের আকর্ষণ করে। আফ্রিকা ছাড়া, সম্ভবত বিশ্বের কোন অংশে এইরকম বন্যপ্রাণীর বৈচিত্র্য দেখা যায় না। ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে কামরূপ জেলার গুয়াহাটি শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে রয়েছে “হাজো” নামক প্রাচীন এক তীর্থস্থান, যেটি হিন্দু, বৌদ্ধ এবং মুসলিম এই তিন ধর্মের অনুসারীদের জন্যেই পবিত্র স্থান হিসেবে পরিগণিত হত। এখানে প্রাচীন আমলে নির্মিত মন্দির আছে, আবার মসজিদও আছে। এখানকার মসজিদ মুঘল সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে ১৬৫৭ খ্রিস্টাব্দে সুজাউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ দ্বারা নির্মিত হয়। প্রভু বুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ বহনকারী হায়াগ্রিব মাধব মন্দিরের অবস্থান এই স্থানেই। তেজপুরে রয়েছে অগ্নিগড় নামক এক মনোহর প্রাকৃতিক উদ্যান, যেখান থেকে ব্রহ্মপুত্র এবং তেজপুরের অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকন করা যায়। asam bridge ব্রহ্মপুত্র নদের উপরের ব্রিজ। ছবি : জি নিউজ

গুয়াহাটি শহর এবং এর আশে পাশেই নানা দর্শনীয় স্থান রয়েছে। গুয়াহাটি আসামের অন্যতম একটি শিল্পশহর এবং নদীবন্দর। খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকের শুরুর দিকে এটি ছিল কামরূপ রাজ্যের রাজধানী। হিন্দুদের তীর্থস্থান হিসেবে এখানে প্রাচীন অনেক মন্দির আছে। এর মধ্যে কামাখ্যা ও ঊমানন্দা মন্দির দুটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া শহরের কেন্দ্রস্থলে ১০ম শতকে নির্মিত জনার্দন মন্দির দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। এছাড়াও আরও বলা যায় আসাম স্টেট মিউজিয়াম এর কথা। গুয়াহাটি শহরের পানবাজারের কাছেই এই জাদুঘর অবস্থিত। আসাম রিসার্স সোসাইটি ১৯৪০ সালে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৫৩ সালে জাদুঘরটি আসাম রাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণে নেন। এটি ভারতের অন্যতম বৃহৎ সংগ্রহশালা। এখানে প্রচীন কালের পাথরের মূর্তি, কাঠ, ধাতু এবং টেরাকোটার নানা নিদর্শন, লিপি, কারুশিল্প, লোকশিল্প, নানা ধরনের অস্ত্রসহ আসামের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ও শিল্প-সংস্কৃতির নানা নিদর্শন রয়েছে। জাদুঘরে ১৯৮৫ সালে একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা হয়। লাইব্রেরিতে প্রাচীন অনেক শর্টহ্যান্ডের নমুনা সংগ্রহ আছে। জাদুঘরটি খোলা থাকে  গ্রীষ্মকালে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ৪টা এবং শীতকাল অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে পৌনে ৪টা পর্যন্ত। সোমবার বন্ধ থাকে।

ঐতিহ্যগতভাবে হস্তশিল্প দ্বারা সমৃদ্ধ এই রাজ্য ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ থাকে কেনাকাটা। আসামে কেনাকাটা বা শপিং মানেই এক আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। এখানে প্রচুর পরিমাণে হস্তনির্মিত বস্তু পাওয়া যায়। আসাম ঐতিহ্যগত হস্তচালিত তাঁত উৎপাদনে শ্রেষ্ঠতম। অনন্য মানের রেশম উৎপাদনের জন্যেও এ রাজ্যের জুড়ি মেলা ভার। এখানে আসলে যা যা কিনতে পারেন তার মধ্যে মৃত্তিকা,কর্ক, কাঠ,বাঁশ,কাপড় এবং মাটির মিশ্রণ দ্বারা তৈরি হস্তনির্মিত খেলনা, বিভিন্ন ধরনের রেশম বস্ত্র – মুগা (অনন্য সুবর্ণ সিল্ক যা শুধু এই রাজ্যে উপলব্ধ), পাটজাত দ্রব্য, তাঁতজাত পণ্য যেমন লাইচেম্পি (লেপের উপাদান), বেত ও বাঁশের অনন্য কারুকার্য করা অলঙ্কার, কাঁসা এবং পিতলের আলঙ্করিক উপাদান, বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র, আদিবাসী শিল্পকলার অন্তর্ভুক্ত মুখোশ ভাওনাস এবং আসামের চা উল্লেখযোগ্য।

asam silk saree  আসামের বিখ্যাত সিল্কের শাড়ী। ছবি : আদি মহিনী মোহান কাইন্জীলাল

 হিমালয়ের কন্যা, পাহাড়ে ঘেরা এই রাজ্য আপনাকে পদে পদে মুগ্ধ করবে। উত্তুঙ্গ নীল পাহাড় এবং শ্যামলিমা সমৃদ্ধ রহস্যময় রাজ্য এবং উৎকলিত  নদী উপত্যকা সহ ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের প্রবেশদ্বার এই আসাম পর্যটকদের জন্য এক জনপ্রিয় গন্তব্য। মানস সরোবর থেকে প্রবাহিত হওয়া ব্রহ্মপুত্র আসামের মধ্য দিয়ে আঁকাবাঁকা পথ ধরে বয়ে চলে রাজ্যের সৌন্দর্যকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। একবার আসলেই হিমালয়ের এই কন্যা বার বার আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকবে এর ভূবনমোহিনী রূপের সাক্ষী হতে।

কিভাবে যাবেন : আসামে প্রধান বিমানবন্দর হল, আসামের বৃহত্তম শহর গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদোলোই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দর দৈনন্দিন উড়ান দ্বারা ভারতের প্রধান শহরগুলির সাথে সংযুক্ত। আসামের অন্যান্য বিমানবন্দরগুলি জোড়হাট, ডিব্রুগড়, তেজপুর এবং শিলচরে অবস্থিত। এই বিমানবন্দরগুলিতেও নিয়মিতভাবে আসা-যাওয়ার উড়ান চলাচল করে। ভারতীয় রেলওয়ের উত্তর পূর্ব রেল জোন দ্বারা আসামের বৃহত্তম শহর গুয়াহাটি দেশের অন্যান্য অংশের সাথে সংযুক্ত। গুয়াহাটি উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের রেলের সদর দপ্তর। ভ্রমণকারীরা রেল পথের মাধ্যমে আসামে সুবিধাজনকভাবে পৌঁছতে পারে কারণ এটি ভারতের সব প্রধান শহরগুলির সাথে রেলপথ দ্বারা সু-সংযুক্ত। এই রাজ্যের মধ্যে কিছু শহর গুয়াহাটি থেকে ট্রেন পরিষেবা দ্বারা সুসংযুক্ত। উত্তরপূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হওয়ায় আসাম জাতীয় মহাসড়কের একটি সু-জালবিন্যাস দ্বারা বিভিন্ন শহর এবং অন্যান্য রাস্তা দ্বারা রাজ্যের কাছাকাছি শহরগুলির সাথে সংযুক্ত। ৩৭-নং, ৩১-নং, ৪০-নং, ৩৮-নং ও ৫২-নং জাতীয় সড়ক আসাম ও ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। রাজ্য পরিবহন ও অন্যান্য ব্যক্তিগত পরিচালকরা যাত্রীদের জন্য দৈনিক বাস পরিষেবা প্রদান করে। এছাড়াও এই রাজ্যের মধ্যে যাতায়াত করার জন্য ট্যাক্সি ও জীপ ভাড়া করা যায়।



 তথ্যসূত্র :   mailto:https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AE mailto:https://roar.media/bangla/main/travel/9-days-in-india-assam-part mailto:https://bn.wikivoyage.org/wiki/%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AE